অস্ট্রেলিয়ার পর শিলচর-সৌরাষ্ট্র ই-ও করিডোরের ২৫ কিলোমিটার অংশ পরিদর্শন করল জাপানের বিশেষজ্ঞ দল

2 - মিনিট |

ভেঙে পড়া হাতিখালি-লাংটিং, লাংটিং-কালাচান্দ এবং দীর্ঘদিন থেকে বিপর্যস্ত মাহুর-জাটিঙ্গা অংশ ও জাটিঙ্গা-হারাঙ্গাজাও অংশের ভূতাত্বিক জরিপ করার পাশাপাশি মাটির নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে।

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ দলের পর এবার শিলচর-সৌরাষ্ট্র ইস্ট-ওয়েস্ট করিডোরের এএস ২১ প্যাকেজের জাটিঙ্গা থেকে হারাঙ্গাজাও পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার অংশ পরিদর্শন করেছে জাপানের একটি বিশেষজ্ঞ দল। বুধবার লামডিং থেকে হারাঙ্গাজাও পর্যন্ত অংশের লাংটিং-কালাচান্দ হাতিখালি-লাংটিং, মাহুর-জাটিঙ্গা এবং জাটিঙ্গা-হারাঙ্গাজাও পর্যন্ত ধস-বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করে মাটির গুণগত মান পরীক্ষা করেছে। সঙ্গে মাটির নমুনা সংগ্রহ করে নিয়েও গেছে বিশেষজ্ঞ দল। 

এর আগেও একবার জাটিঙ্গা থেকে হারাঙ্গাজাও অংশ পরিদর্শন করে গেছে অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশেষজ্ঞ দল। অস্ট্রেলিয়ার ওই বিশেষজ্ঞ দল ঘুরে গিয়ে যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল এতে দেখা গিয়েছিল, জাটিঙ্গা থেকে হারাঙ্গাজাও পর্যন্ত যে অংশ দিয়ে মহাসড়ক নির্মাণ কাজ চলছিল সেই অংশের মাটির গুণগত মান নিম্নমানের এবং সেই অংশে রয়েছে ভূতাত্বিক সমস্যা। যার দরুন অস্ট্রেলিয়ার ওই বিশেষজ্ঞ দল তাদের প্রতিবেদনে জাটিঙ্গা নদীর ডান দিক দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করার কথা জানিয়েছিল। সে অনুযোয়ী ডিপিআর প্রস্তুতির কাজও চলছিল। কিন্তু এবার জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার এই বিশেষজ্ঞ দলের জরিপ হিমঘরে পাঠিয়ে দিয়ে জাপানের বিশেষজ্ঞ দলকে নিয়ে এসেছে জরিপের জন্য। এবার জাপানিজ এই বিশেষজ্ঞ দল পুনরায় জরিপ করার পর নতুন করে ডিপিআর তৈরি করা হবে। তবে তা দীর্ঘমেয়াদি কাজ। 

আজ জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের গুয়াহাটি কার্যালয়ের সিজিএম অলোক কুমার এবং জাপানের বিশেষজ্ঞ দল সম্প্রতি ভেঙে পড়া হাতিখালি-লাংটিং, লাংটিং-কালাচান্দ এবং দীর্ঘদিন থেকে বিপর্যস্ত মাহুর-জাটিঙ্গা অংশ ও জাটিঙ্গা-হারাঙ্গাজাও অংশের ভূতাত্বিক জরিপ করার পাশাপাশি মাটির নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে। 

১৯৯৮ সালে শিলচর-সৌরাষ্ট্র ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর নির্মান কাজের শিলান্যাস হওয়ার পর ২১ বছর অতিক্রম হয়ে গেছে। দুই দশক পর এখন পর্যন্ত প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর স্বপ্নের ইস্ট-ওয়েস্ট শিলচর-সৌরাষ্ট্র মহাজাতীয় সড়কের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়নি একমাত্র ‘রাইটস’ নামের এক সংস্থার ভুল ভূতাত্বিক জরিপের জন্য, এই অভিযোগ সর্বত্র। 

এবার জাপান থেকে আগত বিশেষজ্ঞ দল ভূতাত্বিক জরিপ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরই আবার নতুন করে ডিপিআর প্রস্তুতের কাজ শুরু হবে, এমনটাই জানা গেছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে।  উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে হাতিখালি-লাংটিংয়ের মধ্যবর্তী স্থানে বৃষ্টির জেরে মহাসড়কের প্রায় ২০০ মিটার সড়ক ভেঙে চৌচির হয়ে যায়। তার আগে একইভাবে লাংটিং ও কালাচান্দের মধ্যে রাস্তা ভেঙে পড়েছিল। তাছাড়া মাহুর থেকে জাটিঙ্গা ও জাটিঙ্গা থেকে হারাঙ্গাজাও অংশ দীর্ঘদিন থেকে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। মাহুর থেকে জাটিঙ্গা অংশের সড়ক নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত এনকেসি নির্মাণ সংস্থা ভূতাত্বিক সমস্যায় পড়ে কাজ ছেড়ে দিয়ে চলে যায়। অন্যদিকে জাটিঙ্গা-হারাঙ্গাজাও অংশে রাস্তা নির্মাণের কাজে নিয়োজিত জেকেএম ইনফ্রা নির্মাণ সংস্থাকে ২০১৬ সালে কালো তালিকাভুক্ত করে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *