প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে এই প্রকল্প গড়ে তুলবে আদানি পাওয়ার
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
গুয়াহাটি: রাজ্যের বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে বড়সড় পদক্ষেপ করতে চলেছে অসম। ধুবড়ি জেলার চাপরে তৈরি হতে চলেছে ৩২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার অতি উচ্চচাপযুক্ত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে এই প্রকল্প গড়ে তুলবে আদানি পাওয়ার। রবিবার চাপরে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে।
চারটি ৮০০ মেগাওয়াটের ইউনিট নিয়ে তৈরি হবে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রায় ৫৮৫ হেক্টর জমির উপর প্রকল্পটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারি ও ব্যক্তিগত—দুই ধরনের জমিই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে বলে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কমিটির কাছে জমা দেওয়া নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এত বড় প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হল অসমের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো। বর্তমানে রাজ্যের বিদ্যুতের চাহিদার একটি অংশ বাইরের রাজ্য থেকে বিদ্যুৎ কিনে মেটাতে হয়। চাপরের এই প্রকল্প চালু হলে সেই নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি রাজ্যের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়বে বলে মনে করছে সরকার।
প্রকল্পকে ঘিরে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও রয়েছে। অসম সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণপর্বে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর স্থায়ী ও অন্যান্য কাজ মিলিয়ে আরও পাঁচ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করলেই হবে না। উৎপাদিত বিদ্যুৎ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন হবে শক্তিশালী সঞ্চালন ব্যবস্থা। সেই পরিকাঠামো তৈরির কাজও শুরু করেছে অসম বিদ্যুৎ গ্রিড নিগম লিমিটেড।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাপর থেকে রাঙিয়া পর্যন্ত ৪০০ কিলোভোল্টের একটি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন তৈরি করা হবে। এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় উপকেন্দ্রও গড়ে তোলা হবে। ৩২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর তা যাতে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে রাজ্যের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় যুক্ত করা যায়, সেই লক্ষ্যেই এই পরিকাঠামো তৈরির উদ্যোগ।
অসম সরকারের কাছে চাপরের প্রকল্প তাই শুধু একটি নতুন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়। রাজ্যের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও স্বনির্ভর করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এটিকে দেখা হচ্ছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অসমের বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে ধুবড়ি ও আশপাশের এলাকায় শিল্প, পরিবহণ, নির্মাণ এবং পরিষেবা খাতেও নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৪৮ হাজার কোটি টাকার এই বিনিয়োগ এবং ৩২০০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা—দুই মিলিয়ে চাপরের প্রকল্প আগামী দিনে অসমের বিদ্যুৎ মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হয়ে উঠতে পারে।


