সীমান্তবর্তী গ্রামে কৃষির রূপান্তরে এনইসি-র অর্থায়নে শুরু হলো ‘আদিত্য-প্রভা গ্রাম প্রকল্প’
বিশ্বদীপ গুপ্ত
পাসিঘাট : অরুণাচল প্রদেশের পাসিঘাটস্থিত কেন্দ্রীয় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিএইউ) অধীনস্থ কৃষি মহাবিদ্যালয়ে বুধবার এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবনির্মিত ‘ট্রাইবাল গার্লস হোস্টেল’ এবং ‘অ্যাগ্রো-ইকো ট্যুরিজম পার্ক’-এর দ্বারোদ্ঘাটন করা হয়। একইসঙ্গে এদিন পূর্ব হিমালয়ের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে কৃষির সামগ্রিক বিকাশের লক্ষ্যে ‘আদিত্য-প্রভা গ্রাম প্রকল্প’-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়েছে। ভারত সরকারের উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রকের (DoNER) অধীনে উত্তর-পূর্ব পরিষদ (NEC)-এর আর্থিক সহায়তায় এই প্রকল্পটি রূপায়িত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিলংয়ের এনইসি সচিব সতিন্দর কুমার ভাল্লা। তিনি তাঁর ভাষণে ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্নের কথা তুলে ধরে বলেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধি, ফসলের গুণমান উন্নয়ন এবং জীবিকার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। অরুণাচল প্রদেশে কিউই চাষের বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি তরুণ প্রজন্মকে কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ ও স্টার্টআপে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, আত্মনির্ভর ও উন্নত ভারত গড়তে তরুণ উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
ইম্ফলস্থিত কেন্দ্রীয় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অধিকর্তা এল. এম. গড়নায়ক প্রকল্পের প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানান, ‘আদিত্য-প্রভা গ্রাম প্রকল্প’-এর মূল লক্ষ্য হলো কৃষি ও আনুষঙ্গিক ক্ষেত্রে তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে সীমান্তবর্তী সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক রূপান্তর ঘটানো। গ্রামীণ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই এই প্রকল্পের অভীষ্ট।

অরুণাচল প্রদেশের সাংসদ তাপির গাও প্রকল্পটিকে একটি ‘পাইলট প্রজেক্ট’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নের নতুন এবং উদ্ভাবনী মডেল পরীক্ষা করার জন্য এটি ডিজাইন করা হয়েছে।
তিনি কেন্দ্রের ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ’ কর্মসূচির সঙ্গে এই প্রকল্পের সামঞ্জস্যের কথা উল্লেখ করেন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে তৃণমূল স্তরে সৃজনশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, এই প্রকল্পের জন্য মোট ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রকল্পটি সফল হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য সীমান্তবর্তী অঞ্চলেও এটি সম্প্রসারিত হবে।
প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্যানুযায়ী, এই উদ্যোগটি উত্তর-পূর্বের দুটি রাজ্য— অরুণাচল প্রদেশ এবং সিকিমকে কভার করবে। চীন, ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমার সীমান্তের সাতটি জেলা এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। আগামী তিন বছরে ৭০টি গ্রাম এবং প্রায় ২১০০ কৃষক পরিবার এর দ্বারা সরাসরি উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিএইউ-এর উপাচার্য ড. অনুপম মিশ্র বলেন, “আমরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কৃষি শিক্ষায় নেতৃত্ব দিতে চাই। এই লক্ষ্য পূরণেই অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে এই প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছিল। আমাদের দক্ষ কর্মী ও গবেষক দল এই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।”
অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং, আপার সুবনসিরি, শি-ইয়োমি, আপার সিয়াং, দিবাং ভ্যালি ও চাংলাং জেলা এবং সিকিমের সোরেং জেলায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিধায়ক তাপি দারাং এবং নিনং এরিং উপস্থিত ছিলেন। মহাবিদ্যালয়ের ডিন অধ্যাপক সঞ্জয় স্বামী সমবেত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
Promotional | North East Integration Rally



