শান্তি ও প্রগতির সংহতি যাত্রা: ডিমাপুরে ‘এনইআইআর ফেস্ট ২০২৬’-এ মিলনের সুর

2 - মিনিট |

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যুবশক্তির বিকাশ ও ড্রাগস মুক্ত সমাজের ডাক কেআরসি ফাউন্ডেশনের

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

ডিমাপুর। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শান্তি, সংহতি এবং প্রগতির এক নতুন বার্তা নিয়ে ডিমাপুরে অনুষ্ঠিত হলো ‘এনইআইআর ফেস্ট ২০২৬’-এর বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গত ১৬ জানুয়ারি নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে উত্তর-পূর্ব ক্ষেত্রীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (এনইজেসিসি) স্টোন স্কাল্পচার গার্ডেন প্রাঙ্গণে এই বর্ণাঢ্য মিলনমেলা বসে। বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ঐক্যবদ্ধ ভবিষ্যতের এক শক্তিশালী মঞ্চে পরিণত হয়। উপস্থিত সকলের কণ্ঠে আজ একটাই সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছে— ‘আগে শান্তি, তারপর প্রগতি’।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেআরসি ফাউন্ডেশনের ম্যানেজিং ট্রাস্টি তথা সিইও বিশ্বদীপ গুপ্ত। এনইজেসিসি প্রাঙ্গণকে নিজের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন।

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত তাঁর ছাত্রজীবন এই চত্বরেই কেটেছে এবং তাঁর মাতৃদেবীও একসময় এই কেন্দ্রের মাধ্যমে বহু সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পরিচালনা করেছেন। বিশ্বদীপ গুপ্ত তাঁর বক্তব্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সকল জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে সংহতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বিবাদ ও বিশৃঙ্খলার সময় ফুরিয়ে এসেছে। এখন উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সময়।”

সমাজের প্রবীণ ও নীতি-নির্ধারকদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত না হয়ে যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করুন। আমাদের তরুণ প্রজন্ম যেন কাজের জন্য কারও দ্বারে ভিক্ষা না করে, বরং তারা যেন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠে।

কারণ কর্মসংস্থানই পরিচয় দেয় এবং কাজই আনে আত্মমর্যাদা।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই আন্দোলন কোনো বিশেষ শ্রেণির নয়, বরং এটি একটি ‘গণ-আন্দোলন’। এদিন তিনি হ্যাম রেডিওর ছয় সদস্যের দলকেও তাঁদের নিঃস্বার্থ সেবার জন্য বিশেষভাবে প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এ.কে. আদিত্য আয়োজকদের এই মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বৈচিত্র্যময় রাজ্যগুলোকে এক সুতোয় বাঁধার এই প্রয়াস অত্যন্ত দূরদর্শী ও সময়োপযোগী। অন্যদিকে, অ্যাডভোকেট খ. গজেন্দ্র সিং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম প্রধান সমস্যা ‘মাদক’ বা ড্রাগস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ড্রাগ মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কোনো একক পক্ষের লড়াই যথেষ্ট নয়, এর জন্য আন্তঃরাজ্য এজেন্সিগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এনইআইআর-এর উপদেষ্টা অধ্যাপক (ড.) সুকমল দেব কেআরসি ফাউন্ডেশন এবং এনইজেসিসি-র সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। ডিমাপুর লোথা স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সভাপতি মহোনবেমো এম. কিকন তাঁর বক্তব্যে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই অনুষ্ঠানের ইতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নাগা স্টুডেন্টস ইউনিয়ন কলকাতার সভাপতি ওয়ালুনিবা জামির।

এনইজেসিসি-র অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর এনইআইআর-এর সদস্যদের সংবর্ধনা জানান এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের উদ্যোগ আরও বৃহৎ পরিসরে করার আশ্বাস দেন। বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। কেআরসি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের মানপত্র প্রদান করা হয়।

সামগ্রিকভাবে, এনইআইআর ফেস্ট ২০২৬-এর এই আয়োজন কেবল একটি উৎসব হয়ে থাকেনি; বরং এটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস, ভ্রাতৃত্ব এবং আত্মমর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপে পরিণত হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, সংস্কৃতি ও আলোচনার এই মেলবন্ধনই আগামীর শান্তিময় উত্তর-পূর্বাঞ্চল গড়ার মূল চাবিকাঠি।

Promotional | North East Integration Rally

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *