শিলচরে বিনামূল্যে ‘লিম্ফিডিমা কেয়ার ইউনিট’-এর পথচলার সূচনা

2 - মিনিট |

ক্যানসার জয়ীদের সেবায় এক মাইলফলক

কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো

শিলচর৷বরাক উপত্যকার চিকিৎসাক্ষেত্রে এক নতুন এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অধ্যায়ের সূচনা হলো। শিলচরের বরেণ্য চিকিৎসক প্রয়াত ডা. চন্দ্রশেখর দাসের স্মৃতিধন্য অম্বিকাপট্টির বাসভবনে শনিবার ‘ডা. চন্দ্রশেখর দাস ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে যাত্রা শুরু করল প্রথম ‘লিম্ফিডিমা কেয়ার ইউনিট’। মূলত স্তন ক্যানসার আক্রান্ত এবং ক্যানসার জয়ীদের সুচিকিৎসার লক্ষ্যেই এই বিশেষায়িত কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছে।

স্তন ক্যানসার চিকিৎসার পরবর্তী পর্যায়ে অনেক সময় রোগীদের ‘লিম্ফিডিমা’ বা লসিকাজনিত কারণে হাত বা শরীরের নির্দিষ্ট অংশ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়ার মতো জটিল সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এই যন্ত্রণাদায়ক সমস্যার মোকাবিলায় নবউদ্বোধিত ইউনিটে বসানো হয়েছে আধুনিক ‘১২-চেম্বার টার্গেটেড কমপ্রেশন ডিভাইস’। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও মানবিক দিকটি হল—এই কেন্দ্রে স্তন ক্যানসার সারভাইভারদের জন্য শতভাগ বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা হবে।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন ‘ব্রেস্ট ক্যানসার হাব’)-এর প্রতিষ্ঠাতা তথা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্যানসার গবেষক ড. লোপামুদ্রা দাসরায়। একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তিনি লিম্ফিডিমা সমস্যার আধুনিক সমাধান এবং স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতার নানা দিক তুলে ধরেন। ড. দাসরায় বলেন, ‘ক্যানসার কোনও সংক্রামক ব্যাধি নয়।

সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং যথাযথ চিকিৎসা ও যত্নে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি অনায়াসেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।’ তিনি মহিলাদের নিয়মিত স্ব-পরীক্ষা  এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্রেস্ট ক্যানসার হাব-এর মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট চিকিৎসকদের আলোচনায় ক্যানসার প্রতিরোধের সামাজিক প্রেক্ষাপটটি স্পষ্টভাবে উঠে আসে। জেলার যুগ্ম স্বাস্থ্য সঞ্চালক ডা. শিবানন্দ রায় গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জানান, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা এবং তামাকজাত দ্রব্যের অতিব্যবহারের ফলে অসম তথা সমগ্র ভারতে ক্যানসারের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বছরে অন্তত একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয়তা তাঁর বক্তব্যে প্রাধান্য পায়।

কাছাড় ক্যানসার হাসপাতালের পক্ষে বিশিষ্ট সমাজসেবী সীতা কান্নান এবং প্রখ্যাত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মণিকা দেব রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও জাঙ্ক ফুড বর্জনের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডা. শর্মিষ্ঠা ভট্টাচার্য ও ডা. দেবাঞ্জনা মজুমদার। তাঁরা যথাক্রমে ম্যামোগ্রাফি পরীক্ষার গুরুত্ব এবং ক্যানসার পরবর্তী সময়ে নিয়মিত ‘ফলো-আপ’ চিকিৎসার আবশ্যকতা ব্যাখ্যা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত চিকিৎসক ডা. চন্দ্রশেখর দাসের সহধর্মিণী রীতা দাস। উল্লেখ্য, এই মহতী উদ্যোগের নেপথ্য কারিগর ড. লোপামুদ্রা দাসরায় স্বয়ং ডা. দাসের কন্যা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানসার রিসার্চ প্রফেসরের উজ্জ্বল ও লোভনীয় পদ ত্যাগ করে ২০১৭ সালে তিনি ‘ব্রেস্ট ক্যানসার হাব’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিদেশের আরামদায়ক জীবন ছেড়ে নিজের শিকড়ে ফিরে এসে ক্যানসার সচেতনতায় তাঁর এই লড়াই বরাক উপত্যকার স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক নতুন দিশা দেখাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। 

Promotional | North East Integration Rally

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news