মন্ত্রী কৌশিক রায় লোকসংস্কৃতি রক্ষায় আয়োজক সংস্থা দুটির এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানান
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর : বরাক উপত্যকার লোকসংস্কৃতির অন্যতম অঙ্গ ধামাইল নৃত্যকে বিশ্বের আঙিনায় পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। রবিবার লক্ষ্মীপুর সমজেলা ভিত্তিক সমবেত ধামাইল নৃত্য ও ‘ধামাইল কন্যা প্রতিযোগিতার সমাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই ঘোষণা দেন অসমের বরাক উপত্যকা উন্নয়ন মন্ত্রী কৌশিক রায়।
শিলচরের ‘সম্মিলিত লোক পরিষদ এবং ফুলেরতলের ‘সরগম শিল্পী সংঘ-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি ফুলেরতল মাল্টিপার্পাস হলে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী কৌশিক রায় তাঁর ভাষণে বলেন, “অসম সরকার যেভাবে বিহু এবং ঝুমুর নৃত্যকে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিষ্ঠিত করেছে, ঠিক সেভাবেই ধামাইল নৃত্যকেও বিশ্বদরবারে তুলে ধরা হবে। অত্যন্ত শীঘ্রই অসমে বৃহৎ পরিসরে একটি ধামাইল উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।” তিনি লোকসংস্কৃতি রক্ষায় আয়োজক সংস্থা দুটির এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর পুরসভার পুরপতি মৃণালকান্তি দাস। তিনি বলেন, নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের। স্বাগত ভাষণে সম্মিলিত লোক পরিষদের সভাপতি ড. অনুপ কুমার রায় জানান, ধামাইল নৃত্যের ঐতিহ্যগত সংরক্ষণ ও প্রচারই তাঁদের মূল লক্ষ্য। লোকসংস্কৃতির প্রতি সচেতনতা বাড়াতেই শহরের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রামীণ এলাকায় এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
এদিনের প্রতিযোগিতায় মোট আটটি দল অংশগ্রহণ করে। এ ছাড়াও ‘মিতালীজ গ্রুপ’ ও আয়োজক সংস্থার শিল্পীরা দুটি প্রদর্শনীমূলক ধামাইল নৃত্য পরিবেশন করেন।
‘সমবেত ধামাইল নৃত্য’ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে ‘নৃত্যাঙ্গন ধামাইল সংস্থা’। দ্বিতীয় হয়েছে ‘শ্রীদুর্গা ধামাইল সংঘ’ এবং তৃতীয় স্থান লাভ করে ‘বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন’-এর লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক কমিটি। বিজয়ীদের হাতে স্মারক, শংসাপত্র এবং নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
‘ধামাইল কন্যা’ প্রতিযোগিতায় ঈশিতা রাউত প্রথম, জয়া তালুকদার দ্বিতীয় এবং রুমা দাস তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন হাইলাকান্দি সংগীত বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মিতালী চক্রবর্তী এবং শিলচর শ্রুতিনন্দন সংগীত মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সুমিতা চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শুরুতে ওস্তাদ শুক্কুর আলী মজুমদারের সানাইয়ের মঙ্গলধ্বনিতে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়। যন্ত্রসংগীতে সঙ্গত করেন মনোরঞ্জন মালাকার, শ্রীবাস সূত্রধর ও চন্দ্রশেখর দাস ।
বিপ্লব বিশ্বাসের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত লোক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনোরঞ্জন মালাকার, প্রচার সম্পাদক কমলেশ দাশ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রদীপ চক্রবর্তী এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। সরগম শিল্পী সংঘের সভাপতি সিয়ারাম যাদব সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
Promotional | North East Integration Rally




