এক নিঃস্বার্থ কর্মীর দলীয় স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষা
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর : আনুষ্ঠানিকভাবে শিলচর থেকে বিজেপি’র টিকিট চেয়ে এগিয়ে এলেন আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব — এক নিঃস্বার্থ কর্মীর দলীয় স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষা
২০২৬ সালের আসন্ন আসাম বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে তুঙ্গে। রাজ্যের ১২৬টি আসনের মধ্যে প্রতিটি আসনেই শুরু হয়েছে যোগ্য, কর্মঠ এবং জনসমর্থিত প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া। বরাক উপত্যকার হৃদয়স্থলে অবস্থিত মর্যাদাপূর্ণ শিলচর বিধানসভা কেন্দ্রেও চলছে এই গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা। এই পটভূমিতে একজন সৎ, ত্যাগী, সংগঠনের নীরব কিন্তু নিষ্ঠাবান সৈনিক, আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির টিকিটের আবেদন করেছেন।
গত শুক্রবার, রথযাত্রার পূর্ণতিথিতে এক পবিত্র দিনে ধর্মানন্দ দেব চিঠি প্রেরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, রাজ্য বিজেপি সভাপতি সাংসদ দিলীপ শইকিয়া এবং সর্বভারতীয় সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র রাজুর নিকট। আবেদন ছিল একটিই দলের প্রার্থী হিসেবে শিলচর কেন্দ্র থেকে লড়ার সুযোগ। এই আবেদন শুধু একটি রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়, বরং একজন নিবেদিত সৈনিকের সংগঠনের কাছে নিজেকে উৎসর্গ করার আহ্বান।
ধর্মানন্দ দেব শুধু একজন আইনজীবী নন। তিনি সেই ব্যক্তি যিনি নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের সময় বরাকের হিন্দু উদ্বাস্তুদের স্বার্থে গর্জে উঠেছিলেন। গণমাধ্যমে তাঁর লেখনি ছিল সরল সত্যের মুখপত্র তিনি কলমকে করেছেন জনমানসের ভাষা।
তাঁর কর্মজীবন অত্যন্ত বিস্তৃত ২০০২ সাল থেকে শিলচর বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন। প্রান্তিক জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি সহায়তা দিয়েছেন কোনো প্রচার ছাড়াই।
সংঘের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গভীর। আর এস এস-এর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে, দক্ষিণ আসাম প্রান্তের মুখপত্র ‘প্রেরণা সিন্ধু’-র সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করে তিনি বহুদিন ধরেই তৃণমূল স্তরে সংগঠনের ভিত মজবুত করেছেন।
আজ যখন রাজনীতিতে লোভ, প্রতিযোগিতা ও হিংসা প্রবল, তখন ধর্মানন্দ দেবের মতো একজন নির্লোভ, আত্মপ্রচারবিমুখ, সেবাপরায়ণ ব্যক্তির প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা যেন এক শুদ্ধ বাতাসের পরশ। তিনি কেউকে টপকাতে চান না তিনি কেবল নিজের ত্যাগ, নিষ্ঠা ও নিরব সেবার স্বীকৃতি চান।
শিলচরবাসীর একাংশ ইতিমধ্যেই বলছেন “এমন একজন ত্যাগী, শিক্ষিত, চিন্তাশীল এবং সংগঠনের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর হাতেই হোক শিলচরের ভবিষ্যৎ।” ধর্মানন্দ দেবের টিকিটের আবেদন এক নতুন আলোচনা তৈরি করেছে এটা শুধু রাজনৈতিক প্রার্থী বাছাই নয়, এটা হলো দলের ভিতরে অন্তর থেকে উঠে আসা জননেতার পরিচয় দেওয়ার সময়।
শুধু ধর্মানন্দ দেব নন, সংগঠনকেও ভাবতে হবে কাকে দিয়ে আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করা যায়? কাকে দিয়ে রাজনীতি আবার সেবা হয়ে উঠতে পারে? সত্যিকারের নায়করা প্রচারে থাকে না থাকে মানুষের মনে। আজ ধর্মানন্দ দেব সেই মন জয় করার চেষ্টায় নন কারণ তা তিনি অনেক আগেই করে ফেলেছেন।
দল যদি আজ তাঁকে সুযোগ দেয়, তবে শুধু একজন প্রার্থী নয় বরং একজন মূল্যবোধে বিশ্বাসী, সংগঠনের আত্মাকে ধারণ করা জননেতা হিসেবে তাঁর উঠে আসা হবে স্বাভাবিক ও সময়োপযোগী। এই দৌড়ঝাঁপের ভিড়ে তিনি এক অন্য ধাঁচের প্রার্থী যিনি চেয়েছেন শুধু দলকে দিতে, এখন চাইছেন সেই দায়িত্বকে আরও বড় পরিসরে পালনের সুযোগ।
Promotional | Subscribe KRC TIMES e-copy



