কাছাড়ের যুবতীর রহস্যমৃত্যুতে তোলপাড়
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
হাইলাকান্দি : আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে চরম বিশ্বাসভঙ্গের শিকার হলেন এক যুবতী। গোপনে স্নানের ভিডিও ধারণ, অতঃপর তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘ দু’বছর ধরে চলল শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। ব্ল্যাকমেল, ধর্ষণ এবং লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের এই পৈশাচিক খেলার করুণ পরিণতিতে অকালেই ঝরে গেল বছর ছাব্বিশের এক তাজা প্রাণ।
কাছাড়ের ভাগাবাজারের রাজনগর গ্রামের বাসিন্দা সামিনা ইয়াসমিনের এই রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাইলাকান্দিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার জেরে মৃতার মা ময়না বেগম হাইলাকান্দি সদর থানায় এক লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
অভিযোগের তির মৃতার আত্মীয় (মায়ের খুড়তুতো বোনের স্বামী), হাইলাকান্দির কুচিলা বাজারের বাসিন্দা আবুল হোসেন চৌধুরীর দিকে। জানা গেছে, প্রায় দু’বছর আগে সামিনা হাইলাকান্দির কারিছড়া এলাকায় মামার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানেই স্নান শেষে কাপড় পরিবর্তনের সময় অত্যন্ত গোপনে তার ভিডিও ধারণ করে নেয় অভিযুক্ত আবুল। পরবর্তীতে সেই ভিডিও দেখিয়েই শুরু হয় ব্ল্যাকমেলের জঘন্য অধ্যায়।
লোকলজ্জার ভয়ে এবং ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যাওয়ার আতঙ্কে সামিনা অভিযুক্তের অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া দিতে বাধ্য হন। অভিযোগ, গত দু’বছর ধরে বিভিন্ন হোটেল ও নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে সামিনার সঙ্গে বলপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে সে। বিষয়টি সামিনার মা জানতে পারলেও, পারিবারিক সম্মান এর কথা চিন্তা করে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মিটমাট করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গেও অভিযুক্তের স্ত্রীর মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।
কিন্তু গত ২৭ ডিসেম্বর ঘটনাটি এক ভয়াবহ মোড় নেয়। সেদিন সামিনা ও তাঁর মা কুচিলা এলাকায় অভিযুক্ত আবুল হোসেন চৌধুরীর বাড়িতে যান। সেখানে আলোচনার একপর্যায়ে ‘ব্যক্তিগত কথা আছে’ বলে সামিনাকে একটি পৃথক ঘরে নিয়ে যায় আবুল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই ঘর থেকে ভেসে আসে সামিনার হৃদয়বিদারক চিৎকার— ‘আমাকে বাঁচাও, আমাকে বাঁচাও’।
মা ও ভাইয়ের স্ত্রী ছুটে গিয়ে দেখেন, সামিনার মুখ দিয়ে জলের মতো ফেনা বের হচ্ছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে প্রথমে হাইলাকান্দি সিভিল হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। শিলচর নিয়ে যাওয়ার পথে বন্দুকমারা এলাকায় পৌঁছানোর আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সামিনা।
সামিনা ইয়াসমিনের মৃত্যুর জন্য আবুল হোসেন চৌধুরীর প্রতারণা, ব্ল্যাকমেল ও দীর্ঘদিনের নির্যাতনকেই দায়ী করেছেন তাঁর মা। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর তিনি হাইলাকান্দি সদর থানায় আবুল হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত গ্রেফতার হওয়ার খবর নেই। এই নারকীয় ঘটনায় দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
Promotional | North East Integration Rally




