কেআরসি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই পদযাত্রা কেবল ভ্রমণ নয়, এক বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলন: ডঃ সুকমল দেব
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
তেজপুর। ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর মধ্যে আত্মিক যোগসূত্র স্থাপনের এক অনন্য লক্ষ্য নিয়ে তেজপুরে আয়োজিত হলো ‘নর্থ ইস্টার্ন ইন্টিগ্রেশন র্যালি’ (NEIR) ২০২৬। কেআরসি ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই র্যালিটি কেবল একটি সাময়িক অনুষ্ঠান নয়, বরং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শান্তি রক্ষা, সংযোগ স্থাপন এবং এক অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে একটি নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
তেজপুরের এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এনইআইআর ২০২৬-এর উপদেষ্টা অধ্যাপক ডঃ সুকমল দেব র্যালির মূল দর্শনটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “যদি মনের গভীর থেকে যুক্ত থাকার আন্তরিক ইচ্ছা থাকে, তবে এই পৃথিবী মোটেও বড় নয়।” ডঃ দেবের মতে, এই ইচ্ছাশক্তিই এই র্যালিকে এক বিপ্লবী রূপ দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই আয়োজন কেবল প্রতীকী ভ্রমণ নয়, বরং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অস্থিরতা কাটিয়ে শান্তি ও স্থিতি বজায় রাখার এক আন্তরিক প্রয়াস।

বক্তব্যে ডঃ দেব স্বীকার করেন যে, উত্তর-পূর্বাঞ্চল আজ দ্রুত পরিবর্তনের পথে। পরিকাঠামোর উন্নয়ন হচ্ছে এবং নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, শান্তি ছাড়া এই উন্নয়ন অসম্পূর্ণ ও ভঙ্গুর। তাঁর কথায়, “শান্তি কোনও বিমূর্ত ধারণা নয়; এটি সেই ভিত যার ওপর প্রগতি ও সমৃদ্ধি গড়ে ওঠে।” এছাড়াও তিনি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই র্যালির ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাঁরা যেন কেবল মুনাফার পেছনে না ছুটে সমাজ ও পরিবেশের প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতার পরিচয় দেন। র্যালিকে সুসংগঠিত রূপ দেওয়ার জন্য তিনি কেআরসি ফাউন্ডেশনের প্রধান বিশ্বদীপ গুপ্তের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
র্যালির আয়োজক কমিটির সদস্য তথা বিশিষ্ট আইনজীবী খ. গজেন্দ্র সিং এই উদ্যোগকে মানবিক সম্পর্কের এক মহান মেলবন্ধন হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এনইআইআর-এর মূল নির্যাস হলো মানুষের কাছে পৌঁছানো, তাঁদের কথা শোনা এবং দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলা। তাঁর মতে, এটি একটি বৃহত্তর বৈপ্লবিক চিন্তার সূচনা মাত্র, যা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষকে বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী হিসেবে নয়, বরং একটি বৃহৎ পরিবার হিসেবে ঐক্যবদ্ধ করবে।

কেআরসি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বিশ্বদীপ গুপ্ত এই সংহতির সুরকে আরও জোরালো করে সর্বস্তরের মানুষকে এই যাত্রায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই র্যালি কেবল আয়োজকদের নয়; সাধারণ নাগরিক যারা ঐক্য, সংলাপ এবং অভিন্ন লক্ষ্যে বিশ্বাস করেন, তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এই আন্দোলনের মূল শক্তি।
অন্যদিকে, করপোরেট দৃষ্টিকোণ থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন বিশ্বজিৎ শইকিয়া। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে, প্রতিভা বা সম্পদের অভাব না থাকলেও এই অঞ্চলটি দেশের অন্যান্য প্রান্তের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। তাঁর মতে, এনইআইআর-এর মতো উদ্যোগগুলো সামাজিক লক্ষ্যের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সমন্বয় ঘটিয়ে এই অঞ্চলকে উন্নয়নের মূল স্রোতে নিয়ে আসতে অনুঘটকের কাজ করতে পারে।
তেজপুরের এই অনুষ্ঠান থেকে একটি বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—এই র্যালি কেবল কোনো তৈরি করা সমাধান দেওয়ার প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি শান্তি, স্থিতি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক পরিচিতি নিয়ে আলোচনার একটি বৃহত্তর ক্ষেত্র তৈরি করছে। এনইআইআর ২০২৬ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্ত ছুঁয়ে এগিয়ে চলার পথে মানুষকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, উন্নয়ন কেবল রাস্তা বা ইমারতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং পারস্পরিক বিশ্বাস, সংলাপ এবং একসঙ্গে এগিয়ে চলার মধ্যেই প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।
Promotional | North East Integration Rally



