শ্রম কোড ও মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে সিআরইউ-র রণহুংকার
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর। দেশে যখন শ্রমিকবিরোধী নীতির তাণ্ডব চলছে এবং জীবনদায়ী ওষুধের আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে, ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে শিলচর থেকে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল ‘সেন্টার অব মেডিক্যাল অ্যান্ড সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভস ইউনিয়ন’ (সিএমএসআরইউ, উত্তর-পূর্বাঞ্চল)।
শ্রম কোড প্রত্যাহার এবং ওষুধের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সংগঠনের ২৪তম সাধারণ পরিষদের সভার অন্তিম দিনে কেন্দ্রীয় সরকারের জনস্বার্থবিরোধী অবস্থানের বিরুদ্ধে এভাবেই ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রতিনিধিরা।
মঙ্গলবার সম্মেলনের শেষ দিনে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শিলচর শহর পরিক্রমা করে। এরপর শহরের একটি সভাগৃহে আয়োজিত প্রকাশ্য সমাবেশে শ্রমিক নেতা, নাগরিক সমাজ এবং যুবশক্তির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। সমাবেশ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকার যদি অবিলম্বে তাদের এই শ্রমিকবিরোধী অবস্থান থেকে সরে না আসে, তবে এর জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।
বিশেষ করে কাছাড় জেলাসহ সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলেই এই প্রতিবাদী আন্দোলনের বহ্নিশিখা ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়। সভায় উপস্থিত সর্বভারতীয় এফএমআরএআই-এর সম্পাদক কৌশিক রায় চৌধুরী, সিআইটিইউ আসাম রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন শর্মা এবং কাছাড় জেলা কমিটির সভাপতি সুপ্রিয় ভট্টাচার্য এই সংগ্রামের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন। বক্তারা ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণে সুস্পষ্ট নীতি গ্রহণ এবং মেডিক্যাল ও সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভদের কর্মজীবনের অমীমাংসিত সমস্যাগুলি সমাধানে সক্রিয় লড়াইয়ের ডাক দেন।
উল্লেখ্য, গত রবিবার থেকে শিলচরে শুরু হওয়া এই তিনদিনব্যাপী ঐতিহাসিক অধিবেশনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১৭৩ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। অভ্যর্থনা কমিটির সভাপতি তথা বিশিষ্ট স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞ ড. মনিকা দেবের উপস্থিতিতে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সভার সূচনা হয়েছিল। এফএমআরএআই-এর পতাকা উত্তোলন করেন কৌশিক রায় চৌধুরী, সিআরইউ-র পতাকা জীবনজ্যোতি দুয়ারা এবং সিআইটিইউ-র পতাকা উত্তোলন করেন সুপ্রিয় ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠান উপলক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক গ্রন্থও উন্মোচন করা হয়।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৌশিক রায় চৌধুরী বলেন, “জন্মলগ্ন থেকেই সিআরইউ জনস্বাস্থ্য ও ওষুধ সংক্রান্ত নীতির প্রশ্নে আপসহীন সংগ্রাম চালিয়ে আসছে।” ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণে স্বচ্ছ নীতি, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ এবং অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের ওপর থেকে জিএসটি প্রত্যাহারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। সেইসঙ্গে সরকারি ওষুধ ও ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
অন্যদিকে, সংগঠনের নেতা অনিরুদ্ধ সিংহ রায় তথ্যের ভিত্তিতে দেখান যে, কেন্দ্রীয় সরকারের ভ্রান্ত নীতির ফলে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদন খরচের ভিত্তিতে ওষুধের দাম নির্ধারণের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের আর্তনাদ শুনতে নারাজ।
প্রতিনিধি সভায় সাধারণ সম্পাদক রাহুল পুরকায়স্থ সম্পাদকীয় প্রতিবেদন এবং কোষাধ্যক্ষ দীপায়ন চক্রবর্তী আয়-ব্যয়ের হিসাব পেশ করেন। সম্মেলনের শেষ সন্ধ্যায় ড. মনিকা দেবের পৌরহিত্যে ‘কোয়ালিটি মেডিসিন অ্যাট অ্যাফোরডেবল প্রাইস’ শীর্ষক একটি মনোজ্ঞ আলোচনা চক্রে অংশ নেন ড. মহম্মদ মাসুম, ড. পিনাকী চক্রবর্তী, ড. গিরিধারী কর, ড. সেরেষা রাও চক্রবর্তী এবং ড. অভিজিৎ দাস। সভার নির্যাস হিসেবে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়— জনস্বার্থ রক্ষায় এই লড়াই কেবল পেশাগত গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের এক বৃহৎ হাতিয়ার হয়ে উঠবে।
Promotional | North East Integration Rally




