দাবি পূরণ না হলে আগামীতে পরিস্থিতি হবে আরও ভয়াবহ, বৃহস্পতিবারের আন্দোলন নিছক মহড়া: কর্মচারী ফেডারেশন

2 - মিনিট |

মিক আইনগুলোকে সংকুচিত করে কর্মচারীদের অধিকার হরণের যে চক্রান্ত চলছে, তার বিরুদ্ধেই আজ দেশজুড়ে এই গণজাগরণ

কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো

শিলচর : বিদ্যমান সমস্ত শ্রম আইন বাতিল করে সেগুলোকে কেবল চারটি ‘লেবার কোড’-এ রূপান্তরিত করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশজুড়ে গর্জে উঠলেন শ্রমিক ও কর্মচারীরা। সেই কেন্দ্রীয় আহ্বানে সাড়া দিয়ে বৃহস্পতিবার শিলচরসহ গোটা বরাক উপত্যকার সরকারি কার্যালয়গুলোতে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালিত হয়। সারা অসম কর্মচারী ফেডারেশনের দাবি, রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত নৈতিক সমর্থন থাকায় এই ধর্মঘট এক অনন্য সাধারণ রূপ নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেডারেশনের শিলচর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ পাল চৌধুরী আন্দোলনের রূপরেখা ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এনপিএস (NPS) ও ইউপিএস (UPS) বাতিল করে অবিলম্বে পুরোনো পেনশন নীতি বা ওপিএস (OPS) ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্যথায় এই আন্দোলন আরও তীব্রতর হবে। হুঙ্কার ছেড়ে তিনি বলেন, “আজকের এই আন্দোলন ছিল নিছকই একটি মহড়া।

সরকার যদি তাদের হঠকারী সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তবে আগামীতে আন্দোলনের আকার হবে আরও মারাত্মক।” তিনি আরও জানান, নিজেদের অধিকার আদায়ে আগামী নভেম্বর মাসে দিল্লির সংসদ ভবন ঘেরাও করার এক বৃহৎ কর্মসূচি ইতিমধ্যে হাতে নেওয়া হয়েছে। মেহনতী মানুষ ও শিক্ষক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের এই ‘ফ্যাসিস্ট’ মনোভাবের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাবে।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিশ্বজিৎ পাল চৌধুরী বলেন, ১০ দফা দাবির ভিত্তিতে ‘সারা ভারত রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন’ এবং আরও দশটি শ্রমিক সংগঠনের যৌথ আহ্বানে আজকের এই ধর্মঘট সফল হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত দেশে মোট ২৪টি ধর্মঘট হয়েছে, যার মধ্যে বর্তমান মোদি সরকারের আমলেই এটি ১২তম। তাঁর মতে, এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট সরকারের বিরুদ্ধে নয়, বরং দীর্ঘদিনের শ্রমিক ও কর্মচারী শোষণ নীতির বিরুদ্ধেই এক সোচ্চার প্রতিবাদ।

ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, গত ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত ধর্মঘটের পরও সরকারের চৈতন্যোদয় হয়নি। শ্রমিক আইনগুলোকে সংকুচিত করে কর্মচারীদের অধিকার হরণের যে চক্রান্ত চলছে, তার বিরুদ্ধেই আজ দেশজুড়ে এই গণজাগরণ। কর্মচারী সংগঠনের দাবি, সরকার যদি দ্রুত নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন না করে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সূত্র না খোঁজে, তবে আগামী দিনে এর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়ংকর।

এ দিনের সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ দাস, বিপ্লব দাস, সুপ্তা দাস, আলিফ খান লস্কর, রূপা দেওয়ানজি, আশু তাঁতি, গিয়াস উদ্দিন খান ও মুসলে উদ্দিন বড়ভূঁইয়া প্রমুখ। উপস্থিত সকল সদস্যই আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে আগামী দিনের বৃহত্তর লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news