বিজ্ঞান কেবল তথ্যের সমষ্টি নয়, এটি একটি সুসংগঠিত চিন্তাপদ্ধতি : ড. সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর৷ বিজ্ঞানচর্চাকে জনমানসে ছড়িয়ে দিতে এবং একটি বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে শিলচরে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করল ‘ব্রেকথ্রু সায়েন্স সোসাইটি’। বৃহস্পতিবার শিলচরের পার্ক রোডস্থিত মধ্যসহর সাংস্কৃতিক সংস্থার সভাকক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শান্তি স্বরূপ ভাটনাগর পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
আইআইএসইআর (IISER) কলকাতার প্রাক্তন অধিকর্তা তথা ব্রেকথ্রু সায়েন্স সোসাইটির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ড. বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বিজ্ঞানমনস্কতা কী এবং তা কীভাবে গড়ে তোলা যায়’—এই বিষয়ের ওপর অত্যন্ত তথ্যসমৃদ্ধ ও দিকনির্দেশক বক্তব্য পেশ করেন। তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞান কেবল কিছু তথ্যের সমষ্টি নয়; এটি আসলে একটি সুসংগঠিত চিন্তাপদ্ধতি। বিজ্ঞান আমাদের অন্ধভাবে কিছু বিশ্বাস না করে প্রশ্ন করতে এবং যুক্তি দিয়ে বিচার করতে শেখায়।’
আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বিবর্তন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিশিষ্ট এই বিজ্ঞানী উল্লেখ করেন যে, অতীতে মানুষ কেবল প্রথা, বিশ্বাস বা প্রচলিত মতামতের ওপর ভিত্তি করেই সত্য নির্ধারণ করত। যাচাই করার কোনও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি তখন প্রচলিত ছিল না। বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলিই প্রথম ‘নিরপেক্ষ’ বা ‘অবজেক্টিভ’ চিন্তাপদ্ধতির সূচনা করেছিলেন। গ্যালিলিও শিখিয়েছিলেন যে, কোনও তত্ত্ব গ্রহণ করার আগে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে তার সত্যতা যাচাই করা অপরিহার্য। সত্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা কর্তৃত্ব নয়, বরং অকাট্য যুক্তি ও প্রমাণই বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি।
ড. বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে প্লেটোর দর্শনের উদাহরণ টেনে বলেন, প্লেটো মনে করতেন বস্তুজগৎ আদতে ভাবজগতের ছায়া মাত্র। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান এই ধরনের কাল্পনিক ধারণার ঊর্ধ্বে গিয়ে বস্তুজগৎকে প্রমাণ ও যুক্তির আলোয় বিচার করতে শেখায়। একটি প্রগতিশীল সমাজ গঠনে এই যৌক্তিক চিন্তাধারার কোনও বিকল্প নেই বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্রেকথ্রু সায়েন্স সোসাইটির বিশিষ্ট সদস্য পিন্টু দেবনাথ সহ অন্যান্যরা। মূল আলোচনার পাশাপাশি একটি মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বেরও আয়োজন করা হয়, যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ছাত্রছাত্রীদের জন্য আয়োজিত ‘দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান’ শীর্ষক কুইজ প্রতিযোগিতা। এর মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগ নিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সভার আহ্বায়ক তথা সংগঠনের শিলচর চ্যাপ্টারের কনভেনর অনন্যা দত্ত এই আয়োজন সফল করার জন্য উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান। এদিনের অনুষ্ঠানে সমাজসেবামূলক ও বিজ্ঞানমনস্ক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘হিউম্যান সায়েন্স ফোরাম শিলচর’, ‘মার্চ ফর সায়েন্স’ (শিলচর চ্যাপ্টার) এবং ‘স্মাইল’ এনজিও-কে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বরাক উপত্যকার প্রতিটি প্রান্তে বিজ্ঞান সচেতনতামূলক এই কর্মসূচি আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।
Promotional | North East Integration Rally




