জেলা আয়ুক্ত বলেন, “এটি কেবল একটি প্রশাসনিক তালিকা নয়, বরং গণতন্ত্রের অখণ্ডতা রক্ষার একটি ঐতিহাসিক দলিল
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর : মঙ্গলবার কাছাড় নির্বাচন জেলার অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। জেলা আয়ুক্ত আয়ুষ গর্গ -এর মতে, এই সংশোধন প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি ছিল স্বচ্ছতা, অন্তর্ভুক্তি এবং নিখুঁত তথ্যের সংকলন।
মঙ্গলবার শিলচর জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ের পুরনো সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। জেলা আয়ুক্ত আয়ুষ গর্গের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা উন্নয়ন আয়ুক্ত রাজিব রায়, নির্বাচন আধিকারিক মাসি টপনো এবং তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-সঞ্চালক দীপা দাস সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
গণপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০২৬-কে যোগ্যতা নির্ধারণের তারিখ ধরে এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এদিন ১১৪-লক্ষীপুর, ১১৫-উধারবন্দ, ১১৬-কাটিগড়া, ১১৭-বড়খলা, ১১৮-শিলচর, ১১৯-সোনাই এবং ১২০-ধলাই (তফসিলি জাতি) বিধানসভা কেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা জনসমক্ষে আনা হয়।
জেলা আয়ুক্ত বলেন, “এটি কেবল একটি প্রশাসনিক তালিকা নয়, বরং গণতন্ত্রের অখণ্ডতা রক্ষার একটি ঐতিহাসিক দলিল। তৃণমূল পর্যায়ে যাচাই, বুথ লেভেল অফিসারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং কঠোর ডিজিটাল ও ভৌত পরীক্ষার মাধ্যমে একটি বিশ্বাসযোগ্য তালিকা তৈরি করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, দ্বৈত অন্তর্ভুক্তি বর্জন এবং যোগ্য নাগরিকদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করাই ছিল এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার লক্ষ্য।
১০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এই তালিকা অনুযায়ী কাছাড় জেলায় বর্তমান ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩,৮১,৯০৩ জন। মোট ভোটার ১৩,৮১,৯০৩ জন। পুরুষ ভোটার ৬,৯১,৬০৭, মহিলা ভোটার ৬,৯০,২৮৩ তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১,৭৩২টি।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২,১৩,২৩০ জন ভোটার নিয়ে কাটিগড়া বিধানসভা কেন্দ্র শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা শিলচর কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ২,১১,৫৩৮। অন্যদিকে, লক্ষীপুর কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা ১,৭৭,২০৯ জন।
উল্লেখ্য যে, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত খসড়া তালিকায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১৪,১৫,৪৩৯ জন। চূড়ান্ত তালিকায় এই সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পাওয়ার কারণ হিসেবে প্রশাসন জানিয়েছে, কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অযোগ্য, মৃত এবং দ্বৈত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পরিমার্জন তালিকার প্রামাণিকতা ও নির্ভুলতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
প্রকাশিত এই ফটো ভোটার তালিকা বর্তমানে জেলা নির্বাচন আধিকারিকের কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) কাছে সাধারণের পরিদর্শনের জন্য উপলব্ধ রয়েছে। ভোটাররা সহজেই তাঁদের তথ্য যাচাই করতে পারবেন।
এক্ষেত্রে কোনো নাগরিক সন্তুষ্ট না হলে আইনি প্রতিকারের পথও খোলা রাখা হয়েছে। ১৯৫০-এর গণপ্রতিনিধিত্ব আইনের ধারা অনুযায়ী, যে কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রথম আপিল এবং পরবর্তীকালে অসমের প্রধান নির্বাচন আধিকারিকের কাছে দ্বিতীয় আপিল দায়ের করা যাবে।



