বরাক উপত্যকায় উন্নয়নের নয়া দিগন্ত

2 - মিনিট |

শিলচরে ২৪ হাজার কোটির প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন প্রধানমন্ত্রী

কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো

শিলচর। দীর্ঘদিনের অবহেলা আর বঞ্চনার আক্ষেপ মুছে দিয়ে বরাক উপত্যকায় উন্নয়নের এক নতুন সূর্যোদয় ঘটালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার শিলচরের রামনগর বাইপাসে আয়োজিত এক ঐতিহাসিক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বরাক উপত্যকার জন্য মোট ২৪,২০৫ কোটি টাকার তিনটি মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস এবং কৃষি মহাবিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেন। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানটি উপত্যকার ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকল।

এদিন অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘হাইস্পিড গ্রিনফিল্ড করিডোর’-এর শিলান্যাস। মেঘালয়ের উমিয়াম থেকে পাঁচগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত এই চার লেনের সড়কটি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম গ্রিনফিল্ড রোড। মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, এই সড়ক নির্মিত হলে শিলচর থেকে গুয়াহাটির দূরত্ব কমে দাঁড়াবে ২৫২ কিলোমিটারে, যা অতিক্রম করতে সময় লাগবে মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টা।

কেন্দ্র সরকার এই প্রকল্পের জন্য ২২,৮৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এছাড়া শিলচর শহরের যানজট নিরসনে বহুল প্রতীক্ষিত এলিভেটেড করিডর এবং পাথারকান্দিতে কৃষি মহাবিদ্যালয়ের শিলান্যাসও সম্পন্ন করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “এক সময় বরাক উপত্যকা অবহেলিত ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বরাক-ব্রহ্মপুত্র-পাহাড়-সমতলকে সমদৃষ্টিতে দেখে উন্নয়নের কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বরাকের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা করল।

” মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, শ্রীরামপুর থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত করিডর নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার ফলে শিলচর থেকে শিলিগুড়ি যাতায়াত মাত্র ১০ ঘণ্টায় সম্ভব হবে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার সংকল্পে অসম দেশের অন্যতম শক্তিশালী রাজ্যে পরিণত হবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।

বরাকবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ডলু গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বড় খবর দেন। তিনি জানান, এই বিমানবন্দরের জন্য রাজ্য সরকার পরিবেশগত ছাড়পত্র লাভ করেছে এবং শীঘ্রই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এ ছাড়াও গুয়াহাটি রিং রোড (৮ হাজার কোটি), কাজিরাঙ্গা এলিভেটেড করিডোর (৬ হাজার কোটি) এবং নুমালিগড়-গহপুর সুড়ঙ্গ পথ (২০ হাজার কোটি) নির্মাণের মাধ্যমে অসমে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রকৃতি ও জনস্রোতের ‘মোদি ম্যাজিক’ শুক্রবারের প্রবল বৃষ্টি আর শনিবার সকালের মেঘলা আকাশ আয়োজকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন ‘মোদি ম্যাজিক’-এর সাক্ষী থাকল শিলচর। বেলা এগারোটা নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণের আগেই মেঘ চিরে রোদ ওঠে, যা সমর্থকদের মধ্যে এক নতুন উন্মাদনা সৃষ্টি করে।

উপস্থিত জনতা স্লোগান দেন— ‘মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়’। কাদা-জল উপেক্ষা করে অম্বিকাপুর ও রামনগর বাইপাস এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। প্রধানমন্ত্রী ফিরে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরও মানুষের ভিড় কমেনি।

এদিনের ঐতিহাসিক মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল, রাজ্যের মন্ত্রী কৌশিক রায়, কৃষ্ণেন্দু পাল, সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য, কৃপানাথ মালা, কণাদ পুরকায়স্থ, বিধায়ক মিহিরকান্তি সোম, বিজয় মালাকার, কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ, দীপায়ন চক্রবর্তী ও করিম উদ্দিন বড়ভূঁইয়া প্রমুখ।

শিলচরের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে বরাক উপত্যকাকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

Know More

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news