ডিব্রুগড়ে হাইকোর্টের বেঞ্চ এবং দ্বিতীয় রাজধানী হলে শিলচরে নয় কেন

4 - মিনিট |

নির্বাচনের প্রাক্কালে বরাকের সমস্যা সমূহ সমাধান তথা বঞ্চনা বৈষম্য অবসানে সরকারের অবস্থান জানতে চাইল বিডিএফ

কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো

শিলচর : রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন দোরগোড়ায়। তাই বরাক উপত্যকার বিভিন্ন জ্বলন্ত সমস্যা সমাধানকল্পে সরকারি উদ্যোগ ,যার ভিত্তিতে ভোটাররা পরবর্তী সরকার নির্বাচন করবেন তা মনে করিয়ে এই ব্যাপারে শাসকদলের অবস্থান জানতে চাইল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।

এক প্রেস বার্তায় বিডিএফ মুখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় বলেন যে আগামী নির্বাচনের পরই বর্ষার মরশুম শুরু হবে। ফলে আবার বন্যার সমস্যা ও যোগাযোগের সমস্যা নিয়ে নাজেহাল হবার পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে বরাক বাসীর। তিনি বলেন ২০২২এর প্রলয়ঙ্করী বন্যার পর রাঙির খাল সহ শহর শিলচর ও করিমগঞ্জের খালগুলির সংস্কারের ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন অব্দি মাত্র ত্রিশ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।

নিম্নমানের কাজ হওয়ায় কিছু জায়গায় গার্ড ওয়াল ভেঙে পড়ছে। এছাড়া নদীবাধ তথা অকেজো স্লুইস গেটসমুহ পরিবর্তনে সরকারি ভূমিকা মোটেই আশাপ্রদ নয়।নমামি বরাকের সময় বরাক নদী খননের যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল সদিচ্ছার অভাবে তাতে তামাদি পড়েছে।তিনি আরো বলেন যে বর্ষার মরশুমে রেল ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হওয়া এই উপত্যকার বাৎসরিক ঘটনা। অথচ বিকল্প কোন ব্যাবস্থা গ্রহনে এযাবৎ ব্যর্থ সরকার।

তিনি বলেন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বিকল্প চন্দ্রনাথপুর লঙ্কা রেললাইনের কাজ শেষ করা জরুরী ছিল, অথচ সেই কাজ শুরুই হয়নি। পাচগ্রাম থেকে বড়াপানি অব্দি যে ছয় লেনের সড়কের কথা প্রচার করা হল তা নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীই কোন আশ্বাস দিতে পারেননি।

দীর্ঘ বাইশ বছর অপেক্ষার পর হয়তো মহাসড়কের কাজ জোড়াতালি দিয়ে শেষ হবে, কিন্তু ধ্বসপ্রবন ডিমা হাসাও জেলায় বর্ষার সময় তা কতটা কার্যকরী থাকবে তাঁতে প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন যেহেতু শিলচর একটি প্রান্তীয়, অনুন্নত শহর তাই বিডিএফ এর পক্ষ থেকে শিলচর গৌহাটি ও শিলচর কোলকাতা বিমান পরিষেবাকে কেন্দ্রীয় সরকারের উড়ান প্রকল্পের আওতায় এনে বিমানভাড়া সাধারণ যাত্রীদের নাগালে রাখার দাবি জানালেও তাতে কর্ণপাত করেনি সরকার ।

উল্টে শিলচর,আগরতলা বিমানপথে এমন একটি পরিষেবা চালু করা হয়েছে,যা মোটেই ততটা প্রয়োজনীয় নয়। শিলচর ইম্ফলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিমান পরিষেবাও বন্ধ। এছাড়া সংস্কারের পরও বদরপুরের গ্যামন সেতুর ভবিষ্যত নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন বরাক বাসী।

প্রদীপ দত্তরায় বলেন বন্যা এবং যোগাযোগ এই দুইটি সমস্যার সমাধান না হলে বরাক উপত্যকার প্রকৃত উন্নয়ন যে কখনই সম্ভব নয় এই ব্যাপারে নিশ্চিত বিডিএফ।

প্রদীপ দত্তরায় এদিন আরো বলেন যে শিলচরের প্রস্তাবিত এলিভেটেড করিডরের এখনো শিলান্যাস হয়নি। কাছাড় জেলায় প্রস্তাবিত মাল্টি মডেল লজিস্টিক পার্ক প্রকল্প নিয়ে সরকারের যে কোন সদিচ্ছা নয় তা স্পষ্ট। বিজেপির ২০২৫ অব্দি ভিশন ডকুমেন্টে শিলচর ও ডিব্রুগড়ে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ডিব্রুগড়ে বেঞ্চ স্থাপনের কথা মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন। কিন্তু শিলচরের ব্যাপারে কোন হেলদোল নেই।

তিনি আরো বলেন যে ইদানিং ডিব্রুগড় শহরকে দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবার ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু জনসংখ্যার দিক দিয়ে রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং গৌহাটি থেকে বহু দূরত্বে থাকা সত্ত্বেও শিলচর নিয়ে এমন কোন ভাবনা সরকারের আছে বলে বোঝা যায়নি, এমনকি মিনি সচিবালয়ের কাজও এখনো শেষ হয়নি।

বিডিএফ মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জয়দীপ ভট্টাচার্য এদিন বলেন যে বরাক উপত্যকা যে উন্নয়নে পিছিয়ে আছে তা সরকারিভাবে স্বীকার করে একটি পৃথক বরাক উন্নয়ন দপ্তর খোলা হয়েছে। এই উদ্যোগ অবশ্যই সাধুবাদ যোগ্য। কিন্তু বরাকের মূল সমস্যা যে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা তা নিয়ে কোন পরিকল্পিত উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

তিনি বলেন পাচগ্রাম কাগজ কলের পরিত্যক্ত জমিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তারপর থেকে এই ব্যাপারে কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। বরাক ও সংলগ্ন এলাকার পর্যাপ্ত বাঁশকে কাজে লাগিয়ে একাধিক ইথানল প্ল্যান্ট তৈরির সুযোগ ছিল, সুযোগ ছিল ছোট ছোট কাগজ কল তৈরির। কিন্তু তেমন কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।প্রাকৃতিক গ্যাস ভিত্তিক সিএনজি প্ল্যান্ট সহ অন্যান্য উদ্যোগ নিয়েও কোন পরিকল্পনা নেই।

এছাড়া কর্মসংস্থান এই উপত্যকার একটি জ্বলন্ত সমস্যা। উচ্চশিক্ষিত, স্বল্পশিক্ষিত কারুর জন্যই নিয়োগের সুবিধা নেই। বিডিএফ এর ক্রমাগত চাপেই হোক বা বোধোদয়ের জন্যই হোক সরকারি চাকরিতে ইদানিং বরাকের বেকারদের নিযুক্তি সামান্য বেড়েছে কিন্তু তা মোটেই পর্যাপ্ত নয়।

দরকার স্থানীয়দের জন্য এই অনুন্নত উপত্যকার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদ সংরক্ষণ। কিন্তু এই ব্যাপারে আসাম বিধানসভায় স্বীকৃত আইন থাকা সত্ত্বেও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। বেসরকারি ক্ষেত্রে নিয়োগের সম্ভাবনা সীমিত। তাই সার্বিক পরিস্থিতি হতাশা জনক।

বিডিএফ আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে বলেন যে বরাকের একমাত্র শিল্প বলতে যা রয়েছে সেই চা শিল্পের অবস্থাও শোচনীয়। অধিকাংশ চাবাগানই ধুঁকছে। বন্যা চা শিল্পের অবনতির একটি প্রধান কারণ। এছাড়া উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, পুঁজি বিনিয়োগের স্বল্পতা, পরিকাঠামোর অভাব ইত্যাদি কারনে বরাকের চাশিল্প খাদের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। এসবের প্রতি বিধানে সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজনীয়।অন্যথা অচিরেই অধিকাংশ মুমুর্ষু চাবাগান বন্ধ হবে।

কৃষির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। বন্যা এবং খরার মোকাবেলায় কোন পরিকল্পিত উদ্যোগ না থাকায় এবং সীমীত আয়ের জন্য কৃষকরা কৃষি ছেড়ে অন্য পেশা বেছে নিচ্ছেন। অধিক উৎপাদনশীল এবং বিকল্প কৃষি পন্য উৎপাদনে উৎসাহিত ও সহায়তা করা উচিত ছিল সরকারি তরফে। দরকার ছিল বন্যা ও খরা মোকাবেলায় পরিকাঠামো উন্নয়ন। কিন্তু সেসব মোটেই পর্যাপ্ত নয়।

হৃষীকেশ আরো বলেন যে বরাকের দীর্ঘদিনের দাবি ‘ ভাষা শহিদ স্টেশন ‘ নামকরণ নিয়ে সরকারি টালবাহানা অব্যাহত। প্রস্তাবিত প্রকল্পের মধ্যে বিবেকানন্দ সংস্কৃতি কেন্দ্রের জমি বরাদ্দ হওয়া সত্ত্বেও কাজ এগোয়নি। বরাকের পর্যটনের উন্নয়নে প্রস্তাবিত ভুবন পাহাড়ের সংস্কার সহ রোপওয়ে তৈরির প্রকল্প, চিড়িয়াখানা, সায়েন্স মিউজিয়াম ইত্যাদি সবই খাতায় কলমে রয়ে গেছে। বাস্তবায়নের কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ইদানিং একটি ঘোষনা করা হয়েছে। তবে দরকার দ্রুতগতিতে বাস্তবায়ন।

বিডিএফ সদস্যরা এদিন বলেন যে ইতিমধ্যে বরাকের উপর নবনির্মিত সেতু, আভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাটের উন্নয়ন সহ যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সেসবের জন্য অবশ্যই সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন তারা। কিন্তু আগামী নির্বাচনের আগে উপরোক্ত এই সমস্ত ব্যাপারে বর্তমান সরকারের অবস্থান জানতে চান তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য সেই ভিত্তিতেই জনগনকে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহবান জানাবেন তাঁরা।

বিডিএফ এর পক্ষ থেকে আহ্বায়ক দেবায়ন দেব এক প্রেস বার্তায় এই খবর জানিয়েছেন।

Promotional | North East Integration Rally

Stay connected with the biggest action oriented movement of North East India – connecting, uniting, working for Peace, Progress and Prosperity of North East India. Know More – Connect with Us

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news