সিএএপিএইচটি ক্যাম্পাসে উদ্ভাবন ও আঞ্চলিক ঐক্যের বার্তা; গুরুত্ব পেল দুর্যোগ মোকাবিলাও
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
গ্যাংটক।উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন সুদৃঢ় করতে এবং তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করতে সিকিমের গ্যাংটকে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হলো ‘এনইআইআর ফেস্ট ২০২৬’ (NEIR Fest 2026)। গত মঙ্গলবার সেন্ট্রাল এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির অন্তর্গত গ্যাংটকের রাণিপুলে অবস্থিত কলেজ অফ এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি (CAEPHT) চত্বরে এই উৎসব পালিত হয়। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে কলেজের পড়ুয়া, শিক্ষক এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

উদ্বোধনী ভাষণ ও বিভিন্ন সেশনের মাধ্যমে উত্তর-পূর্বের আটটি রাজ্যের অভিন্ন ঐতিহ্য এবং সংহতির চিত্রটি ফুটে ওঠে। ক্যাম্পাসের পরিবেশে ছিল উৎসবের মেজাজ। বিভিন্ন রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে এক ক্ষুদ্র উত্তর-পূর্ব গড়ে তোলেন।
প্রথাগত শিক্ষার গণ্ডি ছাড়িয়ে নাচ, গান ও সৃজনশীল উপস্থাপনার মাধ্যমে তরুণ সমাজকে আঞ্চলিক উন্নয়নে উদ্বুদ্ধ করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনইআইআর (NEIR)-এর উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সুকোমল দেব, কেআরসি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা তথা এনইআইআর-এর সিইও বিশ্বদীপ গুপ্ত, বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ ও মানবাধিকার কর্মী খ. গজেন্দ্র সিং। এছাড়াও ত্রিপুরা হ্যাম রেডিও ক্লাবের ছয়জন সদস্য সহ বিশিষ্ট জনেরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কলেজের অধ্যাপক এস.আই যাদব আমন্ত্রিতদের স্বাগত জানান এবং ড. রাকেশ রায়না সহ অন্যান্য আধিকারিকরা এই মহতী উদ্যোগের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
উৎসবে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় দুর্যোগ মোকাবিলা বিষয়ক একটি বিশেষ অধিবেশন। প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সচেতনতা, দ্রুত যোগাযোগ এবং জনসচেতনতা কতখানি জরুরি, তা হাতেকলমে আলোচনা করা হয় এই অধিবেশনে। বিশেষ করে ত্রিপুরা হ্যাম রেডিও ক্লাবের সদস্যদের উপস্থিতি এই সেশনটিকে আরও ফলপ্রসূ করে তোলে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা বিশ্বদীপ গুপ্ত এনইআইআর-এর লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, “গত ৪ জানুয়ারি কলকাতায় এই যাত্রার সূচনা হয়েছিল। শিক্ষা ও সহযোগিতার মাধ্যমে উত্তর-পূর্বের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” তিনি আগামী দিনে এই কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও ব্যক্ত করেন।
অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের মতে, এই ধরণের উৎসব তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতিকে জানার সুযোগ করে দেয়। গতানুগতিক পাঠ্যবইয়ের বাইরে বেরিয়ে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও আঞ্চলিক সংহতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি একটি মাইলফলক। অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।



Promotional | North East Integration Rally



