রামানুজ কলেজে অনুষ্ঠিত হল বর্ণাঢ্য ‘জ্ঞান উন্মেষ’ অনুষ্ঠান-শ্রীমার চিরায়ত শিক্ষা ও দর্শনে আলোকপাত

2 - মিনিট |

শিক্ষার্থীদের আধ্যাত্মিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনে শ্রীঅরবিন্দ চর্চা কেন্দ্র ও মহাবিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগ

কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো

নিজস্ব প্রতিনিধি
শিলচর : পণ্ডিচেরি আশ্রমের শ্রীমার ১৪৮তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে শিলচরের রামানুজ ডিগ্রি কলেজে এক ব্যতিক্রমী ও অনুপ্রেরণামূলক ‘স্টুডেন্টস এনলাইটেনিং প্রোগ্রাম’ বা ‘জ্ঞান উন্মেষ’ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। শ্রীঅরবিন্দ চর্চা কেন্দ্র, শিলচর এবং রামানুজ ডিগ্রি কলেজের যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই মহতী অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের অন্তরে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক চেতনার উন্মেষ ঘটাতে এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

অনুষ্ঠানের সূচনালগ্নে মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা ডঃ অঞ্জনা ভট্টাচার্য ও অনান্য অধ্যাপিকাবৃন্দ আমন্ত্রিত অতিথিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন শ্রীঅরবিন্দ চর্চা কেন্দ্রের যুগ্ম সম্পাদিকা রুমি কর।

অনুষ্ঠানের প্রথমার্ধে শ্রীমার আলোকিত জীবন ও মহিমান্বিত দর্শন নিয়ে মনোজ্ঞ ও তথ্যসমৃদ্ধ বক্তব্য রাখেন শ্রীঅরবিন্দ চর্চা কেন্দ্রের সক্রিয় সদস্যা তথা কাছাড় কলেজের বাণিজ্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপিকা নবরূপা ধর। তাঁর প্রাঞ্জল আলোচনা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের গভীরভাবে উদ্বুদ্ধ করে। এরপর কলেজের অধ্যক্ষা ডঃ অঞ্জনা ভট্টাচার্য তাঁর বক্তব্যে শ্রীমা প্রদর্শিত অনন্য শিক্ষাদর্শনের ওপর আলোকপাত করেন। বর্তমান যুগের জটিল প্রেক্ষাপটে শ্রীমার সহজ ও সাবলীল শিক্ষা-পদ্ধতি কতটা প্রাসঙ্গিক, তা তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ব্যাখ্যা করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি, গবেষক তথা শ্রীঅরবিন্দ চর্চা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মানাস ভট্টাচার্য। তিনি তাঁর সুচিন্তিত দীর্ঘ বক্তৃতায় শ্রীমার জীবন, শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক দর্শনের পাশাপাশি শ্রীঅরবিন্দের আদর্শের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন। প্রায় ৪০ মিনিটের নিবিড় বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে ‘মানসিক শৃঙ্খলা’ ও ‘নীরবতা’র অনুশীলনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শ্রীঅরবিন্দের কালজয়ী সৃষ্টি ‘মা’, ‘সাবিত্রী’ ও ‘দিব্যজীবন’ গ্রন্থের নিরিখে আলোচনার পাশাপাশি তিনি শ্রীমদ্ভগবদ্‌গীতার প্রাসঙ্গিক শ্লোক উদ্ধৃত করে ছাত্রছাত্রীদের জীবনের প্রকৃত লক্ষ্যের দিশা দেখান।

তাত্ত্বিক আলোচনার পর মাতৃসঙ্গীতের স্নিগ্ধ আবহাওয়ায় ১০ মিনিটব্যাপী এক মননশীল ধ্যানপর্ব অনুষ্ঠিত হয়। যা উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের মনে প্রশান্তির আমেজ ছড়িয়ে দেয়। অনুষ্ঠানের অন্তিম পর্বে শ্রীমার জীবনভিত্তিক এক আকর্ষণীয় কুইজ প্রতিযোগিতা পরিচালিত হয়। শ্রীঅরবিন্দ চর্চা কেন্দ্রের যুগ্ম সম্পাদকদ্বয় পুলক মিত্র ও যশোবন্ত দেবনাথের সুচারু পরিচালনায় এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০ জন কৃতিকে পুরস্কৃত করা হয়।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সঞ্চালনা করেন কলেজের ছাত্রী ময়ূরী পাল ও অন্বেষা রায়। কলেজের অধ্যাপিকা শাশ্বতী রায় ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এই মহতী আয়োজনকে সফল করে তুলতে বিশেষ সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মহাবিদ্যালয়ের উইমেন্স সেলের কনভেনার তথা বোটানি বিভাগের অধ্যাপিকা ডঃ শাশ্বতী রায় এবং দর্শন বিভাগের প্রধান ডঃ ঝুমা দেব।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news