মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের প্রতিশ্রুতিতে শিলচরে আন্দোলন প্রত্যাহার
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর । প্রাথমিক শিক্ষায় মাতৃভাষাকে মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, ভাষা শিক্ষকের পদ সৃষ্টি এবং কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠল শিলচর। বৃহস্পতিবার নিখিল বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি মহাসভা, গণ সংগ্রাম পরিষদ এবং ছাত্র সংস্থার যৌথ উদ্যোগে শিলচর ডাকবাংলো মোড়ে ক্ষুদিরাম মূর্তির পাদদেশে এক আমরণ অনশন ও সত্যাগ্রহ কর্মসূচি পালিত হয়। তবে মন্ত্রী কৌশিক রায়ের আশ্বাস এবং বিধায়ক নীহার রঞ্জন দাসের সক্রিয় মধ্যস্থতায় এদিন সন্ধ্যায় অনশন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এদিন সকাল থেকেই অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারীর উপস্থিতিতে সাতজন প্রতিনিধি আমরণ অনশন শুরু করেন। জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী এবং ভাষা শহিদ সুদেষ্ণা সিনহার প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের মাধ্যমে আন্দোলনের সূচনা হয়। আন্দোলনকারীদের মূল অভিযোগ, সরকার দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিগুলো উপেক্ষা করছে।
আন্দোলন চলাকালীন মহাসভার কার্যনির্বাহী সাধারণ সম্পাদক তথা ছাত্র সংস্থার মুখ্য উপদেষ্টা গোপীদাস সিংহ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “সংবিধানের ৩৫০(এ) ধারা উপেক্ষা করে রাজ্য সরকার বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি ভাষাকে প্রাথমিক স্তরে কেবল একটি ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে চালু করে দায় সারছে।
নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি অনুসারে মাতৃভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের যে সুযোগ রয়েছে, তা থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া ভাষা শিক্ষকের পদ সৃষ্টিতেও সরকারের উদাসীনতা স্পষ্ট।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বড়সড় ঘোষণা করার কথা থাকলেও বর্তমানে সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হিমাগারে চলে গেছে।
আন্দোলনের তীব্রতা আঁচ করে বিকেলে মন্ত্রী কৌশিক রায়ের পক্ষ থেকে ধলাইর বিধায়ক নীহার রঞ্জন দাস আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হন। তিনি অনশনকারীদের জল পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান। বিধায়ক প্রতিশ্রুতি দেন যে, চলতি মাসেই মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বরাক উপত্যকা সফরে আসছেন। সেই সফরেই বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর একটি বিশেষ বৈঠকের ব্যবস্থা করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার এই আশ্বাসে শেষ পর্যন্ত বরফ গলে। মহাসভার সভাপতি রাজকুমার অনিল কৃষ্ণ জানান, মন্ত্রীর বার্তার ওপর ভরসা রেখে তাঁরা আপাতত অনশন প্রত্যাহার করছেন। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হয়, তবে আগামীতে সমগ্র বরাক উপত্যকা জুড়ে আরও তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এদিনের কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র সংস্থার সভাপতি গৌরব রাজকুমার, কার্যনির্বাহী সভাপতি বীর কুমার সিনহা, গণ সংগ্রাম পরিষদের সম্পাদক বিজু সিনহা এবং মহাসভার সহ-সভাপতি বিজয় কুমার সিনহা প্রমুখ।



