শূন্যপদ পূরণ, স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে শিলচরে গণস্বাক্ষর অভিযান

2 - মিনিট |

কর্মসংস্থান কি শুধুই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি! বেকারত্বের জ্বালায় ফুঁসছে যুবসমাজ: এআইডিওয়াই

কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো

শিলচর। ইদানীং বরাক উপত্যকা তথা সমগ্র রাজ্যের শিক্ষিত যুবসমাজের কাছে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম হলো— এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। সরকারি বিজ্ঞাপনের চাকচিক্য এবং কর্মসংস্থানের খতিয়ান নিয়ে শাসকদলের বাগাড়ম্বর থাকলেও বাস্তবের রুক্ষ মাটিতে দাঁড়িয়ে যোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

একদিকে সরকারি দফতরগুলোতে বছরের পর বছর পড়ে থাকা হাজার হাজার শূন্যপদ, আর অন্যদিকে কয়েক হাজার পদের বিপরীতে লক্ষ লক্ষ উচ্চশিক্ষিত বেকারের হাহাকার— এই বৈপরীত্যই এখন শিলচরের সচেতন নাগরিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে।

এই জ্বলন্ত সমস্যাকে সামনে রেখে এবং বেকার যুবকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ফের রাজপথে নামল যুব সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া ডেমোক্র্যাটিক ইয়ুথ অর্গানাইজেশন’ (এআইডিওয়াইও)। মঙ্গলবার শিলচরের শহিদ ক্ষুদিরাম মূর্তির পাদদেশে এক স্বতঃস্ফূর্ত গণস্বাক্ষর অভিযানের মধ্য দিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সংগঠনের সদস্যরা।

তাঁদের দাবি— অবিলম্বে সরকারি বিভাগের সমস্ত শূন্যপদ পূরণ করতে হবে, চুক্তিভিত্তিক বা ঠিকা নিয়োগের সংস্কৃতি বন্ধ করে স্থায়ী নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষিত বেকারদের সম্মানজনক ‘বেকার ভাতা’ প্রদান করতে হবে।

গণস্বাক্ষর অভিযানের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এআইডিওয়াইও-র কাছাড় জেলা সম্পাদক পরিতোষ ভট্টাচার্য তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, ‘রাজ্য সরকার ঘটা করে দেড় লক্ষ চাকরির প্রচার চালালেও আদতে রাজ্যের বেকার সমস্যা এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।

সাম্প্রতিক এডিআরই পরীক্ষায় প্রায় ২৩ লক্ষ শিক্ষিত বেকারের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে দেয় সংকটের গভীরতা কতখানি।’ তিনি অভিযোগ করেন, সরকার কৌশলে শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকারের প্রকৃত সংখ্যা গোপন করছে। ফলে ভিটেমাটি ছেড়ে ভিন রাজ্যে স্বল্প মজুরিতে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে সামিল হতে বাধ্য হচ্ছে এরাজ্যের যুবশক্তি।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংগৃহীত এই গণস্বাক্ষর সম্বলিত একটি স্মারকপত্র আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি আসামের রাজ্যপালের মাধ্যমে দেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হবে। কেবল স্মারকলিপি প্রদানই নয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াইকে ধাপে ধাপে আরও তীব্র করার ইঙ্গিত দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

শহরের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিকরা মনে করছেন, শিলচরের রাস্তাঘাট বা নড়বড়ে নদীবাঁধের মতো কর্মসংস্থানও এখন কেবল একটি রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। খবরের কাগজে নাম বা ফটোসেশন নয়, প্রয়োজন কর্মসংস্থানের এক স্থায়ী ও আন্তরিক রোডম্যাপ।

এআইডিওয়াইও-র এই উদ্যোগ জনমানসে কতটুকু সাড়া ফেলে এবং বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ বা সরকার বেকারত্ব নিরসনে সত্যিই কোনও যুক্তিযুক্ত পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার। নির্মীয়মাণ ফ্লাইওভারের ধুলোবালি আর যানজটের মতোই বেকারত্বের এই দীর্ঘশ্বাসও কি তবে শিলচরের প্রাত্যহিক জীবনের অঙ্গ হয়েই থেকে যাবে? উঠছে প্রশ্ন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news