বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির আহ্বান বিডিএফ-এর
অজিত দাস
শিলচর : বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে জেলাশাসকের মারফত স্মারক পত্র পাঠাল বিডিএফ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চূড়ান্ত অবনতি ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবিতে স্মারকলিপি প্রেরণ করল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।
এদিন শিলচর জেলাশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বিডিএফ এর এক প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে লিখিত একটি স্মারকলিপি জেলাশাসকের/ প্রতিনিধির হাতে তুলে দেন। এছাড়া বিডিএফ এর তরফে এই স্মারক লিপি এবং প্রতিলিপি মেইলযোগে প্রধান মন্ত্রী সহ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রী তথা আসামের মুখ্যমন্ত্রীকেও পাঠানো হয়।
পরে জেলাশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সম্মুখে বিডিএফ মুখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় বলেন, তাঁরা এই স্মারকলিপির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রায় দু’কোটি হিন্দু সহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অবিলম্বে মুখ খোলার দাবি জানিয়েছেন।
এছাড়া তাঁরা ভারত সরকারের তরফে রাস্ট্রসংঘ এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থার উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি তথা সক্রিয় আন্তর্জাতিক জনমত তৈরি করে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কার্যকরী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেবারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তিনি বলেন, এই বিষয়ে সরকারের নীরব ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ ইউনিস সরকার বাংলাদেশের দায়িত্ব নেবার পর থেকে এখন অব্দি দু’হাজারের উপর সংখ্যালঘু, বিশেষতঃ হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। চিন্ময় প্রভুর মতো ধর্মীয় নেতাকে গত ছ’মাস ধরে বিনাদোষে জেলে আটকে রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে একাংশ জনগনের মধ্যে সন্দেহ উদ্রেক হচ্ছে যে হয় হিন্দু নির্যাতনের ইস্যুতে কাজে লাগিয়ে বিজেপি সরকার এদেশে ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত করার জন্যই এই ব্যাপারে নিস্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে অথবা বাঙালি হিন্দুদের প্রতি এই সরকারের কোন সহানুভূতি নেই।
বিডিএফ আহ্বায়ক আইনুল হক মজুমদার এদিন বলেন যে বিগত কয়েকদিনে বাংলাদেশের উগ্র মৌলবাদীরা যেভাবে ধর্মীয় মৌলবাদ ও ভারত বিরোধিতার নামে সারা দেশে তান্ডব চালিয়েছে তা ভয়াবহ। দেশের স্বাধীনতার প্রতীক ও ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন স্মারক ও প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার চেষ্টা নেওয়া হয়েছে। দেশের নামী সংবাত্র কার্যালয়েও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
ইসলাম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় নিরীহ পোষাক শিল্প শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে,টেনে, পিটিয়ে,প্রকাশ্যে হাজার লোকের সামনে জীবন্ত অগ্নিদগ্ধ করে মারা হয়েছে। তিনি বলেন,মহম্মদ ইউনিসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী কালীন সরকার হয় এই উন্মত্ততাকে প্রতিহত করতে ব্যর্থ অথবা ব্যাক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে এসবের বিরুদ্ধে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।



