আলোচনা পর্বের শেষপর্যায়ে ইউএনসি-র নেতৃবৃন্দকে সকল সম্প্রদায় বা জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং পারস্পরিক ভালোবাসা ও বোঝাপড়ার বার্তা উপত্যকার জনগণের কাছে পৌঁছাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল এবং শান্তি প্ৰক্ৰিয়ার মধ্যস্থতাকারী আরএন রবি।
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
কেন্দ্ৰ-এনএসসিএন (আইএম)-এর সঙ্গে বহুচর্চিত নাগা শান্তিচুক্তি এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে আসেনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একান্ত আগ্রহে আজ শুক্রবার রাজধানী কোহিমায় প্রস্তাবিত নাগা শান্তিচুক্তি সম্পর্কে সর্বস্তরের অংশীদার এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলকে অবগত করতে কেন্দ্ৰীয় সরকারের প্ৰতিনিধি তথা নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল এবং নাগা শান্তি প্ৰক্ৰিয়ার মধ্যস্থতাকারী আরএন রবি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন মণিপুর-ভিত্তিক ইউনাইডেটেড নাগা কাউন্সিল (ইউএনসি), মণিপুরে বসবাসকারী নাগা জনগোষ্ঠীয় বিভিন্ন বিদ্বৎ সমাজ ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের বিশিষ্টজনেরা।
আজকের আলোচনাসভায় সংশ্লিষ্টদের নাগা শান্তি আলোচনার সর্বশেষ পরিস্থিতি তথা নাগা নেতৃবর্গের সঙ্গে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত করেছেন রাজ্যপাল রবি। তিনি সকল মহলকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, প্রতিবেশী রাজ্যগুলির ভৌগলিক অবস্থানের কোনও পরিবর্তন না করে, রাজনৈতিক এবং সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে সর্বসম্মতভাবে শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হবে। কারোর মনে বা কোনও জাতিকে অগ্রাহ্য করার উদ্দেশ্য সরকারের নেই। এছাড়া পাহাড়ি ও সমতলের সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে পরম্পরাগত সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে তার প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি নিয়ে এগোচ্ছে কেন্দ্র। যুক্তি দিয়ে রাজ্যপাল অংশীদারদের বুঝিয়েছেন, কাউকে আঘাত করে নাগা সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁর ভাষায়, আক্ষরিক অর্থে নাগা রাজনৈতিক সমস্যাগুলি বিচ্ছিন্নভাবে সমাধান করা যাবে না। স্টেকহোল্ডারকে না নিয়ে যথার্থ যুক্তিসম্পন্ন এবং গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তেও পৌঁছনো যাবে না।
আলোচনা পর্বের শেষপর্যায়ে ইউএনসি-র নেতৃবৃন্দকে সকল সম্প্রদায় বা জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং পারস্পরিক ভালোবাসা ও বোঝাপড়ার বার্তা উপত্যকার জনগণের কাছে পৌঁছাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল এবং শান্তি প্ৰক্ৰিয়ার মধ্যস্থতাকারী আরএন রবি।
প্রসঙ্গত, এনএসসিএন (ইশাক-মুইভা / আইএম)-এর সঙ্গে গত ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তদানীন্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিঙের উপস্থিতিতে ভারত সরকারের এক ‘প্রারম্ভিক চুক্তি’ (ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেদিনের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন এনএসসিএন-এর তদানীন্তন চেয়ারম্যান ইশাক চিশি স্যু (২০১৬ সালের ২৮ জুন প্রয়াত) এবং সাধারণ সম্পাদক থুইঙ্গালেং মুইভা। স্বাক্ষরিত ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্টে নাগাল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও মূলত চুক্তিতে কী রয়েছে তা আজও সর্বসমক্ষে আনা হয়নি। এতে কী আছে, তাকে কেন্দ্র করে নাগাল্যান্ডের বিভিন্ন মহলের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী মণিপুর, অরুণাচাল প্রদেশ এবং অসমের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
এরই মধ্যে গত ৩১ অক্টোবর সকাল ১১-টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে এনএসসিএন (আইএম) গোষ্ঠীর নাগাল্যান্ডে পৃথক পতাকা ও পৃথক সংবিধানের দাবিতে অনুমোদনের পাশাপাশি অরুণাচল প্ৰদেশ, মণিপুর, অসম এবং পশ্চিম মায়ানমারের সাগাইঙিকে অন্তর্ভুক্ত করে গ্রেটার নগালিম গঠন করা হয়েছে বলে এক খবর চাউর হলে জ্বলে উঠে মণিপুর। এদিকে এই খবর চাউর হলে সেদিনই ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এক বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছিল, এনএসসিএন (আইএম)-এর সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে বলে যে খবর সম্প্রচারিত হচ্ছে তা নিছক ‘উড়ো খবর এবং অশুদ্ধ। এ ধরনের খবর প্রকাশের ফলে দেশের কিছু অংশে উৎকণ্ঠা এবং উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। চূড়ান্ত চুক্তির আগে নাগা জনগোষ্ঠীয় সব সংগঠন ও বিদ্বৎ সমাজের পাশাপাশি অসম, মণিপুর এবং অরুণাচল প্ৰদেশ-সহ সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের মতামত নেওয়া হবে।’


