সরেজমিনে পরিদর্শনে পূর্ত আধিকারিকরা
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর ৷‘অসম মালা ৩.০’ প্রকল্পের অধীনে গুরুত্ব পাচ্ছে সদরঘাট করাতিগ্রাম-হাতিছড়া সড়ক। প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রস্তাবিত ডবল লেন সড়ক নির্মাণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বৃহস্পতিবার সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করলেন পূর্ত (গ্রামীণ সড়ক) বিভাগের পদস্থ আধিকারিকরা। দীর্ঘদিনের জনদাবির প্রেক্ষিতে শুরু হওয়া এই প্রশাসনিক তৎপরতাকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
এদিন শিলচর-উধারবন্দ টেরিটোরিয়াল ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অনিরুদ্ধ নাগের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সদরঘাট করাতিগ্রাম পয়েন্ট থেকে রাস্তার বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখেন। প্রতিনিধি দলে আইনজীবী তন্ময় পুরকায়স্থ সহ বিভাগের অন্যান্য কারিগরি আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সড়ক পরিদর্শনের পাশাপাশি এদিন নির্মীয়মান মধুরা সেতুর কাজের অগ্রগতিও বিশদভাবে পর্যালোচনা করে প্রতিনিধি দলটি।
স্থানীয় বাসিন্দারা মধুরা সেতুর বর্তমান কাজের গতিতে সন্তোষ প্রকাশ করলেও তাঁদের দাবি, সেতুর প্রকৃত সুফল পেতে হলে সংযোগকারী রাস্তাটির আধুনিকীকরণ অপরিহার্য। পরিদর্শন শেষে আইনজীবী তন্ময় পুরকায়স্থ বলেন, ‘সদরঘাট করাতিগ্রাম পয়েন্ট থেকে হাতিছড়া পর্যন্ত রাস্তাটি যদি মুখ্যমন্ত্রী অসম মালা প্রকল্পের অধীনে পূর্ণতা লাভ না করে, তবে মধুরা সেতুর মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে।’
উল্লেখ্য, ‘অসম মালা ৩.০’ প্রকল্পের আওতায় এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যেই গুয়াহাটিতে অবস্থিত পূর্ত বিভাগের (সড়ক) চিফ ইঞ্জিনিয়ারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছেন এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অনিরুদ্ধ নাগ। প্রেরিত প্রস্তাবে এই রাস্তাটির কৌশলগত গুরুত্ব এবং উপযোগিতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
মূলত এক বৃহৎ গণদাবির প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার আইনজীবী তন্ময় পুরকায়স্থের নেতৃত্বে ২,১১০ জন নাগরিকের স্বাক্ষর সংবলিত একটি স্মারকপত্র জমা দেওয়া হয়। ওই দিনই সড়কটি নির্মাণের সুপারিশ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠান অনিরুদ্ধ নাগ ।
প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী, ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি রংপুরের করাতিগ্রাম পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে করাতিগ্রাম এলাকা, নির্মীয়মান মধুরা সেতু, ছোট দুধপাতিল এবং মুরলিধর হয়ে হাতিছড়া গাঁও পঞ্চায়েত পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এই সড়কটি মূলত উধারবন্দ এবং বড়খলা বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একটি শক্তিশালী সংযোগকারী করিডর হিসেবে কাজ করবে।
বর্তমানে এই রাস্তার প্রস্থ মাত্র ৩.৭৫ মিটার। অত্যন্ত সংকীর্ণ ও বিপজ্জনক হওয়ার কারণে বিশেষ করে বর্ষাকালে যাতায়াত ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ে। এর ফলে সাধারণ মানুষ, স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রী এবং রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নতুন প্রকল্পের অধীনে রাস্তাটিকে ৫.৫০ মিটার প্রস্থে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে এলাকার আর্থ-সামাজিক চিত্রে বড়সড় বদল আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Promotional | North East Integration Rally




