মিস্টিক মায়ং-এ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
গুয়াহাটি। উত্তর-পূর্ব সংহতি র্যালি ২০২৬ (NEIR 2026)-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা পর্বটি কেবল একটি গতানুগতিক অনুষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং জনমতের মেলবন্ধনে এক দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনের প্রথম অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল। মিস্টিক মায়ং-এ আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, NEIR 2026 কেবল চাকার ওপর ভর করে এক মাসের সফর নয়, বরং এটি বছরব্যাপী চলা এক নিরবচ্ছিন্ন বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড।

অনুষ্ঠানের সুর বেঁধে দেন আয়োজক কমিটির সদস্য তথা উপদেষ্টা, বিশিষ্ট আইনজীবী খ. গজেন্দ্র সিং। তিনি বলেন, “NEIR 2026 কেবল একটি র্যালি নয়। আগামী ৩৬০ দিনে এটি ৩৬০ ডিগ্রি কোণে নিজেকে বিকশিত করবে।” তিনি এই উদ্যোগকে এক ‘মহৎ প্রচেষ্টা’ এবং ‘বৈপ্লবিক চিন্তা’ হিসেবে বর্ণনা করে জানান, এটি নিছক প্রদর্শনীর জন্য নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে উদ্ভূত। কেআরসি ফাউন্ডেশনের এই ভিশন সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।
একই সুর ধ্বনিত হয় র্যালির জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জীব বৈশ্যের কণ্ঠেও। তিনি এই উদ্যোগকে একটি ‘মেধাবী চিন্তার ফসল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, বিভাজনের এই সময়ে আলাপ-আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় অত্যন্ত জরুরি। তাঁর মতে, এই র্যালির শক্তি নিহিত রয়েছে এর উদ্দেশ্যের স্বচ্ছতার মধ্যে।

প্রবীণ সাংবাদিক নিবির ডেকা এই আন্দোলনকে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এক সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, রাজনীতি বা স্লোগান নয়, বরং সংগীত এবং অভিন্ন জীবনদর্শনের মাধ্যমেই প্রকৃত সংহতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। সেই সুরেরই প্রতিফলন ঘটে অনুষ্ঠানে পরিবেশিত ড. ভূপেন হাজারিকা এবং জুবিন গর্গের গানে।
অনুষ্ঠানের এক তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল ‘হ্যাম রেডিও’ সংক্রান্ত আলোচনা। দুর্যোগ মোকাবিলা, শিক্ষা এবং সামাজিক নেটওয়ার্কিং-এর ক্ষেত্রে যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে একটি বিশদ রূপরেখা তুলে ধরা হয়। আজকের যুগে সংহতি স্থাপনে তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার যে কতটা জরুরি, এই আলোচনাটি তা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে।
র্যালির গভীরতা ব্যাখ্যা করে উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুকমল দেব বলেন, “এই সফর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ তৈরি করবে। সংহতি মানে পার্থক্য মুছে ফেলা নয়, বরং পার্থক্যগুলোকে মেনে নিয়ে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে একত্রে বসবাস করা।”

কেআরসি ফাউন্ডেশনের বিশ্বদীপ গুপ্ত আগামী দিনের কর্মসূচি তুলে ধরে জানান, ৪ জানুয়ারি কলকাতা থেকে এই র্যালি শুরু হয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি গুয়াহাটিতে শেষ হবে। তবে সফর শেষ হলেও আন্দোলনের রেশ কাটবে না। প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই উদ্যোগকে জীবন্ত রাখা হবে। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, র্যালির পরবর্তী ২২ দিন হবে জনসংযোগের এক অনন্য অধ্যায়।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের গুরুত্ব তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়া টিমের সদস্য গৌরব গৌতম বলেন, বর্তমান যুগে মাঠের আন্দোলনের পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও আলাপ-আলোচনা জরুরি, যা তরুণ প্রজন্মকে এই সংহতি বার্তার সঙ্গে যুক্ত করবে।
আইসিএআর -এর অধ্যাপক রবিন গগৈ এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এটি উত্তর-পূর্বের বিলুপ্তপ্রায় শিল্প ও কারুশিল্পের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার এক ঐতিহাসিক মাধ্যম হবে। তিনি নিজেও সংগীত পরিবেশন করে অনুষ্ঠানের মাহাত্ম্য বাড়িয়ে দেন।
অনুষ্ঠান শেষে এটুকু স্পষ্ট যে, NEIR 2026 কলকাতা থেকে গুয়াহাটির একটি রুট ম্যাপের গণ্ডি ছাড়িয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের আবেগ ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রতীকে রূপান্তরিত হতে চলেছে। গন্তব্যে পৌঁছানোর পরও এই আন্দোলনের রেশ বহুকাল রয়ে যাবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
Promotional | North East Integration Rally



