যুদ্ধের অভিঘাতে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় জ্বালানি ও কৃষি উপকরণের দাম বেড়েছে। সেই ধাক্কা সামলাতে ইতিমধ্যেই বহু সরকার আর্থিক সংস্থান ব্যবহার করেছে। ফলে এল নিনোর মতো আরেকটি বড় জলবায়ু ধাক্কা সামলানোর ক্ষমতাও অনেক দেশের ক্ষেত্রে সীমিত হতে পারে।
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
বর্ষা আসার কথা ছিল। মাঠে জল জমবে, নদী-খাল ভরবে, শুকিয়ে যাওয়া জলাধার আবার প্রাণ ফিরে পাবে—এই আশাতেই অপেক্ষা করছিলেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বহু কৃষক। কিন্তু আকাশের দিকে তাকিয়ে দিন কাটছে তাঁদের। বৃষ্টি কমছে, তাপ বাড়ছে, আর ফসল বাঁচাতে জমিতে জল তুলে দিতে হচ্ছে নিজের খরচে।
দূরে কোথাও শুকিয়ে যাচ্ছে জলাধার। কোথাও আগুনে পুড়ছে বন ও চাষের জমি। আবার কোথাও নদীর জল কমে যাওয়ায় মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
এর পেছনে বড় একটি কারণ হয়ে উঠেছে এল নিনো—প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের অস্বাভাবিক উষ্ণতার সঙ্গে যুক্ত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা, যা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের আবহাওয়ার ছন্দ বদলে দিতে পারে।
এবারের এল নিনো কতটা শক্তিশালী হবে, তা নিয়ে আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। তার প্রভাব শুধু বৃষ্টি বা তাপমাত্রায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। কৃষি উৎপাদন কমলে তার ঢেউ পৌঁছতে পারে বাজারে, খাদ্যের দামে এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের রান্নাঘরেও।
শুধু খরা নয়, একসঙ্গে বহু বিপদ
এল নিনোর সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরের জল স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উষ্ণ হয়ে ওঠে। কয়েক বছর অন্তর এই প্রাকৃতিক চক্র ফিরে আসে এবং তার প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও ঝড়ের ধরনে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
এবার পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, কারণ পৃথিবীর সামগ্রিক উষ্ণায়নের মধ্যেই এল নিনো সক্রিয় হয়েছে।
জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিভাগের প্রধান কারেফ রাফিসুরার মতে, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে সমুদ্রের তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক উচ্চতায় পৌঁছেছে।
ব্রিটেনের জাতীয় আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিষেবার বিশ্লেষণে এবারের এল নিনোকে জীবদ্দশায় দেখা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনাগুলির একটি হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও জানিয়েছে, ১৯৫০ সালে নথিভুক্ত তথ্যের পর থেকে এটি সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হয়ে ওঠার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এল নিনোর প্রভাব সব দেশে এক রকম হবে না। কোথাও খরা বাড়বে, কোথাও আবার অতিবৃষ্টি বা বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ—খাদ্য নিরাপত্তা।
এশিয়াই কেন এতটা ঝুঁকিতে
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বহু মানুষের জীবন সরাসরি নির্ভর করে কৃষি, মাছ ধরা ও জলসম্পদের ওপর। বর্ষা দেরি করলে বা বৃষ্টি কম হলে শুধু ফসলই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, পানীয় জল, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং মানুষের জীবিকাতেও চাপ পড়ে।
এবার সেই চাপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি ও সারের বাড়তি খরচ।
যুদ্ধের অভিঘাতে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় জ্বালানি ও কৃষি উপকরণের দাম বেড়েছে। সেই ধাক্কা সামলাতে ইতিমধ্যেই বহু সরকার আর্থিক সংস্থান ব্যবহার করেছে। ফলে এল নিনোর মতো আরেকটি বড় জলবায়ু ধাক্কা সামলানোর ক্ষমতাও অনেক দেশের ক্ষেত্রে সীমিত হতে পারে।
অর্থাৎ, এটি একা কোনও সংকট নয়। বরং একের পর এক চাপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
জাকার্তার জলাধারে ফিরে এসেছে হারানো গ্রাম
ইন্দোনেশিয়ায় তার কিছু ছবি ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে।
রাজধানী জাকার্তাকে জল সরবরাহকারী একটি বড় জলাধারের জলস্তর কমতে কমতে এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, একসময় জলের নিচে চলে যাওয়া একটি গ্রামের ধ্বংসাবশেষ আবার জেগে উঠেছে।
জলাধার তৈরির সময় যে ১১টি গ্রাম ডুবে গিয়েছিল, তার একটি অংশ এখন জলের নীচ থেকে উঠে এসেছে।
জল কমার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে উদ্বেগ—জাকার্তার মতো বিশাল শহরের জন্য বিকল্প জল কোথা থেকে আসবে?
জলাধারের ওপর নৌকা চালিয়ে মানুষ পারাপার করান হুসেন। নিজের নামের একটিই অংশ ব্যবহার করেন তিনি। তাঁর কথায়, আগের জায়গা ছেড়ে চলে আসতে তিনি চাননি। সেখানে কাজের সুযোগ ছিল, জীবিকা ছিল।
কিন্তু প্রকৃতির পরিবর্তনের সামনে মানুষের সেই পুরনো জীবনও এখন অনিশ্চিত।
ইন্দোনেশিয়ার গবেষণা কেন্দ্রের জলবায়ু ও বায়ুমণ্ডল বিশেষজ্ঞ এরমা ইউলিহাস্তিনের মতে, এটি কেবল শুরু। এল নিনোর আরও শক্তিশালী পর্যায় সামনে আসতে পারে।
আগুনের পর ধোঁয়া, ধোঁয়ার পর জলসংকট
ইন্দোনেশিয়ার বন ও পিটল্যান্ডে আগুনও পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। বিস্তীর্ণ এলাকায় আগুন জ্বললে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে বিষাক্ত ধোঁয়া। ক্ষতিগ্রস্ত হয় পরিবেশ, স্বাস্থ্য এবং কৃষি।
অন্যদিকে বৃষ্টির ঘাটতিতে শহর ও গ্রাম—দুই জায়গাতেই জল সরবরাহের ওপর চাপ বাড়ছে।
এল নিনোর প্রভাব তাই শুধু আবহাওয়ার খবর নয়। একটি জলাধার শুকিয়ে গেলে তার প্রভাব পড়ে শহরের কলের জলে। নদীর জল কমলে সমস্যায় পড়েন কৃষক ও জেলেরা। বৃষ্টি না হলে মাঠে সার দেওয়া কঠিন হয়ে যায়।
একটি জলবায়ু ঘটনা ধীরে ধীরে জীবনের বহু স্তরে ছড়িয়ে পড়ে।
মেকংয়ের জল কমলে বিপদ বাড়ে ছয় দেশে
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মেকং নদী অববাহিকাতেও একই আশঙ্কা।
চীন থেকে শুরু হয়ে ছয়টি দেশের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদী কোটি মানুষের কৃষি ও মৎস্যজীবনের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু নদীর ওপর খননকাজ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়েছে।
তার মধ্যে যদি এল নিনোর কারণে জলপ্রবাহ আরও কমে যায়, তাহলে চাপ বাড়বে কয়েক গুণ।
নেভাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জেব হোগান, যিনি ‘Wonders of the Mekong’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত, পরিস্থিতিকে একের পর এক আঘাতের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
নদী যদি স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে না পারে, তাহলে একসময় সেটি আগের মতো মানুষের জীবন ও জীবিকাকে ধরে রাখতে পারবে কি না, সেই প্রশ্নই সামনে আসবে।
মেকং নদী কমিশনের কর্মকর্তা কংমেং লির মতে, নদীর জলস্তর কমে গেলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন সেইসব মানুষ, যাঁদের মাছ ধরা ও চাষাবাদ নির্ভর করে নদীর পূর্বানুমানযোগ্য জলস্তরের ওপর।
ধানের মাঠে কৃষকের নতুন দুশ্চিন্তা
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৃষিতে বর্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বর্ষার জলাধার ভরায়, শহরকে কিছুটা ঠান্ডা রাখে এবং পরবর্তী চাষের জন্য জমিতে জল পৌঁছে দেয়।
বৃষ্টি কমলে কৃষকের সামনে একাধিক কঠিন সিদ্ধান্ত আসে—বীজ বোনা পিছিয়ে দেওয়া, জমির পরিমাণ কমানো কিংবা অন্য ফসলে চলে যাওয়া।
ব্যাংককের উত্তরে ধান চাষ করেন ৫৫ বছরের বুনমার্ক মার্কসুক। তাঁর সমস্যা শুধু বৃষ্টি নয়।
যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সারের দাম বেড়েছে। তার ওপর বৃষ্টির ওপর আর ভরসা করতে না পেরে জমিতে জল তুলে দিতে হচ্ছে তাঁকে। অর্থাৎ উৎপাদন ঠিক রাখতে বাড়ছে খরচও।
এভাবেই জলবায়ুর একটি পরিবর্তন কৃষকের ঘরের হিসাবটাকেও বদলে দেয়।
ধানের দাম বাড়লে প্রভাব পড়বে বহু দেশে
এখানেই এল নিনোর প্রভাব দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে যায়।
ভারত, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড—বিশ্বের তিনটি বড় চাল রফতানিকারক দেশ। এল নিনোর কারণে এই দেশগুলির উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে।
চাল শুধু এশিয়ার মানুষের প্রধান খাদ্য নয়। বিশ্বের বহু দেশের খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গেই এই শস্যের সরবরাহ জড়িত।
ফলে কোনও একটি অঞ্চলে খরা মানেই শুধু সেই অঞ্চলের কৃষকের ক্ষতি নয়। উৎপাদন কমলে রফতানি কমতে পারে, সরবরাহে চাপ পড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়তে পারে।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আশঙ্কা, এল নিনোর প্রভাবে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বে আরও অন্তত ৪ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়তে পারেন।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে হলেও পূর্ব আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শুধু চাল নয়, পাম তেলও চিন্তার কারণ
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হল পাম তেল।
ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া মিলে বিশ্বের প্রায় ৮৫ শতাংশ পাম তেল সরবরাহ করে। বিস্কুট, প্রসাধনী, টুথপেস্ট থেকে শুরু করে নানা দৈনন্দিন পণ্যে এই তেলের ব্যবহার রয়েছে।
মালয়েশিয়ায় এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব সামলাতে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা মন্ত্রককে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার পাম তেল চাষিদের সমস্যাটা আবার অন্যরকম।
সার মাটিতে মিশে যেতে পর্যাপ্ত বৃষ্টির প্রয়োজন হয়। বৃষ্টি না হলে সার প্রয়োগ বন্ধ রাখতে হয়, কারণ অতিরিক্ত ঘন সার গাছের ক্ষতি করতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এডি মার্তোনোর মতে, বৃষ্টি না হলে কৃষকদের সার দেওয়া বন্ধ করতেই হবে। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়বে উৎপাদনে।
মাছের থালাতেও এল নিনোর ছায়া
খাদ্য নিরাপত্তার কথা বলতে গেলে শুধু কৃষির দিকে তাকালেই হবে না।
কম বৃষ্টি, বেশি তাপমাত্রা এবং নদীর জলপ্রবাহের পরিবর্তন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মৎস্যসম্পদের ওপরও চাপ তৈরি করছে। এই অঞ্চলের কোটি মানুষের খাদ্যতালিকায় মাছ গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের উৎস।
বিশেষ করে মেকং অববাহিকার মতো অঞ্চলে নদীর জল কমে গেলে শুধু মাছের সংখ্যা বা প্রাপ্যতা নয়, বদলে যেতে পারে মানুষের জীবিকার ধরনও।
একজন কৃষক হয়তো কম জমিতে চাষ করবেন। একজন জেলে হয়তো আগের মতো মাছ পাবেন না। একটি শহর হয়তো নতুন জলাধারের খোঁজ করবে।
এই ছোট ছোট পরিবর্তনই একসময় বড় খাদ্য সংকটে পরিণত হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা মানুষের খাবারের
চরম এল নিনোর অর্থনৈতিক ক্ষতির সঠিক হিসাব আগে থেকে করা কঠিন। অতীতের কয়েকটি বড় এল নিনো বিশ্বের অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি করেছে বলে HSBC Global Investment Research-এর বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকদের অনুমান, এবারের এল নিনো বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ১৫ শতাংশেরও বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে সংখ্যার বাইরে আরও বড় প্রশ্ন রয়েছে।
খাবারের দাম বাড়লে প্রথম ধাক্কা যায় নিম্নআয়ের পরিবারগুলির ওপর। যে পরিবার মাসের শেষে কোনওমতে হিসাব মেলাতে পারে, তাদের কাছে চাল, তেল বা সবজির সামান্য মূল্যবৃদ্ধিও বড় ব্যাপার হয়ে উঠতে পারে।
জাতিসংঘের রাফিসুরার কথায়, কৃষির কী হয়, তার ওপর অনেক মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে বা সামান্য ওপরে থাকার বিষয়টি নির্ভর করে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্ষেত্রেও সেই প্রশ্নটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশগুলি যদি কৃষি উৎপাদন যতটা সম্ভব ধরে রাখতে পারে, তাহলে তার সুফল শুধু স্থানীয় মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আর উৎপাদন বড় ধাক্কা খেলে তার অভিঘাত পৌঁছতে পারে বিশ্বের বহু দেশের বাজারে।
এল নিনো তাই শুধু প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ জল নয়।
তার তাপ পৌঁছতে পারে শুকিয়ে যাওয়া নদীর তীরে, কৃষকের পাম্পে, জেলের খালি জালে, শহরের জলাধারে—শেষ পর্যন্ত হয়তো আমাদের খাবারের প্লেটেও।


