গোধরা কাণ্ডের প্রায় ১৭ বছর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই দাঙ্গার সঙ্গে কোনওভাবেই জড়িত নয় বলে ক্লিনচিটে উল্লেখ করেছে বিচারপতি জি.টি নানাবতী এবং অক্ষয় মেহতার কমিশন।
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
গোধরা কাণ্ডে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ক্লিনচিট দিল নানাবতী কমিশন। ২০০২ সালে গোধরা পরবর্তী গুজরাট দাঙ্গায় মোদিকে ক্লিনচিট দেওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ বুধবার গুজরাট বিধানসভায় পেশ হয় কমিশনের রিপোর্ট। ২০০২ সালে গোধরা পরবর্তী দাঙ্গার তদন্তে গঠিত নানাবতী কমিশন। সেই রিপোর্টেই বলা হয়েছে, দাঙ্গায় কোনও হাত ছিল না গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। তবে বেশ কিছু পুলিশ অফিসার যে দাঙ্গার সময় ‘নিষ্ক্রিয়’ ছিলেন সে কথা উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে। তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তের সুপারিশও করেছে কমিশন। গোধরা কাণ্ডের প্রায় ১৭ বছর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই দাঙ্গার সঙ্গে কোনওভাবেই জড়িত নয় বলে ক্লিনচিটে উল্লেখ করেছে বিচারপতি জি.টি নানাবতী এবং অক্ষয় মেহতার কমিশন। এর আগে ২০১৪ সালের ১৮ নভেম্বর গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী আনন্দীবেনের হাতে গোধরা কাণ্ডের চূড়ান্ত রিপোর্ট তুলে দেয় নানাবতী কমিশন। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে এই রিপোর্ট জমা দেয় কমিশন। ওই বছর নির্ধারিত সময়ে রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন বিচারপতি জি টি নানাবতী। পুরো রিপোর্ট তৈরি করতে মোট ২৪ বার সময়সীমা বাড়িয়েছিল কমিশন। রাজ্য সরকার রিপোর্টের চূড়ান্ত সময়সীমা দিয়েছিল ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর। কিন্তু সেই সময়ও পেরিয়ে যায়। পরে সুপ্রিম কোর্ট মামলার তদন্তকারী সংস্থা এবং আদালতকে এই মামলার রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেয়। অবশেষে এ দিন সেই রিপোর্ট জমা দেয় কমিশন। ২০০২ সালে গোধরায় ট্রেনে আগ্নিকাণ্ডে ৫৯ করসেবকের মৃত্যু হয়েছিল। তার পর থেকে গুজরাটের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় তিন দিন ধরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় নিহত হয়েছিলেন প্রায় ১০০০ জন। যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের। দাঙ্গায় তৎকালীন গুজরাট সরকার এবং তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে পরোক্ষ উস্কানি দেওয়া এবং নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু সেই সব অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে দাঙ্গার তদন্তে গঠিত নানাবতী কমিশন। অর্থাৎ দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে বা নিয়ন্ত্রণে গড়িমসির কোনও অভিযোগের প্রমাণই খুঁজে পায়নি কমিশন।


