হুগলীর গুপ্তিপাড়ার রথ ২৮০ বছরে পদার্পন করল। ১৭৪০ সালে এই রথ উৎসব শুরু করেন মধুসুদানন্দ। পুরীর রথের সঙ্গে গুপ্তিপাড়ার রথের পার্থক্য হল, পুরীর রথকে জগন্নাথ দেবের রথ বলে। আর গুপ্তিপাড়ার রথকে বলে বৃন্দাবন জীউর রথ
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
হুগলীর গুপ্তিপাড়ার রথ ২৮০ বছরে পদার্পন করল। ১৭৪০ সালে এই রথ উৎসব শুরু করেন মধুসুদানন্দ। পুরীর রথের সঙ্গে গুপ্তিপাড়ার রথের পার্থক্য হল, পুরীর রথকে জগন্নাথ দেবের রথ বলে। আর গুপ্তিপাড়ার রথকে বলে বৃন্দাবন জীউর রথ। গুপ্তিপাড়ার রথের বৈশিষ্ঠ হল, এখানে ভান্ডার লুট হয়। ভারতবর্ষের কোথাও এই ভান্ডার লুট হয়না। অন্য সব যায়গায় যেমন বিকালে রথের টান হয় এখানে সকালের দিকেন হয় রথ টান।সোজা রথের ঠিক সাতদিন পর ভান্ডার লুঠ হয়,অর্থাৎ উল্টো রথের আগের দিন এই নিয়ম এখানে প্রচলিত রয়েছে।কথিত আছে রথযাত্রা পর জগন্নাথ দেব মাসির বাড়িতে থাকতে থাকতে ভালো ভালো খাবার খান। ভালো ভালো খাবার খেয়ে তিনি বিভিন্ন গোপিনীদের সাথে আনন্দে মেতে উঠেন।এদিকে গোপিনীদের সাথে নন্দ ও ভাল ভাল খাবার পেয়ে জগন্নাথ তিনি তার বৌ লক্ষীকে ভুলে যান । লক্ষীর কোন কথাতেই সারা দেন না তিনি।তাই উল্টো রথের ঠিক দুদিন আগে শুক্লা পঞ্চমীর দিন সড়ষে পোড়া দিয়ে প্রভুকে বস করতে যান লক্ষী ।কিন্তু প্রভুর তাতেও কোন ভ্রূক্ষেপ থাকে না।এরপর লক্ষী দেবী আরও একটি উপায় বের করলেন। যে সব ভালো ভালো খাবার খেয়ে প্রভু এখানে মজায় আছেন সেগুলোকেই লুঠ করলে কেমন হয়।সেই মতো রথের ঠিক আগের দিন মাসির বাড়িতে যে চারটি দরজা রয়েছে সেই দরজা দিয়ে লক্ষী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে এসে সেই জগন্নাথকে দেওয়া ভালো ভালো খাবার লুঠ করে নিয়ে যায়। লক্ষীর এই চালেই মোক্ষম কাজ হয়। ভালো খাবার না পেয়ে জগন্নাথ ঠিক করেন নিজের বাড়িতে ফিরে যাবেন।সেই মতো ভান্ডারা লুঠের পরের দিনই জগন্নাথ ফের রথে চেপে বাড়ি ফেরেন।এখানে সেটাই উল্টো রথ বলা হয়ে থাকে। আগামীকাল এখানে উল্টো রথ অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু মাহেশের উল্টো রথ হবে আগামী কাল নয়, শুক্রবার হবে উল্টো রথ।


