‘গৌহাটি সিনে ক্লাবই আমার চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্তাকে গড়ে তুলেছে’: আরিবাম শ্যাম শর্মা

2 - মিনিট |

গুয়াহাটিতে ১৮তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের বর্ণাঢ্য সূচনা; ভূপেন হাজারিকা ও জুবিন গার্গকে উৎসর্গ করা হলো এবারের আসর

বিশ্বদীপ গুপ্ত

গুয়াহাটি। আঞ্চলিক, জাতীয় ও বিশ্ব চলচ্চিত্রের মেলবন্ধনে গুয়াহাটিতে শুরু হলো ১৮তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। গৌহাটি সিনে ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এই পাঁচ দিনব্যাপী উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় গুয়াহাটির কনকলাল বরুয়া প্রেক্ষাগৃহে। এবারের উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে জার্মানি, রাশিয়া, ইরান, শ্রীলঙ্কা, পর্তুগাল, ভিয়েতনাম, ব্রাজিল ও মন্টিনিগ্রোর চলচ্চিত্র। পাশাপাশি ইংরেজি, হিন্দি, অসমিয়া, বোড়ো, মণিপুরি এবং বাংলা ভাষার বাছাই করা ছবিও প্রদর্শিত হবে।

উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা আরিবাম শ্যাম শর্মা। বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চ অলঙ্কৃত করেন বিশিষ্ট নির্মাতা রজনী বসুমতারি। উৎসব কমিটির সভাপতি আবসার হাজরিকা এবং সম্পাদক মধুরিমা বরুয়ার উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তিন্নত আতিফা।

উদ্বোধনী ভাষণে আরিবাম শ্যাম শর্মা একটি সুস্থ চলচ্চিত্র পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সিনে ক্লাবের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমার চলচ্চিত্র জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার পেছনে গৌহাটি সিনে ক্লাবের বিশেষ অবদান রয়েছে। আশির দশকের শেষের দিকে এই ক্লাবই আমার বই প্রকাশ করেছিল, যা পরবর্তীতে চলচ্চিত্রে রূপ পায়।” তিনি এই ক্লাবের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বন্ধু তথা সহকর্মী প্রয়াত ড. ভবেন্দ্র নাথ শইকিয়া এবং জহ্নু বরুয়ার কথা পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রজনী বসুমতারি দীর্ঘকাল ধরে এই চলচ্চিত্র উৎসব সফলভাবে আয়োজন করার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের কাছে বিশ্বমানের চলচ্চিত্র পৌঁছে দেওয়ার এই প্রয়াস সত্যিই প্রশংসনীয়। অনুষ্ঠানে অসমের দুই সাংস্কৃতিক নক্ষত্র ড. ভূপেন হাজরিকা এবং জুবিন গর্গের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবারের উৎসবটি তাঁদের নামে উৎসর্গ করা হয়।

অনুষ্ঠানে কুশল দত্ত সংকলিত উৎসবের ‘ব্রোশিওর’ এবং গরিমা কলিতা ও মিফতাউদ্দিন আহমেদ সম্পাদিত বার্ষিক প্রকাশনা ‘চিত্রচিন্তা’ উন্মোচন করা হয়। আরিবাম শ্যাম শর্মার কালজয়ী ছবি ‘ঈশানো’ (Ishanou)-র মাধ্যমে ‘রেট্রোস্পেক্টিভ’ বিভাগের সূচনা হয়। এই বিভাগে তাঁর আরও দুটি চলচ্চিত্র ‘ইমাগি নিংথেম’ (Imagi Ningthem) এবং ‘সানাবি’ (Sanabi) প্রদর্শিত হবে।

এবারের উৎসবে অরূপ মান্নার পরিচালিত ‘সমর্পণ’-এর প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে। জুবিন গর্গের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন স্বরূপ প্রদর্শিত হবে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি ‘দীনবন্ধু’। উল্লেখ্য, মুনিন বরুয়া পরিচালিত এই ছবিতে জুবিন গার্গ মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করার পাশাপাশি সংগীত পরিচালনাও করেছিলেন। রজনী বসুমতারি পরিচালিত ‘গরাই ফাখরি’ (Gorai Phakhri) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি এই উৎসবের পর্দা নামবে। উৎসবের প্রতিটি প্রদর্শনীই কনকলাল বরুয়া প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত হবে।

Know More

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news