সরকার সহযোগিতার হাত না বাড়ালে নিকট ভবিষ্যতেই বাড়তে পারে এমন ঘটনা
KRC Times Desk
করোনা মহামারীর আবহে আর্থিক অনটনের জেরে মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হলেন বালুরঘাট জেলা আদালতের এক মুহুরী। মৃতের নাম পিন্টু দাস (৫১)। বাড়ি বালুরঘাট শহরের সংকেতপাড়া এলাকায়। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন তিনি। বিষয়টি পরে পরিবারের নজরে আসতে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পরে পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে তা ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। আর্থিক অনটনের জেরে মানসিক অবসাদ, আর তার জন্য আত্মহত্যা বলে পরিবারের সদস্যদের দাবি। পশ্চিমবঙ্গ ল’ক্লার্ক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে একই দাবি করা হয়েছে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখছে বালুরঘাট থানার পুলিশ।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পিন্টু দাসের বড় মেয়ে অসুস্থ। কিছুদিন আগেই তাকে ব্যাঙ্গালোর থেকে চিকিৎসা করিয়ে নিয়ে আসেন। সেখানেই বিস্তর খরচ হয় পিন্টু দাসের। দীর্ঘ লকডাউনের কারণে আদালতের কাজকর্ম বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন। ফলে আর্থিক অনটন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছিল পিন্টু দাসের পরিবারের। উপার্জনের অন্য কোনও রাস্তা ছিল না। সে কারণেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সকালে নিজের শোবার ঘরেই আত্মহত্যা করেন পিন্টু দাস।
পরে পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং বালুরঘাট হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। শোকের ছায়া নেমেছে বালুরঘাট আদালতের মুহুরী মহলে। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের অসংগঠিত ক্ষেত্রে যারা কাজ করছেন তাদের না পাওয়ার তালিকাটা অনেক বেশি। আর সেই কারণে এরকম ঘটনা ঘটে চলেছে।
লকডাউন যদি চলতে থাকে তাহলে এরকম ঘটনা আরও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন পশ্চিমবঙ্গ ল’ক্লার্ক অ্যাসোসিয়েশনের জেলার সদস্যরা। এবিষয়ে অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সম্পাদক কালিপদ ব্যানার্জি বলেন, লকডাউনে কাজ হারিয়ে আর্থিক সঙ্কটের জেরে আত্মঘাতী বালুরঘাট আদালতের এক মুহুরী। সরকার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দিলে আগামী দিনে এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার অবিলম্বে এবিষয়ে ব্যবস্থা নিক।


