দাবি আদায়ে আগামীতে প্রয়োজনে ‘ভোট বয়কট’-এর পরামর্শ
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর। বরাক উপত্যকার ভাষিক সংখ্যালঘুদের ন্যায্য সাংবিধানিক অধিকারের লড়াইয়ে শামিল অনশনরত বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সম্প্রদায়ের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানাল বরাক উপত্যকা মাতৃভাষা সুরক্ষা সমিতি। রবিবার অনশন মঞ্চে উপস্থিত হয়ে এই আন্দোলনের প্রতি নৈতিক সমর্থন জানান সংগঠনের এক প্রতিনিধি দল। জেলা সভাপতি সুনীল রায়, সহসভাপতি আব্দুর রহমান লস্কর ও সাধারণ সম্পাদক সানি ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি আন্দোলনকারীদের দীর্ঘদিনের অভাব-অভিযোগ ও বঞ্চনার কথা শোনেন।
অনশন মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রবীণ জননেতা সুনীল রায় ১৯৬১ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “১৯৬১-র সেই লড়াই কেবল বাংলাকে রাজ্যের দ্বিতীয় সরকারি ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রাম ছিল না; বরং রাজ্যের প্রতিটি ভাষিক সংখ্যালঘুর স্বকীয়তা ও স্বীকৃতির দাবিও ছিল সেই আন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।” তাঁর আক্ষেপ, তৎকালীন সরকার যদি সেই সময় আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করত, তবে আজকের অসমে জাতিগত ও ভাষিক সংকটের এই নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘ সংগ্রামের ফলে বর্তমানে প্রায় দশটি ভাষিক সংখ্যালঘু গোষ্ঠী প্রাথমিক শিক্ষায় নিজেদের ভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, বাংলার পূর্ণ সাংবিধানিক মর্যাদা বা রাজ্যভাষার স্বীকৃতি আজও অধরা। যদিও মাতৃভাষা সুরক্ষা সমিতির নিরলস প্রচেষ্টায় ১৯৬১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বরাকের ভাষা শহিদদের নাম ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ অসম বিধানসভার নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা এই অঞ্চলের মানুষের এক বড় জয়।
এদিন বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি ও মৈতেই মণিপুরি সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, অতীতে এই দুই সম্প্রদায় থেকে বিধানসভায় প্রতিনিধি নির্বাচিত হলেও বর্তমানে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের কোনো আওয়াজ বিধানসভায় নেই। ফলত, নিজেদের অধিকার ও স্বকীয়তা রক্ষায় একটি ‘অটোনোমাস কাউন্সিল’ বা স্বায়ত্তশাসিত পরিষদের প্রয়োজনীয়তা এখন তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।
নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা এবং ১৯৬৭ সালের ঐতিহাসিক অনশন আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে সুনীল রায় বলেন, সরকার যেন অবিলম্বে আলোচনার মাধ্যমে এই অচলাবস্থা নিরসন করে। একইসঙ্গে তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, দাবি আদায়ে অনশনের মতো ‘আত্মঘাতী’ পথ এড়িয়ে আগামীতে প্রয়োজনে ‘ভোট বয়কট’-এর মতো বিকল্প অহিংস অথচ কঠোর আন্দোলনের পথে হাঁটার কথা ভাবা উচিত।



