তপশিলি মর্যাদা, জমির মালিকানা ও দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সারা অসম আদিবাসী ছাত্র সংঘঠন (কাছাড় জেলা শাখা) ও বরাক চা শ্রমিক ইউনিয়নের ধর্না প্রদর্শন

2 - মিনিট |

মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে স্মারকলিপি প্রেরণ

অজিত দাস

শিলচর : বরাক উপত্যকার আদিবাসী সমাজের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে সারা অসম আদিবাসী ছাত্র সংঘঠন (কাছাড় জেলা শাখা) এবং বরাক চা শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে নরসিংটলা ময়দানে ধর্ণা প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। তপশিলি জনজাতি মর্যাদা, ভূমি পাট্টা প্রদান এবং দৈনিক মজুরি বৃদ্ধিসহ একাধিক দাবিকে সামনে রেখে এই আন্দোলনে হাজারেরও বেশি আদিবাসী শ্রমিক ও ছাত্রসমাজ অংশগ্রহণ করেন।

বেলা ১১টা থেকে ময়দান জুড়ে বিভিন্ন দাবিদাওয়া এবং স্লোগানে পরিবেশ মুখরিত হয়ে ওঠে। মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে আন্দোলনকারীরা পদযাত্রা করেন এবং সামাজিক ন্যায্যতা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারের দাবিতে নানা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উদ্দেশে একটি স্মারকলিপিও প্রেরণ করা হয়।

সাংবাদিকদের সামনে সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, বরাক উপত্যকার চা শ্রমিক ও প্রাক্তন চা জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে অসমের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও আজও তপশিলি জনজাতি মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। অথচ বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গের একই সম্প্রদায় ইতিমধ্যে এই মর্যাদা পেয়ে এসেছে। তাই অসমেও অবিলম্বে তপশিলি মর্যাদা ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়।

এছাড়া জমির মালিকানা না থাকায় চা শ্রমিক সমাজ সামাজিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় ভুগছে—এই অভিযোগ তুলে প্রতিটি শ্রমিক পরিবারের জন্য ভূমি পাট্টা প্রদানের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দৈনিক মজুরি ২২৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৫১ টাকা নির্ধারণ এবং বরাক-ব্রহ্মপুত্র দুই উপত্যকার জন্য অভিন্ন মজুরি কাঠামো প্রণয়নের দাবিও তোলা হয়।

দাবিগুলো দ্রুত পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার সতর্কবার্তা দেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। স্মারকলিপির অনুলিপি রাজ্য শ্রম দপ্তর এবং কেন্দ্রীয় উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে।

এই আন্দোলনকে ঘিরে শিলচরসহ বরাক উপত্যকার চা শ্রমিক সমাজের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ ও প্রত্যাশার সঞ্চার হয়েছে। সংগঠনগুলোর মতে, আন্দোলনের মূল লক্ষ্য—অবৈষম্য দূর করে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য সম্মানজনক ও ন্যায়সঙ্গত জীবনধারা প্রতিষ্ঠা করা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news