হাইলাকান্দিতে NEIR কর্মসূচি: বিভাজন নয়, দক্ষতা ও উন্নয়নের পথে এগোনোর আহ্বান
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
হাইলাকান্দি: যখন জনপরিসরে পরিচয়ের প্রশ্নই প্রাধান্য পাচ্ছে, ঠিক সেই সময় ২৩ জানুয়ারি হাইলাকান্দির ঐতিহ্যবাহী এস.এস. কলেজ প্রাঙ্গণে নর্থ ইস্ট ইন্টিগ্রেশন র্যালি (NEIR)-এর মঞ্চ থেকে উঠে এল এক স্পষ্ট ও দৃঢ় বার্তা। বার্তাটি ছিল সরল কিন্তু শক্তিশালী—উত্তর-পূর্ব ভারতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে ঐক্য, কর্মসংস্থান ও সম্মিলিত উন্নয়নের উপর; সংকীর্ণ পরিচয় রাজনীতির উপর নয়।

ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও স্থানীয় সমাজের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেআরসি ফাউন্ডেশনের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ও সিইও বিশ্বদীপ গুপ্ত বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রায় ২০০টি সম্প্রদায়ের বাস, যাদের একত্রিত করা এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, এই অঞ্চল সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ হলেও জাতি, বর্ণ ও সম্প্রদায়ভিত্তিক বিভাজনের উপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ায় প্রকৃত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
গুপ্ত জানান, NEIR-এর মূল লক্ষ্য মানুষকে একত্রিত করে একটি অভিন্ন ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা। তিনি ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, “আজ তোমাদের পরিচয় যেন তোমাদের জাতি বা বর্ণ না হয়। তোমাদের শিক্ষা, দক্ষতা ও পেশাই তোমাদের পরিচয় হয়ে উঠুক।” তাঁর এই বক্তব্য বর্তমান সমাজের পরিবর্তিত প্রয়োজনের কথা তুলে ধরে, যেখানে কর্মসংস্থান ও দক্ষতাভিত্তিক উন্নয়ন পরিচয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কলেজ পড়ুয়াদের উদ্দেশে তিনি কর্মজীবনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার আহ্বান জানান। শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আত্মনির্ভরতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান শুধু আয়ের উৎস নয়, এটি আত্মসম্মান, আত্মবিশ্বাস ও জীবনের দিশা দেয়। তাঁর মতে, দক্ষ ও কর্মসংস্থানে যুক্ত যুবসমাজই একটি স্থিতিশীল সমাজের সবচেয়ে শক্ত ভিত।

গুপ্ত প্রবীণ ও সামাজিক নেতৃত্বের প্রতিও আবেদন জানান। তিনি পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি থেকে সরে এসে যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বিভাজন নয়, কাজ দিন।” তাঁর মতে, তরুণদের অর্থবহ কর্মে যুক্ত করা গেলে বহু সামাজিক সমস্যাই স্বাভাবিকভাবে হ্রাস পায়।
এস.এস. কলেজের এই অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকমণ্ডলীর সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্মী ও স্থানীয় চিন্তাবিদরাও, যা আলোচনা পর্বকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে। এই সংলাপ ঐক্য, যৌথ দায়িত্ববোধ ও সম্মিলিত অগ্রগতির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক এম. এম. গোয়েল ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী শঙ্কর চৌধুরীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের আরও অনেকে। তাঁদের উপস্থিতি সামাজিক পরিবর্তনে সম্প্রদায়ের ভূমিকার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানটি শুধু বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশিত গান ও নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠানে প্রাণসঞ্চার করে এবং অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে প্রতিফলিত করে। এই সাংস্কৃতিক উপস্থাপনাগুলি NEIR-এর প্রচারিত ঐক্যের বার্তার সঙ্গেই সঙ্গতিপূর্ণ ছিল।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে NEIR ধারাবাহিকভাবে একতা, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের বার্তা ছড়িয়ে চলেছে। হাইলাকান্দির এই অনুষ্ঠান আবারও স্মরণ করিয়ে দিল—বৈচিত্র্য উত্তর-পূর্ব ভারতের শক্তি হলেও, ঐক্য ও কর্মসংস্থানই তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের চাবিকাঠি।



