প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পাশাপাশি খুদে শিল্পীদের নিপুণ পরিবেশনা দর্শক ও শ্রোতাদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর৷কালজয়ী সুরস্রষ্টা সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে শিলচরের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংস্থা ‘আঙ্গিক’-এর উদ্যোগে আয়োজিত হল এক মনোজ্ঞ ও স্বর্ণালি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। বুধবার স্থানীয় গান্ধীভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শহরের নবীন ও প্রবীণ শিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে এক অনন্য মাত্রা প্রদান করে। সলিল চৌধুরীর অবিনাশী সৃষ্টিকে ঘিরে এই আয়োজনে এদিন কার্যত কুঁড়ি থেকে প্রবীণ— সব প্রজন্মের শিল্পীদের এক মিলনমেলা বসেছিল।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল শহরের দুই বিশিষ্ট নাগরিকের সংবর্ধনা। নাগরিক অধিকার রক্ষা আন্দোলনের প্রবীণ নেতা হরিদাস দত্ত এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী নন্দদুলাল সাহাকে এদিন সংস্থার পক্ষ থেকে উত্তরীয় ও স্মারক প্রদান করে বিশেষ সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়। এই সংবর্ধনা পর্বে উপস্থিত ছিলেন ‘আঙ্গিক সাংস্কৃতিক সংস্থা’র সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর বিশ্বাস, ডেফোডিলস স্কুলের চেয়ারপার্সন অমলেন্দু দে, অজয় দাস এবং বিভূতিভূষণ চন্দ।
প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। উদ্বোধনী বক্তব্যে তাঁরা সলিল চৌধুরীর বৈচিত্র্যময় সংগীত জীবন, তাঁর প্রগতিশীল রাজনৈতিক চেতনা এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাঁর সৃষ্টির সুগভীর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোকপাত করেন। বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের সংগ্রাম ও যন্ত্রণার কথা যেভাবে সলিল চৌধুরীর সুরে ও কথায় ফুটে উঠেছে, তা আজও সংগীতপ্রেমীদের কাছে এক অমূল্য পাথেয়।
এরপরই শুরু হয় মূল সাংস্কৃতিক পর্ব। সলিল চৌধুরীর সুরারোপিত কালজয়ী গান, কবিতা আবৃত্তি এবং পাঠের এক চমৎকার কোলাজ পরিবেশিত হয় মঞ্চে। প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পাশাপাশি খুদে শিল্পীদের নিপুণ পরিবেশনা দর্শক ও শ্রোতাদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানটির সুচারু সঞ্চালনায় ছিলেন জয়িতা সেন সিংহ এবং মৃত্যুঞ্জয় দাস।



