৩৬টি উপকমিটি ও ১৫৩ সদস্যের বিশাল বাহিনী
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে কাছার জেলায় সাংগঠনিক তৎপরতা তুঙ্গে তুলল বিজেপি। নির্বাচনের ময়দানি লড়াইকে সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত রূপ দিতে জেলার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে গঠন করা হয়েছে বিশালাকার ‘ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট কমিটি’। সোমবার বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ম্যারাথন বৈঠকের পর প্রতিটি বিধানসভা এলাকার জন্য পৃথক চার সদস্যের ‘কোর কমিটি’ এবং ৩৬টি উপকমিটির বিন্যাস চূড়ান্ত করেছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব।
দলীয় সূত্রে খবর, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী রণকৌশল নির্ধারণে ১৫৩ জন করে কার্যকর্তাকে নিয়ে এই শক্তিশালী কমিটিগুলো গড়া হয়েছে। সুচারুভাবে কাজ পরিচালনার জন্য প্রতিটি কমিটিতে একজন চেয়ারম্যান, একজন কনভেনার এবং দুইজন কো-কনভেনার রাখা হয়েছে।
সোমবার সভার শুরুতেই ধলাই বিধানসভা কেন্দ্রের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কৃপেশ ঘোষকে, কনভেনার হয়েছেন পরেশ তাঁতি। কো-কনভেনার হিসেবে থাকছেন প্রবীর ভট্টাচার্য ও বিধান পাল। উধারবন্দ বিধানসভায় সর্বসম্মতিক্রমে চেয়ারম্যান মনোনীত হয়েছেন নির্মল রায় এবং কনভেনার শ্যামলবরণ দেব। কো-কনভেনার করা হয়েছে নিশু ভৌমিক ও মানস দত্তকে।
বড়খলা বিধানসভা ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের ব্যাটন তুলে দেওয়া হয়েছে সুজিত কুমার দেবের হাতে। কনভেনার হয়েছেন রমেন দে এবং কো-কনভেনার সঞ্জয় চক্রবর্তী ও কঙ্কন চক্রবর্তী। সোনাই বিধানসভায় চেয়ারম্যান ও কনভেনার হিসেবে মনোনীত হয়েছেন যথাক্রমে সন্দীপ রায় ও রামেশ্বর শর্মা। কো-কনভেনার হয়েছেন শেখ শাহারুল আলম ও রমেন্দ্র সিং।
কাটিগড়া বিধানসভাভিত্তিক কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে দীপক দেবকে, কনভেনার নিবাস দাস। কো-কনভেনার পদে থাকছেন অসীম দত্ত ও জগবন্ধু ভট্টাচার্য। লক্ষ্মীপুর বিধানসভার সভায় চেয়ারম্যান মনোনীত হয়েছেন অওদেশ সিং এবং কনভেনার রিনা সিং। কো-কনভেনার হলেন মৃণাল কান্তি দাস ও পাপড়ি দত্ত।
দিনের শেষে শিলচর বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য গঠিত হয় হাই-প্রোফাইল কমিটি। এখানে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা উদয়শঙ্কর গোস্বামী। কনভেনার মনোনীত হয়েছেন প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য রামকৃষ্ণ সিনহা। কো-কনভেনার থাকছেন শ্যামল দেব ও নারায়ণ চৌধুরী।
নির্বাচনী নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষিত না হলেও কাছার বিজেপি যে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করতে রাজি নয়, এই কমিটি গঠনই তার প্রমাণ। ইতিমধ্যেই দেয়াল লিখনের মাধ্যমে প্রচারের দামামা বাজিয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। এখন ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট কমিটির মাধ্যমে তৃণমূল স্তরে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়ে ভোটের রণকৌশল চূড়ান্ত করতে চাইছে জেলা নেতৃত্ব। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগেই ঘর গুছিয়ে পূর্ণ শক্তিতে ময়দানে নেমে পড়ল শাসক দল।
Promotional | North East Integration Rally




