স্বাবলম্বী হওয়ার পথে পিএমইজিপি ও এনআরএলএম হিতাধিকারীরা
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর : শিলচরের লিড ব্যাংক পরিচালিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক আরসেটি (RSETI) কাছাড়’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ১৪ দিনব্যাপী আবাসিক উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচির (EDP) সফল সমাপ্তি ঘটেছে। ‘সফট টয়েজ মেকার ও সেলার’ বিষয়ক এই বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে আসাম সরকারের এনআরএলএম (NRLM) প্রকল্পের আওতাধীন বিভিন্ন ব্লকের আত্মসহায়ক দলের সদস্য এবং পিএমইজিপি (PMEGP) হিতাধিকারীসহ মোট ২২ জন তরুণ-তরুণী ও মহিলা অংশগ্রহণ করেন।
ভারত সরকারের গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিত তৃতীয় পক্ষীয় মূল্যায়নে উত্তীর্ণ সফল প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সমাপনী অনুষ্ঠানে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।
পিএনবি আরসেটি কাছাড়ের ডিরেক্টর অরুণ জ্যোতি দে-র সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র ফ্যাকাল্টি তথা প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর শাহেদ চৌধুরী, সিনিয়র প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট রিম্পা সেন, জয়মতি দাস এবং ডোমেইন স্কিল ট্রেইনার কল্যাণী দেব, শেহনাজ বেগম বড়ভুইয়া ও পূর্ণিমা মহাপাত্র। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী গামছা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ডিরেক্টর অরুণ জ্যোতি দে বলেন, “বর্তমান সমাজে নারীরা প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন। দেশের সার্বিক উন্নয়নে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী; তাই তাদের স্বাবলম্বী না করে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
আরসেটির মূল লক্ষ্য হলো দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নারীদের আর্থিকভাবে স্বাধীন করে তোলা।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই ধরণের প্রশিক্ষণ প্রশিক্ষণার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তাদের সফল উদ্যোক্তা হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করবে।
সিনিয়র ফ্যাকাল্টি শাহেদ চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নারীর সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করে। অবহেলা ও বৈষম্য দূর করতে আত্মনির্ভরশীলতার বিকল্প নেই। তবে শুধু প্রশিক্ষণ নিলেই হবে না, লব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ব্যবসা শুরু করতে হবে এবং একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সময়মতো ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে হবে।”
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি সফল করে তুলতে রিম্পা সেন, জয়মতি দাস, মনিষা নাগ ও চম্পক শুক্লবৈদ্য বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। প্রশিক্ষণার্থীদের পক্ষে আজিম হোসেন বড়ভুইয়া, আয়নুল হক লস্কর, টুপসি বনিক, সাদিয়া ইয়াসমিন লস্কর ও মনজু রানি দাস তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করেন। তাঁরা পিএনবি আরসেটি, ডিআইসিসি (DICC) এবং এনআরএলএম কাছাড়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে সফল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পাশাপাশি সময়মতো ঋণ পরিশোধের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।



