করিমগঞ্জে জুবিনের প্রতিমূর্তি স্থাপন ও গনদাবি অনুযায়ী’ জুবিনগঞ্জ’ নামকরণের প্রস্তাবকে সমর্থন জানাল বিডিএফ

2 - মিনিট |

তাঁর আদর্শ,তার শিল্পসৃষ্টি জাত, জনগোষ্ঠীর সীমানা পেরিয়ে অগনিত মানুষের হৃদয়ে চির জাগরুক হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট

কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো

শিলচর : প্রয়াত শিল্পী জুবিন গর্গ শুধু অসমিয়া সংস্কৃতির ‘কোহিনুর’ নন , সবার হৃদয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র বেঁচে থাকবেন – করিমগঞ্জে জুবিনের প্রতিমূর্তি স্থাপন ও গনদাবি অনুযায়ী’ জুবিনগঞ্জ’ নামকরণের প্রস্তাবকে সমর্থন জানাল বিডিএফ।

প্রয়াত শিল্পী জুবিন গর্গের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তাঁকে অসমিয়া সংস্কৃতির ‘কোহিনুর’ বলে উল্লেখ করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জুবিনকে এভাবে কোন নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব নয় – তাঁর গ্রহনযোগ্যতা , তাঁর আদর্শ,তার শিল্পসৃষ্টি জাত, জনগোষ্ঠীর সীমানা পেরিয়ে অগনিত মানুষের হৃদয়ে চির জাগরুক হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।

এক প্রেস বার্তায় বিডিএফ মুখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় বলেন যে আশির দশকের বঙাল খেদা আন্দোলনের পর থেকে আসামের বাঙালি এবং অসমিয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে বিভেদের রাজনীতি শুরু হয়েছিল, এরপর থেকে প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাঁতে মদত দিয়ে গেছে। কখনও বাঙালি হিন্দু, কখনো মুসলমানদের বাংলাদেশী বলে চিহ্নিত করে নিগৃহীত করার প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।

গত কয়েক দশক ধরে এটাই আসামের রাজনীতির মূল ইস্যু। কিন্তু প্রয়াত শিল্পী জুবিন গর্গ তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে সবাইকে আপন করে নিয়েছিলেন। ভৌগলিক নৈকট্য,শিল্প সংস্কৃতি বা খাদ্যাভাস সব মিলিয়ে বাঙালি ও অসমিয়া এই দুই ভাষিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে সাদৃশ্য রয়েছে তা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

তাই রাজনীতিকদের বারবার ঠুনকো সমন্বয়ের দাবিতেও যে মিলন ঘটেনি জুবিনের অকাল মৃত্যুর পর কিন্তু সেই বিভেদের রাজনীতি ছাড়িয়ে এবার বরাক উপত্যকার প্রায় সমস্ত পুজো প্যান্ডেলে বাংলার পাশাপাশি জুবিনের অসংখ্য অসমিয়া গান বেজেছে। তাঁর মায়াবিনীর সুরে মূর্ছনা তৈরি হয়েছে অসংখ্য পুজো প্যান্ডেলে। রাজনৈতিক প্ররোচনা কে দূরে সরিয়ে প্রাণের শিল্পীকে আপন করে নিয়েছেন সবাই।

প্রদীপ দত্তরায় বলেন যে তাই জুবিনকে শুধু অসমিয়া সংস্কৃতির ‘ কোহিনুর ‘ হিসেবে চিহ্নিত করা ভূল। কারণ শুধু ভারত নয় সারা বিশ্বে তাঁর সৃষ্টি সমাদৃত।আজ সুদুর আফ্রিকার শিল্পীও তাঁর গান গাইছেন। তিনি বলেন যে হয়তো প্রধানমন্ত্রীকে জূবিনের সম্পর্কে সম্যক তথ্য জানানো হয়নি। তাই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।

প্রদীপ দত্তরায় এদিন আরো বলেন যে করিমগঞ্জ জেলার সাথে জুবিন গর্গের আত্মিক সম্পর্ক ছিল, যেহেতু তাঁর ছাত্রজীবনের একাংশ এই জেলায় কেটেছে এবং এই শিকড় তিনি কখনো ভুলে যাননি। তিনি বলেন যে করিমগঞ্জ জেলার নাম হঠাৎ করে শ্রীভূমি করে দেওয়া জেলার অনেক মানুষই মেনে নিতে পারেননি,যা বিগত দিনের আন্দোলন প্রমাণ করেছে। তিনি বলেন যে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে প্রস্তাব দিচ্ছেন যে করিমগঞ্জ ও শ্রীভূমি দুটি নামই বাদ দিয়ে এই জেলার নাম ‘ জুবিনগঞ্জ ‘ করা হোক।

তিনি বলেন যে এই প্রস্তাব সমর্থনযোগ্য বলে তাঁরা মনে করেন। তিনি বরাকের জনসাধারণকে এটি ভেবে দেখার ও সবাই রাজি হলে এটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সাথে করিমগঞ্জে জুবিন গর্গের একটি আবক্ষ মূর্তি স্থাপনের জন্য তিনি এদিন সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন। তাঁর সাথে তিনি এও বলেছেন যে সরকার এ ব্যাপারে আগ্রহী না হলে জনসাধারণের সহযোগিতায় তাঁরা নিজেরাই এই উদ্যোগ নেবেন।

বিডিএফ এর পক্ষ থেকে আহ্বায়ক দেবায়ন দেব এক প্রেস বার্তায় এই খবর জানিয়েছেন।

Promotional | North East Integration Rally

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news