আজ মৃতদেহ মেডিক্যালে রাখা হবে,কাল সকাল ৯টায় বাড়িতে নিয়ে আসা হবে
অজিত দাস
শিলচর : অসমে ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যতম স্থপতি, দলের প্রাণপুরুষ বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কবীন্দ্র পুরকায়স্থ দেহবসান । টানা ষোল দিন ছিলেন শিলচর মেডিক্যালের আইসিইউতে। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে বুধবার সন্ধ্যা ৫টা ৬ মিনিটে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার শিলচর শশ্মানঘাটে প্রয়াত কবীন্দ্র পুরকায়স্থের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। সকাল নয়টায় কাছাড় জেলা বিজেপির কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
এরপর দুপুর বারোটায় শোক মিছিল করে নিয়ে যাওয়া হবে জেলা ক্রীড়া সংস্থার ময়দানে। সেখানে আত্মীয়- স্বজন, শুভানুধ্যায়ী, গুণমুগ্ধ সহ দলমত নির্বিশেষে সবাই প্রয়াত এই জননেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। দীর্ঘ দিন রোগ ভোগের পর শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন পুত্র, পুত্র বধু,নাতনি ও নাতনি জামাই সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী। এদিন তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিজেপি দল সহ বিভিন্ন মহলে শোকের আবহ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য যে, কবীন্দ্র পুরকায়স্থ ভারতীয় জনতা পার্টির একজন সিনিয়র নেতা এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা উত্তর পূর্ব ভারতে বিজেপির অন্যতম স্থপতি । তিনি ১৯৩১ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সিলেট জেলার কামারখালে জন্মগ্রহণ করেন ।তিনি ১৯৭৪ সালে গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ এবং ১৯৬৮ সালে বিটি ডিগ্রি অর্জন করেন ।
এর আগে শিলচরের জিসি কলেজ থেকে আইএসসি এবং বিএ সম্পন্ন করেন । রাজনীতিতে আসার আগে তিনি একজন শিক্ষক ছিলেন এবং একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন । তিনি ১৯৮০ সালে বিজেপির প্রতিষ্ঠাতাকালীন সদস্য হিসেবে যোগ দেন । ১৯৫১ সাল থেকে তিনি আরএসএস এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ।
তিনি তিনবার আসামের শিলচর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন ১৯৯১, ১৯৯৮ এবং ২০০৯ সালে । ১৯৯৮ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকারে তিনি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ।২০০৯ সালে, তিনি পঞ্চদশ লোকসভায় নির্বাচিত হন, শিলচর থেকে কংগ্রেস- এর হেভিওয়েট প্রার্থী সন্তোষ মোহন দেব এবং এ আই ইউ ডি এফের বদরুদ্দিন আজমলকে পরাজিত করেন।
কিন্তু ২০১৪ সালের এলএস-নির্বাচনে, মোদী-তরঙ্গ তার পক্ষে থাকা সত্ত্বেও সন্তোষ মোহন দেবের কন্যা সুস্মিতা দেব (আইএনসি) এর কাছে তিনি পরাজিত হয়েছেন।২০২৫ সালের জুন মাসে তার ছেলে কনাদ পুরকায়স্থ আসাম থেকে রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ।
কবীন্দ্র পুরকায়স্থকে বর্তমানে আসাম বিজেপির একজন পথপ্রদর্শক এবং প্রবীণ অভিভাবক হিসেবে গণ্য করা হয় । তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করা হয় । এদিকে জানা গেছে, প্রয়াত কবীন্দ্র পুরকায়স্থের পুত্র রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ গুরুত্বপূর্ণ কামত এইদিনা কলকাতাত আছিল। পিতৃর মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি কলকাতা থেকে গুয়াহাটি হয়ে শিলচরে আসেন । মৃতদেহ আজ রাত্র মেডিকেল কলেজে রাখা হবে এবং আগামীকাল সকাল ৯ টায় বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে
Promotional | North East Integration Rally




