ব্যক্তি জীবনে নেলসন ম্যা্ন্ডেলা ছিলেন একজন হিউম্যান রাইটস আইনজীবী। গোটা বিশ্বে তাঁর পরিচয় শান্তির দূত হিসাবে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বর্ণবৈষম্যবাদ দূর করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
সামনে অন্য কাউকে রেখে পিছন থেকে নেতৃত্ব দেওয়া অনেক বেশি কার্যকরী। বিশেষত যখন আমরা বিজয়ী হই বা কোনও ভালো ঘটনাকে উদযাপন করি। বিপদ আসন্ন হলেই একজন আদর্শ নেতার সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত। এমন আদর্শ নিয়েই কালো মানুষদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করে দীর্ঘ সংগ্রামের পর দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলা। কারাগারের অন্তরালে জীবনের মূল্যবান অনেকটা সময় কাটানো ম্যান্ডেলার জন্মদিন ১৮ জুলাই গোটা বিশ্বে পরিচিত ‘ম্যান্ডেলা ডে’ হিসাবে। এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন এই রাষ্ট্রপতির চিন্তাধারা- প্রতিদিনই উন্নত বিশ্ব গড়ে তোলার কাজ করে যেতে হবে। তাই আমাদের কাছে ১৮ জুলাই মানেই, অতীতে ফিরে তাকিয়ে দেখেত হবে কী কী আমরা করেছি এবং ভবিষ্যতের জন্য আর কোন কাজগুলি করতে হবে। ম্যান্ডেলা বলেছিলেন, নিজের বেঁচে থাকার জন্য কী করলাম সেটি বড় কথা নয়, জীবনের মানে হল, অপরের জন্য আমরা কতটা করতে পেরেছি।
ব্যক্তি জীবনে নেলসন ম্যা্ন্ডেলা ছিলেন একজন হিউম্যান রাইটস আইনজীবী। গোটা বিশ্বে তাঁর পরিচয় শান্তির দূত হিসাবে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বর্ণবৈষম্যবাদ দূর করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বর্ণবৈষম্যমুক্ত দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে তাঁর দীর্ঘ লড়াই নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল।আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের প্রার্থী নেলসন ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার একাদশ রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেন ১৯৯১ সালের ৭ জুলাই। ২০ ডিসেম্বর ১৯৯৭ পর্যন্ত তিনি এই পদে অধিষ্ঠত ছিলেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রান্সকেইতে ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই জন্ম নেওয়া ম্যান্ডেলার জন্মদিনেক ইউএন জেনারেল অ্যাসেমব্লি’ম্যান্ডেলা ডে’ হিসাবে ঘোষণা করেছে। এবার দশম বছরে পা দিল এই বিশেষ দিনটি।
জন্মের সময় তাঁর নাম রাখা হয়েছিল রোলিহলাহলা। স্থানীয় ভাষায় এর মানে হল, গাছের শাখা উন্মেলিত করা। ম্যান্ডেলার নেলসন নামটি রেখেছিলেন একজন মিশনারি স্কুল শিক্ষক। ছাত্রাবস্থাতেই তাঁর মধ্যে প্রভাব ফেলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণের ভিত্তিতে মানুষের অবস্থানের বিষয়টি। ছাত্র ম্যান্ডেলাকে ফোর্ট হেয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অপরাধে। এরপর তিনি স্নাতক হন উনিসা থেকে। পরবর্তীকালে আইন নিয়ে স্নাতক হন উইটস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
১৯৬২ সালে দেশ ছাড়েননেলসন ম্যান্ডেলা। এইসময় তিনি মরক্কো ও ইথিওপিয়ায় গিয়ে গোরিলা ট্রেনিং সম্পন্ন করেন। সে বছরের শেষ দিকে আমেরিকার সিআইএ-র এজেন্ট সন্দেহে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। কারাবাসের সময় তাঁকে রাখা হয়েছিল ২মিটারx২.৫মিটার আয়তনের একটি সেলে। যেখানে তাঁর সঙ্গী ছিল একটি বেডরোল ও শৌচকর্মের জন্য একটি ছোট বালতি।
ম্যান্ডেলা ডে উদাপিত হয় একটি সংখ্যা ৪৬৬৬৪ দিয়েও। রবেন আইল্যান্ডের কারাগারে তাঁর বন্দি নম্বর ছিল এই সংখ্যাটি। এই দিনটিতে এইচআইভি/এইডস নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য নানা কর্মসূচি নেওয়া হয় গোটা বিশ্বজুড়ে।
নিজের জীবনে নানা সম্মান ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এই শান্তির দূত। ১৯৯৩ সালে ম্যান্ডেলার হাতে তুলে দেওয়া হয় শান্তির নোবেল পুরস্কার। ১৯৯০ সালে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তিনি পেয়েছিলেন ভারতরত্ন সম্মান। কানাডার সাম্মানিক নাগরিকত্বের পাশাপাশি নেলসন ম্যান্ডেলাকে সদস্যপদ দিয়েছিল ব্রিটিশ লেবার পার্টি। ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যশালী ক্লাব ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডও তাঁকে দিয়েছিল সাম্মানিক সদস্যপদ। তাঁর নামে রয়েছে নিউক্লিয়ার পার্টিকেলও (ম্যান্ডেলা পার্টিকেল)। ১৯৯৯ সালের ১৬ জুন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব।


