অল আসাম ইলেকট্রিসিটি কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশনের কাছাড় জেলা কো-অর্ডিনেশন কমিটির পক্ষ থেকে একটি স্মারকপত্ৰ প্রেরণ

4 - মিনিট |

স্মারকপত্ৰ রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রীর এপিডিসিএল এর শিলচর ডিভিশন-২ এর এজিএম মারফত প্রেরণ করা হয়

কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো

শিলচর : চূড়ান্ত গ্রাহক বিরোধী প্ৰিপেইড স্মাৰ্ট মিটার প্ৰত্যাহারের দাবিতে আজ অল ইন্ডিয়া ইলেকট্রিসিটি কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে গোটা দেশের সাথে সঙ্গতি রেখে অল আসাম ইলেকট্রিসিটি কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশনের কাছাড় জেলা কো-অর্ডিনেশন কমিটির পক্ষ থেকে একটি স্মারকপত্ৰ রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রীর এপিডিসিএল এর শিলচর ডিভিশন-২ এর এজিএম মারফত প্রেরণ করা হয়।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ যথাক্রমে দীপঙ্কর চন্দ, মধুসূদন কর, মানস দাস, কমল চক্রবর্তী, পরিতোষ ভট্টাচাৰ্য, রঞ্জিত চৌধুরী, অঞ্জন কুমার চন্দ, খাদেজা বেগম লস্কর, গৌর চন্দ্র দাস প্রমুখ শিলচরের পানপট্টিস্থিত এপিডিসিএল কার্যালয়ে বেলা এগারোটায় উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে স্মারকপত্রের প্রতিলিপি এজিএম এর হাতে তুলে দেন।

এছাড়াও সংগঠনের ধোয়ারবন্দ আঞ্চলিক কমিটির উদ্যোগে বড়জালেঙ্গা ব্লকের ভিডিও নিকট স্মারকপত্ৰ তুলে দেওয়া হয়। আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোহন লাল মালা সহ দিলীপ কুমার রী, সম্পা দে, দিলীপ কালোয়ার প্রমুখ সহ সংগ্রামী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সংগঠনের কালাইন আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি সামছুল ইসলাম এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এপিডিসিএল এর কালাইন সাব ডিভিশনের এসডিই নিকট স্মারকপত্ৰ প্রদান করেন।

শিলচরে স্মারকপত্র প্রদানের পূর্বে বিক্ষোভ প্রদর্শন চলাকালে সংগঠনের অন্যতম সদস্য দীপঙ্কর চন্দ বলেন আসামের জনসাধারণ শুরু থেকেই প্ৰিপেইড স্মাৰ্ট মিটারের বিরোধিতা করে আসছে। স্মাৰ্ট মিটারের বিরুদ্ধে আসামের সৰ্বত্ৰ তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আসামের প্ৰতিটি স্থানে স্মাৰ্ট মিটারের বিরুদ্ধে জনসাধারণ স্বত:স্ফূৰ্ত ভাবে রাজপথে বেরিয়ে এসেছে।

তিনি বলেন অল আসাম ইলেকট্ৰিসিটি কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে গত দু’বছর ধরে এই স্মাৰ্ট মিটার বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চলছে। কিন্তু লক্ষ্য করা গেছে যে, জনগণের তীব্ৰ বিরোধিতাকে গায়ের জোরে অগ্ৰাহ্য করে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সরকার একমাত্ৰ কৰ্পোরেট গোষ্ঠীর স্বাৰ্থে এই স্মাৰ্ট মিটার বসাচ্ছে।

বৰ্তমানেও ডিজিটেল মিটার সম্পৰ্কে জনগণের কোনো অভিযোগ নেই। অথচ বেসরকারি কোম্পানির লোকজন ঘরে ঘরে গিয়ে নানা ধরনের ভয় ভীতি দেখিয়ে ছলে বলে কৌশলে গ্ৰাহকদের মতামত না নিয়েই ডিজিটেল মিটার খুলে বিতৰ্কিত স্মাৰ্ট মিটার লাগিয়ে দিচ্ছে। তিনি এর বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে আহ্বান জানান।

সংগঠনের অন্যতম সংগঠক মানস দাস বলেন বৰ্তমানে প্ৰচলিত ডিজিটাল মিটারগুলো যেখানে একশ শতাংশ শুদ্ধ ও সঠিক ভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাপে সক্ষম সেখানে লক্ষ লক্ষ ডিজিটাল মিটার ঘর থেকে খুলে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করে জনসাধারণের ট্যাক্সের হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে এই প্ৰিপ্ৰেইড মিটার প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে একমাত্র কর্পোরেটদের হাতে ভবিষ্যতে বিদ্যূৎ খণ্ডকে তুলে দেওয়ার স্বার্থে।

তিনি বলেন বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নের স্বার্থে এই স্মাৰ্ট মিটার প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে বলে সরকার প্ৰচার করছে অথচ বিতরণ ব্যবস্থার অন্যান্য সরঞ্জাম যেমন পুরোনো ট্ৰেন্সফরমার, পুরনো বিদ্যুৎ পরিবাহী তার ইত্যাদির কোনো আধুনিকীকরণ না করে শুধু স্মাৰ্ট মিটার বসানো হচ্ছে। এরফলে আজও সামান্য বৃষ্টি বা হালকা হাওয়া বইলেই বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে।

তিনি বলেন ইতিমধ্যে সমগ্ৰ রাজ্যে অসংখ্য অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে যে, যাদের ঘরে বা অন্য প্রতিষ্ঠানে স্মাৰ্ট মিটার বসানো হয়েছে, তাঁদের বিদ্যুৎ বিল আগের থেকে ৩/৪ গুণ বেশি দিতে হচ্ছে। একজন গ্ৰাহককে একই ধরনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে ডিজিটেল মিটার সরিয়ে স্মাৰ্ট মিটার বসানোর পর কেন এত বেশি বিল দিতে হচ্ছে এর কোন সদুত্তর কর্তৃপক্ষের কাছে নেই! তিনি প্রিপেইড স্মাৰ্ট মিটার প্রত্যাহারের দাবিতে জোরদার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মধূসুদন কর বলেন প্রিপেইড স্মাৰ্ট মিটারের ক্ষেত্রে যেহেতু অগ্রিম রিচার্জ করতে হয় ফলে লক্ষ লক্ষ দরিদ্র গ্ৰাহকদের মারাত্মক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রিপেইড স্মার্ট মিটারে রিচার্জের টাকা (বেলেন্স) শেষ হওয়ার সাথে সাথে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় যা বিদ্যূৎ আইন-২০০৩ এর ৫৬ নং ধারাকে সরাসরি উলঙ্ঘন করে। এই ধারা মতে কোনো গ্ৰাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হলে ন্যূনতম ১৫ দিন আগেই জানাতে হয়।

তিনি বলেন স্মাৰ্ট মিটার চালুর পর গ্ৰাহকদের বিদ্যুৎ পরিষেবা পেতে আগে টাকা জমা দিতে হচ্ছে অথচ ঘন্টার পর ঘন্টা আবার তাদের লোডশেডিং এও নাকাল হতে হচ্ছে। অগ্রিম টাকা নিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ না করা বিদ্যুৎ আইন ২০০৩ এর ৫৭ (২) ধারার সরাসরি উলঙ্ঘন। তিনি বলেন কেন্দ্ৰীয় সরকারের গেজেট নোটিফিকেশন অনুযায়ী প্ৰিপেইড স্মাৰ্ট মিটার প্ৰথমে সরকারি কাৰ্যালয়, বিভিন্ন উদ্যোগিক প্ৰতিষ্ঠানে স্থাপন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অথচ আসাম সরকার তা না করে সাধারণ গ্ৰাহকদের ঘরে স্মাৰ্ট মিটার প্রতিস্থাপন করছে। তিনি গ্রাহকদের সংগঠিত হতে আহ্বান জানান। অন্যতম সমাজকর্মী ও বিদ্যুৎ গ্রাহক আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক কমল চক্রবর্তী বলেন ইতিমধ্যে রাজ্যে প্রতিস্থাপন করা ৩০ লক্ষাধিক স্মাৰ্ট মিটার কোথায়, কখন পরীক্ষা (টেষ্ট) করা হয়েছে এবং এর টেস্ট রিপোর্ট গ্ৰাহকদের দেওয়া হয়েছে কি না তা কেউ জানে না। বিদ্যুৎ হচ্ছে সংবিধান স্বীকৃত এক অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা এবং সমাজের অগ্ৰগতির অতি গুরুত্বপূৰ্ণ উপকরণ।

আধুনিক সভ্যতার যুগে বিদ্যুৎ হচ্ছে জল ও বাতাসের মতোই মানুষের জীবনের এক অপরিহাৰ্য গুরুত্বপূৰ্ণ উপাদান। অথচ বর্তমানে বিদ্যুতের অত্যাবশ্যকীয় সেবার চরিত্ৰ ধীরে ধীরে পরিবর্তন করে একটি লাভজনক পণ্যে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। প্ৰিপেইড স্মাৰ্ট মিটার প্রতিস্থাপন করে পরোক্ষভাবে বিদ্যুতকে লাভজনক পণ্যে পর্যবসিত করা হয়েছে। কারণ, প্ৰিপেইড ব্যবস্থায় একমাত্ৰ যে গ্ৰাহক অগ্রিম রিচার্জ করতে পারবে সেই পরিষেবা পাবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি জনকল্যাণকামী রাষ্ট্রের ধারণার পরিপন্থী।

পরিতোষ ভট্টাচাৰ্য বলেন আসামের বৰ্তমান আৰ্থ- সামাজিক পরিস্থিতিতে এবং মানুষের জীবন ধারণের ক্ষেত্রে দেখা দেওয়া তীব্ৰ আৰ্থিক সংকটের পরিপ্ৰেক্ষিতে লক্ষ লক্ষ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য অগ্রিম ধন খরচ করার সামর্থ্য নেই। ফলে প্ৰিপেইড ব্যবস্থায় সাধারণ গ্ৰাহকদের উপর এক বিরাট আৰ্থিক বোজা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তাছাড়া বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে যে এই মিটারগুলোর আয়ুস্কাল নাকি ৫-৬ বছর। অর্থাৎ এরপর এই মিটার নষ্ট হলে গ্ৰাহকদের দশ/ বারো হাজার টাকা দিয়ে নতুন মিটার কিনতে হবে। তাই প্ৰিপেইড মিটার কোনোভাবেই গ্ৰহনযোগ্য নয়। এছাড়াও ইন্টারনেটের দুর্বল নেটওয়ার্কের জন্য অনলাইনে রিচাৰ্জ করাও বিভিন্ন স্থানে খুব সহজতর হবে না।

নিরক্ষর গ্ৰাহকরা অনলাইন রিচাৰ্জ করা, মোবাইলে প্রেরিত বাৰ্তা বুঝা, সময়মতো তা দেখা ইত্যাদি করবে কিভাবে? মিটারিং ব্যবস্থা প্ৰিপেইড হয়ে গেলে বিলিং ষ্টাফ, মিটার রিডারদের কোনো প্ৰয়োজন থাকবে না। এরফলে হাজার হাজার মানুষ কৰ্মসংস্থান হারাবে যা বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে বেসরকারীকরণের দিকে ঠেলে দেবে।

কারিগরি কারণেও এই সমস্ত স্মার্ট মিটার ডোমেস্টিক এবং অন্যান্য লো-লোডে ব্যবহার করার উপযুক্ত নয় বিবেচনা করে অনেক রাজ্যে উক্ত প্রি-পেইড স্মার্ট মিটার ডোমেস্টিক ক্ষেত্রে ও লো-লোউডের কমার্শিয়াল ক্ষেত্রে অনুপযুক্ত বিবেচনায় বাতিল করা হয়েছে।
তিনি বলেন একমাত্ৰ বৃহৎ কৰ্পোরেট গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করতে সঠিকভাবে বিদ্যুৎ পরিমাপে সক্ষম ডিজিটেল মিটারগুলো সরিয়ে নতুনভাবে প্ৰিপেইড স্মাৰ্ট মিটার প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। জনগণের আন্দোলনে চাপে ইতিমধ্যে গুজরাট, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই জনবিরোধী স্মাৰ্ট মিটার বাতিল করেছে।

রঞ্জিত চৌধুরী বলেন প্ৰিপেইড স্মাৰ্ট মিটার সম্পূৰ্ণরূপে গ্ৰাহক স্বাৰ্থ বিরোধী এবং বিতরণ ব্যবস্থার বেসরকারীকরণের হাতিয়ার। তাই জনগণের ন্যায্য দাবির প্ৰতি যথোচিত গুরুত্ব দিয়ে মানুষের আবেগ অনুভূতিকে সন্মান জানিয়ে এই প্ৰিপেইড স্মাৰ্ট মিটার অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে স্লোগান তোলা হয় যে সাধারণ গ্ৰাহকদের ঘরে প্ৰিপেইড স্মাৰ্ট মিটার প্রতিস্থাপন বন্ধ কর, ইতিমধ্যে জোর করে মানুষের বাসগৃহে প্রতিস্থাপন করা স্মাৰ্ট মিটারগুলো সরিয়ে পূর্বের ডিজিটেল মিটার প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে।

Promotional | Subscribe KRC TIMES e-copy

KRC TIMES-Subscription

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news