সরকারের বৈষম্য্মূলক নীতি তথা স্বৈরাচারী মনোভাবের তীব্র নিন্দা
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর। বর্তমান সরকারের বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে বিভিন্ন সামাজিক ও ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনের উদ্যোগে দুই শতাধিক লোকের উপস্থিতিতে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় শনিবার। এই বিক্ষোভ সমাবেশে সরকারের বৈষম্য্মূলক নীতি তথা স্বৈরাচারী মনোভাবের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ও দাবিসমূহ শ্লোগানের মাধ্যমে তুলে ধরে এলাকার আকাশ বাতাস মুখরিত করে তোলেন প্রতিবাদকারীরা।
রাঙ্গিরখাড়ি ভাষা শহিদ স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে এদিনের এই সমাবেশে শহরের বিশিষ্ট নাগরিকরা ছাড়াও সামাজিক সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নগুলোর মধ্যে সক্রিয়ভাবে ছিল — ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনি, বরাক ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিস্ , ইয়াসি, নাগরিক স্বার্থরক্ষা সংগ্রাম পরিষদ, এআইটিইউসি, এআইইউটিইউসি, এআইসিসিটিইউ, টিইউসিসি, অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন।
শুরুতে বিক্ষোভ সমাবেশের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনির অরিন্দম দেব বলেন, একটি মাত্র শব্দ দিয়ে যদি সমাজের শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের বর্তমান অবস্থান বলতে হয়, তবে বলা যায় – ‘আমরা ভালো নেই’। অসমের জমি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে কর্পোরেটদের স্বার্থে, শিক্ষিত বেকারদের চাকরী নেই, চা-বাগান শ্রমিকদের বিভিন্ন ভাবে প্রলোভিত করা হচ্ছে। অথচ তাদের ন্যূনতম মজুরির আওতায় আনা হচ্ছে না, ১০৮ মৃত্যুদঞ্জয় শ্রমিকদের নায্য দাবী মানা হচ্ছে না, উপরন্তু নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়ে জীবনকে করে তোলা হচ্ছে দুর্বিষহ।

এআইইউটিইউসি’র পক্ষে বক্তব্যব রাখতে গিয়ে অধ্যাকপক অজয় রায় বলেন, শ্রমজীবী জনগণের ন্যায্য অধিকার ও তাদের সংগ্রাম থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিতে জনগোষ্ঠীয় ঘৃণা ও হত্যার রাজনীতিকে উস্কে দিচ্ছে দেশি-বিদেশি ক্ষমতাসীন প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি। সেই আক্রমণের শিকার হচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষ।
বরাক ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজের কল্পার্ণব গুপ্ত বলেন, কার্বি আংলঙের কার্বি ও অ-কার্বি সংঘাত, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের আর্থিকভাবে দুর্বল অংশের উপর আক্রমণ ও হত্যার ঘটনা, ভারতেও সংখ্যালঘু শ্রমজীবীদের উপর আক্রমণের ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা। তিনি সাম্প্রতিককালে শিলচরে আক্রান্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভিনরাজ্যের ফেরিওয়ালার প্রসঙ্গটিও তুলে ধরেন।
ইয়াসির সঞ্জীব রায় বলেন, ভারতে যা কর্পোরেট – হিন্দুত্ব, বাংলাদেশে তাই বিদেশি শক্তির মদতপুষ্ট অতি-ধনীর মৌলবাদ। রাষ্ট্র তাদের মদত দিচ্ছে। জনগণের সাংবিধানিক, আইনি নাগরিক অধিকার এবং সামাজিক ন্যায় ছিনিয়ে নিতে অপশক্তিদের অন্যায় আচরণকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।
এআইটিইউসির রফিক আহমেদের কথায়, বিভাজন, হুমকি ও হত্যার রাজনীতি আইনের শাসনের জায়গা নিয়ে নিচ্ছে। এআইসিসিটিইউ’র হায়দর হোসেন চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন বিগত বেশকিছু বছর ধরে বিশেষত কোভিডের সময় থেকে অসংগঠিত শ্রমিক ও কৃষকের উপর যেভাবে বঞ্চনা, শোষণ ও উচ্ছেদ নেমে এসেছে, তাকেই বৈধতা দিতে নির্বাচনের আগে ন্যস্তস্বার্থের মদতে বৃদ্ধি পায় ধর্মীয় ও জনগোষ্ঠীয় বিভাজনের উন্মাদনা ও চক্রান্তমূলক হত্যা।

ডলু চা-বাগানের শ্রমিক নেত্রী কুঞ্জলতা ঘাটোয়ারের কথায়, ডলুতে উচ্ছেদের ফলে বাগান শ্রমিকদের চার পাঁচ কিলোমিটার দূরে হেঁটে যেতে হয় কাজের জন্যঁ। তারা খুবই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনযাপন করছেন। এখনো ন্যূননতম মজুরির আওতাধীন করা হয়নি চা-শ্রমিকদের।
নাগরিক স্বার্থ রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সত্যজিৎ গুপ্ত বলেন, বর্তমান সরকার গণতন্ত্রের উপর বুলডোজার চালাচ্ছে। কোনও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এই সরকারের নেই। সাধারণ মানুষকে হুকুমের দাস বানানোই এই সরকারের একমাত্র ইচ্ছা। সংবিধানে পরিবর্তন না এনেই তারা নানা আইনকানুন বদলানোর চেষ্টা করছে।
নাগরিক অধিকার সুরক্ষা মঞ্চের অতনু ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমান সরকারের আমলেই হিন্দুরা সবচেয়ে বেশি বিপদের মধ্যে রয়েছেন। জাত- ধর্ম নির্বিশেষে মানুষে মানুষে একতা ও সম্প্রীতি গড়ে তোলাই সময়ের দাবি।
অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়নের মৃণাল কান্তি সোম বলেন, ৪৩ দিনের মাথায় ‘১০৮ মৃত্যুঞ্জয়’ পরিষেবার ধর্মঘটী শ্রমিকদের দিকে মুখ ফিরিয়ে তাকাল সরকার। অমানবিক সরকারের শ্রম-দফতরকে তারা বাধ্য করেছেন আলোচনায় বসতে।
নারী মুক্তি সংস্থার স্নিগ্ধা নাথ বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশে নারী নির্যাতনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কাছাড় জেলাতেও প্রতিদিন বাড়ছে অপরাধের সংখ্যা, মানুষ কাজ পাচ্ছেনা, প্রত্যেকটি শিশু জন্মগ্রহণ করছে মাথায় ঋণের বোঝা নিয়ে।
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মানস দাস, মাখন পাল, গৌরাঙ্গ নাথ, বিশ্বজিৎ দাশ, কমল চক্রবর্তী, সুজিত দাস, বিশ্বজিৎ শীল, ধরিত্রী শর্মা, সুকল্পা দত্ত, আদিমা মজুমদার, মধুমিতা দে, অরূপ বৈশ্য, সজল কান্তি দাশ , হারাধন দত্ত, বাহার মজুমদার, তমোজিৎ সাহা, হৃষিকেশ দে, নকুল রঞ্জন পাল, নুরুল হক চৌধুরী, পরিতোষ ভট্টাচার্য, রাজদীপ বণিক এবং ডলু চা-বাগান শ্রমিকদের এক প্রতিনিধি দল।
Promotional | North East Integration Rally



