প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ চেয়ে ডিসি-এসপিকে স্মারকপত্র প্রদান
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর। শিলচর শহরের অন্যতম প্রধান বিনোদন কেন্দ্র গান্ধীবাগ পার্ক এখন আর শিশু ও অভিভাবকদের জন্য নিরাপদ বা স্বস্তিদায়ক নেই—এমনই গুরুতর অভিযোগ তুলে এবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হল মধ্য কাছাড় বজরং দল। মঙ্গলবার সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল কাছাড়ের জেলাশাসক, শিলচর পুর নিগমের কমিশনার এবং পুলিশ সুপারের কাছে এক স্মারকলিপি পেশ করে পার্কের বর্তমান শ্রীহীন দশা ও ‘কুরুচিকর’ পরিবেশ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে শিলচর শহরে শিশুদের জন্য উন্মুক্ত বিনোদন স্থলের সংখ্যা হাতেগোনা। সেই নিরিখে গান্ধীবাগ পার্কটি সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে শিশুদের মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে লিজগ্রহীতা বা সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়কের চরম গাফিলতি এবং ন্যূনতম নজরদারির অভাবে পার্কের সুস্থ পরিবেশ সম্পূর্ণ বিনষ্ট হতে চলেছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, পার্কের ভেতরে প্রকাশ্য দিবালোকে যে ধরনের অশোভন আচরণ ও অতি-ঘনিষ্ঠতার চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা শিশুদের উপস্থিতিতে কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই কুরুচিকর পরিবেশের কারণে অভিভাবকেরা সেখানে যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন না। বজরং দলের দাবি, স্কুল ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থাতেও অনেক ছাত্রছাত্রীকে পার্কের ভেতরে আপত্তিকর কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
পার্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে ওই স্মারকলিপিতে। সংগঠনের দাবি, পার্কটি শহরের প্রধান সড়কের সংলগ্ন হওয়ায় ভেতরের এই অনৈতিক দৃশ্যগুলো পথচারীদেরও নজরে আসছে, যা শহরের গরিমা ও নাগরিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করছে। নামমাত্র সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও তার বেশিরভাগই অচল। আবার কিছু ক্যামেরা এমনভাবে বসানো হয়েছে যা সংবেদনশীল বা নির্জন এলাকাগুলোকে কভার করে না। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীর অভাব এবং নিয়মিত পুলিশি টহল না থাকায় পার্কটি ক্রমশ অসামাজিক কার্যকলাপের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগে জানানো হয়।
এই উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মধ্য কাছাড় বজরং দল প্রশাসনের কাছে পার্কের ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে বর্তমান লিজ চুক্তির শর্তাবলি পুনর্মূল্যায়ন করে প্রয়োজনে লিজ বাতিল করার এবং সরাসরি পুরসভার তত্ত্বাবধানে পার্কটি পরিচালনার দাবি তোলা হয়েছে। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য— পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, সিসিটিভি মেরামত এবং কঠোর আচরণবিধি কার্যকর না করলে আগামীতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
সংগঠনের জেলা সংযোজক পঙ্কজ দাস সংবাদমাধ্যমকে জানান, জনস্বার্থ ও শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থেই তাঁরা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর আগে একাধিকবার পার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা কোনো কর্ণপাত করেননি। এদিনের প্রতিনিধি দলে পঙ্কজ দাস ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহসংযোজক চিরঞ্জিত কুমার সিংহ, অপু চন্দ্র দে, সানি দেব, আনন্তিক পাল, সানি দেবনাথ, সঞ্জয় দাস, রাজ ভর সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।



