আগামী প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তোলার শপথ নিতে হবে: ড. সুকমল দেব

3 - মিনিট |

কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নর্থ ইস্ট ইন্টিগ্রেশন র‍্যালি’র সূচনা

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

কোচবিহার : সমাজ সংস্কারক ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার আদর্শে উদ্বুদ্ধ কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক অনন্য সংহতি ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন প্রত্যক্ষ করা গেল। গত ৯ জানুয়ারি এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ‘নর্থ ইস্ট ইন্টিগ্রেশন র‍্যালি (NEIR) ২০২৬’। শিক্ষা, সংহতি এবং সচেতনতার বার্তা নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

রাজবংশী জননেতা রায় সাহেব পঞ্চানন বর্মার স্মৃতিবিজড়িত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি আঞ্চলিক ঐক্য ও বৌদ্ধিক বিকাশের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।

এমন একটি ঐতিহাসিক স্থান থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতের সংহতি যাত্রার সূচনা অনুষ্ঠানটিকে বিশেষ তাৎপর্য দান করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এনএসএস (NSS) ইউনিট এবং র‍্যালি আয়োজক কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মাধবচন্দ্র অধিকারী, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. অভিজিৎ দেব, অর্থ আধিকারিক ড. তাপস মান্না এবং এনএসএস প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক প্রবীর কুমার হালদার।

এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনইআইআর (NEIR) ২০২৬-এর উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুকমল দেব, কেআরসি ফাউন্ডেশনের সিইও বিশ্বদীপ গুপ্ত, ড. দীপঙ্কর পাল, উন্নয়ন আধিকারিক ড. সৌমেন্দ্র কুমার সাহা চৌধুরীসহ অন্যান্য অনুষদ সদস্য ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

এই কর্মসূচিটি সফল করতে অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. রামকৃষ্ণ মণ্ডলের সক্রিয় ভূমিকার কথা বক্তারা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দিতে গিয়ে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মাধবচন্দ্র অধিকারী বলেন, “৪ জানুয়ারি কলকাতা থেকে শুরু হওয়া এই ‘নর্থ ইস্ট ইন্টিগ্রেশন র‍্যালি’ এক মহৎ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।

শিক্ষার্থীদের সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের কর্মসূচির গুরুত্ব অপরিসীম।” বক্তৃতার এক পর্যায়ে তিনি সঙ্গীত পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শকদের অনুপ্রাণিত করেন।

প্রধান বক্তা ড. সুকমল দেব তাঁর ভাষণে পরিবেশ রক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “আসুন আমরা সম্মিলিতভাবে শপথ গ্রহণ করি, যেন আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এই পৃথিবীকে টেকসই ও বাসযোগ্য করে রেখে যেতে পারি।”

পরিবেশ সচেতনতাকে তিনি আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের অপরিহার্য অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেন। অনুষ্ঠানে কেআরসি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

কেআরসি ফাউন্ডেশনের সিইও বিশ্বদীপ গুপ্ত মানুষের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তথ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “যারা নিয়মিত সংবাদপত্র পাঠ করেন, তারা জীবনে কখনও পিছিয়ে পড়েন না।” সংবাদপত্রের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান মানুষকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

এছাড়া তিনি অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ, অনলাইন ওয়ার্কশপ, বিপর্যয় মোকাবিলা প্রশিক্ষণ এবং ‘কেআরসি টাইমস’-এর বার্ষিক সাবস্ক্রিপশনসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবিষ্যতে একটি ‘হ্যাম রেডিও ক্লাব’ (HAM Radio Club) প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দেন, যা বিপর্যয় মোকাবিলা এবং যোগাযোগ কৌশলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত রবীন্দ্রসংগীত এবং অসমীয়া লোকগান এক ভিন্ন মাত্রার যোগ করে। সবশেষে বর্ণাঢ্য পতাকাবন্দনার মাধ্যমে র‍্যালির শুভ সূচনা করা হয়।

Promotional | North East Integration Rally

Stay connected with the biggest action oriented movement of North East India – connecting, uniting, working for Peace, Progress and Prosperity of North East India. Know More – Connect with Us

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *