কলকাতাতেও নিখরচায় অ্যাম্বুলেন্স এবং রক্ত দিতে চান ‘অ্যাম্বুলেন্স ম্যান অফ ইন্ডিয়া’

2 - মিনিট |

এবার কলকাতাতেও নিখরচায় অ্যাম্বুলেন্স এবং রক্তদান পরিষেবা বিস্তৃত করতে চাইছেন দিল্লির এক দম্পতি।

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

এবার কলকাতাতেও নিখরচায় অ্যাম্বুলেন্স এবং রক্তদান পরিষেবা বিস্তৃত করতে চাইছেন দিল্লির এক দম্পতি।

হিমাংশু এবং টুইঙ্কল কালিয়া নামে এই দম্পতি সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শহিদ ভগৎ সিং হেল্প অ্যান্ড কেয়ার সোসাইটির কর্মকান্ড ব্যাখ্যা করেন। ১২ বছরে দেশের ১০টি শহরে তাঁরা স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে মুমূর্ষু রোগীর পাশে দাঁড়ানোর কাজ শুরু করেছেন। রক্ত সংগ্রহের জন্য এখন পর্যন্ত সাড়ে চার লক্ষ মানুষের তালিকা তৈরি করেছেন। আগামী বছর ৩১ মার্চের মধ্যে এ রকম ২০ লক্ষ মানুষের তালিকা তৈরি করতে চান তাঁরা।

এই মুহূর্তে স্বামী ও স্ত্রী-র নামে আটটি করে অ্যাম্বুলেন্স। বিশেষ প্রয়োজনে টুইঙ্কল নিজেও অ্যাম্বুলেন্স চালান। মাসকয়েক আগে এ কারণে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছ থেকে পেয়েছেন বিশেষ সম্বর্ধনা। এর আগে ২০২৫-তে হর্ষ বর্ধন নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে এক অনুষ্ঠানে হিমাংশুবাবুকে সম্বর্ধনা দেওয়ার সময়ে তাঁকে চিহ্ণিত করেন ‘অ্যাম্বুলেন্স ম্যান অফ ইন্ডিয়া’ বলে।

কিন্তু সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী কতজন? নিখরচায় কীভাবে পরিষেবা দিচ্ছেন? কত খরচ হচ্ছে এ সবের জন্য? প্রশ্নের উত্তরে চালিয়া দম্পতি জানান, “সারা ভারতে আমাদের স্বেচ্ছাসেবী প্রায় ৩০০ জন। আমরা দু’জন বিমার এজেন্সি করে মাসে প্রায় তিন লক্ষ টাকা আয় করি। দুই মেয়ের বড় জন ১১ বছরের। ছোটটির বয়স ৫। সংসারের জন্য ন্যূনতম রেখে বাকি অর্থ ঢেলে দিই সমাজসেবায়। খরচ হয় আরও বেশি। এর জন্য ধার করি। কেউ কেউ এগিয়ে এসে সহযোগিতা করেন। অদূর ভবিষ্যতে দূর্গম ও দূর্ঘটনাপ্রবণ কিছু অঞ্চলে বাছাই করা গ্রামবাসীকে প্রাথমিক চিকিৎসার পাঠ দেওয়ার কাজ শুরু করার ইচ্ছের কথাও জানান কালিয়া দম্পতি।

প্রয়োজনে কোথায় অ্যাম্বুলেন্স বা রক্তের জন্য খোঁজ করবেন দূর্গতরা? তাঁরা জানান, ৮৮০৪১০২১০২ নম্বরে ফোন করলে কন্ট্রোল রুম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। কিন্তু এ রকম স্বেচ্ছাসেবী হওয়ার নেপথ্যে কোনও ঘটনা? হিমাংশুবাবু বলেন, ১৯৯২ সালে যখন আমার ১৪ বছর বয়স, এক সন্ধ্যায় বাবা দুর্ঘটনায় পড়েন। রাতে ঝান্ডেওয়ালা থেকে রিক্সায় বা অটোয় করে ওঁকে নিয়ে রাত আড়াইটে পর্যন্ত এক হাসপাতাল থেকে আর এক হাসপাতালে দৌড়োতে হয়েছিল। পয়সা ছিল না। অ্যাম্বুলেন্স পাইনি। কেবল ভগবানকে ডেকে গিয়েছি। রাত আড়াইটেয় যখন এমস-এ চিকিৎসক দেখলেন, ধমকে আমাকে প্রশ্ন করলেন এত দেরিতে কেন এনেছেন। বাবা বেঁচে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রায় দুবছর কোমায় ছিলেন। সেই দিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম বড় হয়ে এমন কিছু চেষ্টা করব যাথে অ্যাম্বুলেন্স আর রক্তের অভাবে যেন মানুষকে এভাবে মাথা কুটতে না হয়। এর পর যেখানে, যেভাবে পেরেছি উপার্জনের চেষ্টা এবং সঞ্চয় করেছি। টুইঙ্কল জানান, বিয়ের সময় আমার বাড়ি থেকে যখন দানসামগ্রি দিতে চাওয়া হয় ও বলেছিল খালি একটা অ্যাম্বুলেন্স পেলেই খুশি হব। বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলে সেটা রাখা হয়েছিল। এর পর একে একে বেড়েছে অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা এবং ব্যস্ততা। এখন দিল্লি পুলিশ মাঝে মাঝেই আমাদের সাহায্য চায়। ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য’— এই সঙ্কল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *