ছেলেধরা সন্দেহে ডুয়ার্সে পিটিয়ে খুন করল উন্মত্ত জনতা
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
গুজবের ভিত্তিতে উন্মত্ত জনতার হাতে মানুষের প্রাণ হারানো বাংলা তথা গোটা দেশেই সংক্রামক রোগের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। গুজবকে প্রশ্রয় দিয়ে মানুষের হিংস্রতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার এই ধরণের গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও হিংসাত্মক ঘটনা কমার লক্ষ্মণ বিশেষ একটা দেখা যাচ্ছে না। বিশেষত ছেলেধরা সংক্রান্ত গুজব বেড়েই চলেছে। এবার ঠিক যেমনটা হল ডুয়ার্সের নাগরাকাটা ব্লকের সুখানি বস্তি এলাকায়। ছেলে ধরা সন্দেহে পিটিয়ে, পাথর দিয়ে মাথা থেতলে খুন করা হল এক ভিখারিকে।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার সকালে। জানা গিয়েছে সুখানি বস্তি এলাকায় গত কয়েকদিনে কোনও বাচ্চা হারিয়ে না গেলেও গুজব ওঠে ছেলেধরার দৌরাত্মের। যার জেরে সোমবার সকালে বহুরুপী সেজে উপার্জনরত এক ভিক্ষুক ছেলেধরা সন্দেহে গনপিটুনি শিকার হলেন।উত্তেজিত জনতার তাড়া খেয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তাঁকে পাথর দিয়ে মাথা থেতলে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। যদিও আনুমানিক ৪৫ বছর বয়স্ক ঐ ভিখারির নাম পরিচয় জানা যায়নি।
বেশ কেয়কদিন ধরেই সুখানি বস্তি ও সংলগ্ন এলাকায় ছেলেধরা গুজবে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছিল। এই অবস্থায় হঠাৎ মহিলার সাজে এক অপরিচিত ব্যক্তিকে দেখতে পায় এলাকার লোকজন।তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হলে ঐ ব্যক্তির কথায় সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর।উত্তেজিত লোকজন চিৎকার করলে ঐ ভিখারি প্রাণ বাঁচাতে এলাকা ছেড়ে দৌড়তে শুরু করে।রেল লাইনের ধারে পড়ে গেলে, তাঁকে কাঠ এবং পাথর দিয়ে মারধর শুরু হয়।ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নাগরাকাটা থানার পুলিশ। তড়িঘড়ি ঐ ভিখারিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষনা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন নাগরাকাটা থানার পুলিশ। উপস্থিত হয় মালবাজার থানার ওসি সহ বিশাল পুলিশবাহিনী সহ মালবাজার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবাশিষ চক্রবর্তী।
সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবাশিষ চক্রবর্তী জানান,’এলাকায় ছেলেধরা সংক্রান্ত যে গুজব ছড়িয়েছে, পুলিশ সে বিষয়ে মানুষকে বারবার মাইকিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভাবে সচেতন করেছে।এই ধরনের কোনও ছেলেধরা বা বাচ্চা চুরির ঘটনা ঘটেনি। তারপরেও কিছু মানুষ এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করতে গুজব ছড়াচ্ছে।এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিনের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।অপরিচিত হলেই কাউকে এভাবে ছেলেধরা সন্দেহে প্রান দিতে হলে বা আক্রান্ত হতে হলে এলাকায় কেউ আসবে না।’ পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, এদিনের ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বছর দেড়েক আগে ডুয়ার্সে ক্রান্তি সহ বিভিন্ন এলাকায় ছেলেধরা গুজবে কয়েকজনকে আক্রান্ত হতে হয়েছিল।সেই সময় এলাকাগুলিতে লাগাতার সচেতনতামূলক শিবির সহমাইকিং ও পুলিশি নজরদারি করার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।ফের এই ধরনের ঘটনাতে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে এলাকায়।


