বিশ্বদীপ গুপ্ত কেআরসি ফাউন্ডেশন ও তাদের বহুমুখী কর্মতৎপরতা সম্পর্কে আলোকপাত করেন
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
জখমা, নাগাল্যান্ড : নাগাল্যান্ডের পাহাড়ি জনপদ জখমার সেন্ট জোসেফ কলেজে (স্বশাসিত) সম্প্রতি ‘এনইআইআর’ (NEIR)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠান ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে গভীর জীবনবোধ ও স্বাবলম্বনের প্রেরণা জোগাল। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে কেবল ডিগ্রি অর্জন যে যথেষ্ট নয়, বরং শৃঙ্খলা ও কারিগরি দক্ষতাই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে—সে বিষয়েই এক বলিষ্ঠ দিকনির্দেশনা উঠে এল এই আলোচনা সভায়।
অনুষ্ঠানের সূচনালগ্নে রজত তাঁর বক্তব্যে ‘কেআরসি টাইমস-এর ম্যানেজিং ট্রাস্টি তথা সিইও বিশ্বদীপ গুপ্তের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বিশ্বদীপ গুপ্ত কেবল একজন দূরদর্শী ব্যক্তিত্বই নন, তিনি জ্ঞান, শৃঙ্খলা ও কঠোর পরিশ্রমের এক জীবন্ত উদাহরণ। তাঁর জীবনদর্শন তরুণ প্রজন্মের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে উঠতে পারে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশ্বদীপ গুপ্ত অত্যন্ত সহজ ও সাবলীলভাবে নিজের জীবনসংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমার বেড়ে ওঠা ডিমাপুরে, পড়াশোনাও ডিমাপুর কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে। জীবনভর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকেই আমি শিখেছি—যা কোনো পাঠ্যবই শেখাতে পারে না।” তাঁর মতে, দেশ-বিদেশ ভ্রমণ মানুষের চিন্তার দিগন্তকে প্রসারিত করে এবং বিচিত্র সব মানুষের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ করে দেয়, যা কর্মজীবনে অত্যন্ত জরুরি।

বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল শৃঙ্খলার গুরুত্ব। তিনি মনে করেন, শৃঙ্খলা কোনো শৌখিন বিষয় নয়, বরং এটি জীবনের এক অপরিহার্য প্রয়োজন। সময়ের মূল্য দিতে না জানলে সাফল্য অধরা থেকে যায়। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “সময় একবার অতিবাহিত হয়ে গেলে তা আর কোনোদিন ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।”
তাই অল্প বয়স থেকেই সময়ানুবর্তিতার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি ভুল স্বীকারের মানসিকতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ভুল করাই শেষ কথা নয়, নিজের ভুল মেনে নিয়ে তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করাই হলো উন্নতির প্রথম সোপান। ভুল লুকিয়ে রাখলে তা আত্মবিকাশের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
বিশ্বদীপ গুপ্ত কেআরসি ফাউন্ডেশন ও তাদের বহুমুখী কর্মতৎপরতা সম্পর্কে আলোকপাত করেন। মিডিয়া, কমিউনিকেশন এবং দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কীভাবে যুবসমাজ উপকৃত হতে পারে, তার ব্যাখ্যা দেন তিনি। তিনি জানান, কেআরসি টাইমস একটি দৈনিক ই-পেপার প্রকাশ করে এবং অনুষ্ঠানের সকল অংশগ্রহণকারীকে এক বছরের জন্য এই পত্রিকার ফ্রি সাবস্ক্রিপশন প্রদান করা হবে।
প্রতিদিন সংবাদপত্র পাঠের অভ্যাস যে মানুষের সাধারণ জ্ঞান ও ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করে, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “সংবাদপত্র পাঠ করা কেবল তথ্য জানা নয়, এটি সচেতন হওয়ার অন্যতম মাধ্যম।”বর্তমানে স্মার্টফোনের মাধ্যমেই যেকোনো সময় সব খবর মানুষের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে।

জীবনের ভারসাম্য নিয়ে তিনি এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও পেশাগত জীবনের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করতে না পারলে জীবন বিষাদময় হয়ে ওঠে। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আজকের যুগে শিক্ষা কেবল একটি প্ল্যাটফর্ম, কিন্তু কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে আপনার বিশেষ দক্ষতা বা স্কিল।” তাঁর মতে, শিক্ষিত বেকারত্বের চেয়ে বড় অভিশাপ আর কিছু নেই।
কেআরসি ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যেই এই অঞ্চলে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি নিজের উদাহরণ দিয়ে বলেন, পেশাদার ওয়েবসাইট নির্মাতা না হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজেই ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন যে, শেখার ইচ্ছা থাকলে মানুষ অসাধ্য সাধন করতে পারে।
উদ্যোক্তা (Entrepreneurship) ও ইন্ট্রাপ্রেনারশিপের (Intrapreneurship) পার্থক্য বুঝিয়ে তিনি বলেন, পেশাদারদের মধ্যেও উদ্যোক্তা সুলভ মানসিকতা থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে জনশক্তির অভাব নেই, অভাব রয়েছে সঠিক উদ্যোক্তার। একজন দক্ষ, সৎ ও উদ্যোগী পেশাদারকে সব সময় উদ্যোক্তারা সম্মান করেন। বেকারত্বকে তিনি ‘অভিশাপ’ হিসেবে অভিহিত করে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি লাভের পর পরনির্ভরশীল না হওয়ার পরামর্শ দেন। “এমনকি মোবাইল রিচার্জের জন্য বাবার মুখাপেক্ষী থাকাটাও সুস্থ লক্ষণ নয়”—তাঁর এই কঠোর অথচ বাস্তবসম্মত বার্তা ছাত্রদের মনে গভীর দাগ কাটে।
অনুষ্ঠানের শেষে ছাত্রদের করতালিতে মুখরিত হলেও এক গভীর অন্তর্মুখী চিন্তা সকলের মধ্যে লক্ষ্য করা যায়। সেন্ট জোসেফ কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য এই আলোচনা সভা কেবল একটি রুটিনমাফিক অনুষ্ঠান ছিল না, বরং তা ছিল এক ‘ওয়েক-আপ কল’ বা জেগে ওঠার ডাক। স্বাবলম্বন, সময়ানুবর্তিতা ও স্বকীয় দক্ষতাকে সম্বল করে আগামীর পথে এগিয়ে যাওয়াই হোক এই প্রজন্মের মূল মন্ত্র।
Promotional | North East Integration Rally



