রিয়াং শরণার্থীদের রাস্তা অবরোধ অব্যাহত, খাদ্য গুদাম লুটের মাইকিং, জারি ১৪৪ ধারা

2 - মিনিট |

আনন্দবাজারে খাদ্যগুদাম এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে কাঞ্চনপুর মহকুমা প্রশাসন

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

রিয়াং শরণার্থীরা খাদ্য গুদাম লুটের হুমকি দিয়েছে। এ ব্যাপারে শরণার্থী-নেতার আজ মাইকিং করেছেন। এর জেরে শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে আনন্দবাজারে খাদ্যগুদাম এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে কাঞ্চনপুর মহকুমা প্রশাসন। 

এ-ব্যাপারে কাঞ্চনপুরের মহকুমাশাসক অভেদানন্দ বৈদ্য জানিয়েছেন, আজ অবরোধ চলাকালীন রিয়াং শরণার্থীরা আগামীকাল খাদ্যগুদাম লুট করা হবে বলে মাইকিং করেছেন। তাই কোনও ঝুঁকি নেওয়া উচিত হবে না বলে মনে করে এদিন সন্ধ্যা থেকে আনন্দবাজারে খাদ্যগুদাম এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। 

বিনামূল্যে রেশন ও আর্থিক সহায়তার দাবিতে দ্বিতীয় দিনও রিয়াং শরণার্থীরা জারি রাখেছেন রাস্তা অবরোধ। আজ সকাল পাঁচটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দশদা-আনন্দবাজার রাস্তা অবরোধ করেছেন তাঁরা। শরণার্থী নেতা ব্রোনো মিশার বক্তব্য, রিয়াং শরণার্থী প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত বিনামূল্যে রেশন ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া না হলে প্রতিদিন চলবে রাস্তা অবরোধ।

বিনামূল্যে রেশন ও আর্থিক সহায়তা কেন্দ্রীয় সরকার বন্ধ করে দেওয়ায় রিয়াং শরণার্থীরা পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দশদা থেকে আনন্দবাজার রাস্তা অবরোধ করছেন। গতকাল সকাল পাঁচটা থেকে সংগঠিত অবরোধের জেরে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য উত্তর ত্রিপুরা জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও রিয়াং শরণার্থীরা অবরোধ তুলে নেননি। আজ ফের অবরোধের জেরে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

গত মঙ্গলবার উত্তর ত্রিপুরার জেলাশাসককে এক চিঠিতে ৩১ অক্টোবর দশদা থেকে আনন্দবাজার রাস্তা অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন রিয়াং শরণার্থী নেতৃবৃন্দ। সে-মোতাবেক গতকালের পর আজ ফের সকাল পাঁচটা থেকে পাঁচ শতাধিক রিয়াং শরণার্থী দশদা-আনন্দবাজার রাস্তা অবরোধ করেন। আজও কাঞ্চনপুরের মহকুমাশাসক অবরোধস্থলে গিয়ে রিয়াং শরণার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্ত তারা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। 

এদিকে, আজ বিকেল পাঁচটায় যথারীতি অবরোধ সমাপ্ত হয়। আগামীকাল ফের তারা অবরোধে বসবেন বলে জানান শরণার্থী নেতা ব্রোনো মিশা। 

জেলাশাসককে লেখা ওই চিঠিতে শরণার্থী নেতারা খাদ্য গুদাম লুটের হুমকি দিয়েছিলেন। আজ কাঞ্চনপুরের মহকুমাশাসক অভেদানন্দ বৈদ্য বলেন, এদিন অবরোধ চলাকালীন রিয়াং শরণার্থীরা তাদের ভাষায় আগামীকাল খাদ্য গুদাম লুট করা হবে বলে মাইকিং করেছেন। ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্ন ঘটার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তাই, আনন্দবাজার খাদ্য গুদাম এলাকায় ২০০ মিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। তিনি জানান, আজ সন্ধ্যা ছয়টা থেকে এই নির্দেশ কার্যকরী হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ওই আদেশ বলবৎ থাকবে। সাথে তিনি যোগ করেন, রিয়াং শরণার্থীরা অন্তত অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকবেই।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *