বরাকের লোকনৃত্যে নতুন মাত্রা যোগ করল অভিনব চিত্র প্রদর্শনী
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর : বরাক উপত্যকার সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ঐতিহ্যবাহী ধামাইল নৃত্য। এই প্রাচীন নৃত্যশৈলীকে এবার এক নতুন শিল্পভাষায়, চিত্রকলার মাধ্যমে, তুলে ধরার এক অভিনব প্রয়াস দেখা গেল শিলচরে। সম্মিলিত লোক মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত ধামাইল নৃত্য প্রতিযোগিতার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ধামাইল-ভিত্তিক এক বিশেষ চিত্র প্রদর্শনী, যা শনিবার শিলচরের শিশু উদ্যানে দর্শকদের বিপুলভাবে আকৃষ্ট করেছে।
বরাক উপত্যকায় ধামাইল নৃত্য ও লোকসংগীতের চর্চা সুপ্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের ধারায় এক নতুন সংযোজন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এই ধামাইল চিত্র প্রদর্শনী। ‘দ্য গ্রুপ অব কালার্স’-এর সম্পাদক ও চিত্রশিল্পী গৌরশঙ্কর নাথের দীর্ঘদিনের ভাবনা ছিল ধামাইলকে ক্যানভাসে তুলে ধরার। প্রায় এক বছর আগে তিনি এই প্রস্তাব সম্মিলিত লোকমঞ্চের সাংস্কৃতিক সম্পাদক কানাই দাসের কাছে পেশ করেন। পরবর্তীতে লোকমঞ্চের কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পর এই ব্যতিক্রমী প্রদর্শনীর আয়োজন চূড়ান্ত হয়।

প্রদর্শনী আয়োজক ‘দ্য গ্রুপ অব কালার্স’-এর সম্পাদক গৌরশঙ্কর নাথ জানান, ধামাইলের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পরূপকে আরও বৃহত্তর পরিসরে সাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে ভবিষ্যতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এই চিত্র প্রদর্শনী নিয়ে যাওয়ার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। প্রদর্শনী আয়োজনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর বরাক উপত্যকা এবং বাইরের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পীদের কাছে ধামাইল-ভিত্তিক চিত্র অঙ্কনের আহ্বান জানানো হয়।
সম্মিলিত লোকমঞ্চ এই প্রস্তাবকে সাদরে গ্রহণ করে এবং শিশু উদ্যানে একটি অস্থায়ী প্রদর্শনী কক্ষ নির্মাণে সর্বাত্মক সহায়তা করে। গত ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর ধামাইল নৃত্য প্রতিযোগিতার সঙ্গেই এই চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
প্রায় এক মাস ধরে শিল্পীরা নিবিড় অধ্যবসায়ে ধামাইলের বিভিন্ন অনুষঙ্গ নিয়ে কাজ করেছেন, তাঁদের সৃজনশীল প্রতিভার স্ফুরণ ঘটিয়ে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছেন এই লোকনৃত্যের বিচিত্র রূপ। জলধামাইল, বিবাহ-অনুষঙ্গের ধামাইল, প্রাকৃতিক প্রেক্ষাপটে ধামাইল নৃত্য, এমনকি মঞ্চের ধামাইল নৃত্যের সূক্ষ্ম কলাকৌশল—অ্যাক্রেলিক রঙের মাধুর্যে প্রতিটি চিত্রেই ধামাইলের প্রাণবন্ততা অসাধারণ মুন্সিয়ানায় ধরা পড়েছে।
প্রদর্শনী প্রসঙ্গে শ্রীভূমির বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ও সাহিত্যিক বিষ্ণুপদ দাস বলেন, ‘ধামাইল নৃত্য ও পোশাকে যে শালীনতা ও পরিশীলতা বজায় থাকে, শিল্পীরা তাঁদের ছবিতে তা অত্যন্ত সুচারুভাবে প্রতিফলিত করেছেন। এটি সত্যিই প্রশংসনীয়।’
এই বিশেষ প্রদর্শনীতে বরাক উপত্যকা ও বাইরের মোট কুড়িজন শিল্পী তাঁদের তুলির জাদু দেখিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— গৌরশঙ্কর নাথ (শিলচর), সিদ্ধার্থ দাস (শ্রীভূমি), প্রণীত দে (শ্রীভূমি), মৌমিতা চ্যাটার্জী (কলকাতা), অপর্ণা নাথ (শিলচর), অমিতা দে শীল (শিলচর), অঙ্কিতা দাস (শিলচর), তপতী নাথ (শিলচর), মৌ দাস (শালগঙ্গা, উধারবন্দ), বিপ্রপ্রতিম ভট্টাচার্য (শিলচর), ওম শান্তি নাথ (শিলচর), বাপন দাস (শিলচর), বুবন দাস (শ্রীভূমি), বিষ্ণুপদ দাস (শ্রীভূমি), আঞ্জুমান বড়ভুইয়া (শিলচর), আরশিকা রায় (শিলচর), অমিতাভ চৌধুরী (শ্রীভূমি), বিশাল দাস (শিলচর), দিব্যজ্যোতি বণিক নর্থ (লক্ষীপুর) এবং অনুপ কুমার বড়ভঁূইয়া (বদরপুর)।


