পুরনো চুক্তি শুধু বাড়ানো নয়, শুষ্ক মরশুমে বাড়তি জল পাওয়ার নিশ্চয়তা চাইছে বাংলাদেশ; হাসিনার ভারত-স্থিতি নিয়েও রয়েছে আপত্তি
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
নয়াদিল্লি: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের সম্ভাব্য নভেম্বরের ভারত সফরের আগে গঙ্গার জলবণ্টন নিয়ে নতুন চুক্তির দাবি তুলেছে ঢাকা। ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পুরনো চুক্তি সরাসরি বাড়ানোর বদলে নতুন কাঠামো চায়।
বাংলাদেশের বক্তব্য, নিম্ন অববাহিকার দেশ হিসেবে গঙ্গার জলে তাদের প্রাপ্য আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শুষ্ক মরশুমে নির্দিষ্ট পরিমাণ জল পাওয়ার নিশ্চয়তা চায় ঢাকা। বাংলাদেশের মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানিয়েছেন, নতুন চুক্তিতে গঙ্গার জলে বাংলাদেশের অংশ বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় রাখা হবে।
৩০ বছরের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ ১২ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। ঢাকার দাবি, নতুন চুক্তিতে বর্তমান জলপ্রবাহের প্রয়োজনীয়তা এবং নিম্ন অববাহিকার দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্বার্থকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।
তবে বিষয়টি শুধু ঢাকা-দিল্লির আলোচনায় সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের পক্ষ থেকেও সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির সঙ্গে জলসম্পদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের জলপ্রয়োজনও সেই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জলবণ্টনের পাশাপাশি বাংলাদেশে থাকা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়েও ঢাকার আপত্তি রয়েছে। ভারতের মাটিতে হাসিনা ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যকলাপ এবং প্রকাশ্য বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশ একাধিকবার অসন্তোষ জানিয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্কের এই বিষয়গুলিই আগামী দিনে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় জায়গা পেতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রের খবর। ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। সম্ভাব্য সফরের প্রস্তুতি নিয়ে দিল্লি ও ঢাকা পরবর্তী পর্যায়েও যোগাযোগ রাখছে।
বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে বিদেশসচিব আসাদ আলম সিয়ামের নামও সামনে এসেছে। কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, তিনি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভারতে আসতে পারেন।
তারিক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে তাই জলবণ্টন এবং হাসিনাকে ঘিরে দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলিই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।


