উপ-মুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপগেন ও লোসি ডিখো: সামাজিক ভারসাম্যে গুরুত্ব বিজেপির
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
ইম্ফল : মণিপুরের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে বুধবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন বিজেপির ওয়াই খেমচাঁদ সিং। তাঁর সঙ্গে উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিজেপির দুই প্রভাবশালী নেতা নেমচা কিপগেন এবং লোসি ডিখো। বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ভার্চুয়ালি এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, নেমচা কিপগেন নতুন দিল্লির ‘মণিপুর ভবন’ থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে শপথ বাক্য পাঠ করেন।
শপথ গ্রহণের পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদ সিং বলেন, ‘দল আমার ওপর এক বিশাল দায়িত্ব অর্পণ করেছে। আমি পূর্ণ নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করব।’ মণিপুরের ৩৬টি জাতিগোষ্ঠীকে একত্রিত হয়ে রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শান্তি ও উন্নয়নই হবে নতুন সরকারের মূল চালিকাশক্তি। বিকশিত ভারত ও বিকশিত মণিপুর গড়ার পথে অনেক চ্যালেঞ্জ আসতে পারে, তবে আমরা লক্ষ্য পূরণে অবিচল থাকব।’
ওয়াই খেমচাঁদ সিং দীর্ঘদিনের আরএসএস (RSS) কর্মী এবং সাংগঠনিক দক্ষতাসম্পন্ন নেতা হিসেবে পরিচিত। রাজনীতির পাশাপাশি ক্রীড়াজগতেও তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে। তায়কোয়ান্দোতে ব্ল্যাক বেল্টধারী খেমচাঁদ ‘তায়কোয়ান্দো ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া’-র প্রাক্তন সহ-সভাপতি ছিলেন এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এই খেলার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০১২ সালে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে প্রথমবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হলেও, ২০১৩ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন।
সিংজামেই ওয়াই লেইকাইয়ের ভূমিপুত্র খেমচাঁদ ১৯৭৮ সালে ইম্ফলের রামলাল পাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এইচএসএলসি পাশ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক পুত্রের জনক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন মন্ত্রিসভায় সামাজিক ভারসাম্যের বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদ মৈতেই সম্প্রদায়ের হলেও, দুই উপ-মুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপগেন ও লোসি ডিখো যথাক্রমে কুকি ও নাগা জনজাতির প্রতিনিধিত্ব করছেন। রাজ্যের সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়ে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই এই নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
Promotional | North East Integration Rally



