ভারতে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে গণ সহিংসতায় বাংলাদেশের উদ্বেগ

2 - মিনিট |

সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বর্ণনা প্রত্যাখ্যান ঢাকার

সমীরণ রায়

ঢাকা : ভারতে মুসলিম, খ্রিষ্টানসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ‘গণ সহিংসতায়’ উদ্বেগ প্রকাশ করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। রোববার সাংবাদিকদের প্রশ্নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসএম মাহবুবুল আলম সরকারের এমন উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দুদিন আগে গত শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের দেওয়া বক্তব্যও প্রত্যাখান করেছে বাংলাদেশ।

এছাড়া বাংলাদেশের রাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অবস্থা নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তার মন্তব্যে সত্য প্রতিফলিত হয় না। বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে, এমন কোনও ভুল, অতিরঞ্জিত বা উদ্দেশ প্রণোদিত আখ্যানকে বাংলাদেশ সরকার স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি যে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকে হিন্দুদের ওপর পদ্ধতিগত নির্যাতন হিসাবে চিত্রিত করার এবং ভারতের বিভিন্ন অংশে বাংলাদেশবিরোধী মনোভাব প্রচারের জন্য বিদ্বেষপূর্ণভাবে ব্যবহার করার পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা চলছে।

আমরা কিছু মহলে একটি সুস্পষ্ট এবং অন্যায্য পক্ষপাতিত্ব লক্ষ্য করি, যেখানে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো প্রচার করা হয়, ভুলভাবে উপস্থাপনা করা হয় এবং বাংলাদেশ, তার কূটনৈতিক মিশন এবং ভারতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাধারণ ভারতীয়দের উসকানি দেওয়ার জন্য প্রচার করা হয়।

অপরদিকে, ভারতে হওয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতে মুসলিম, খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড, গণপিটুনি, নির্বিচারে আটক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

এ মাসে আপনি যেমন বলেছেন, ভারতের উড়িশায় একজন মুসলিম যুবক জুয়েল রানাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটে, বিহারে মোহাম্মদ আজহার হোসেনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড, কেরালায় বাংলাদেশি সন্দেহে এক নিরীহ ব্যক্তির হত্যাকাণ্ড এবং বিভিন্ন স্থানে মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের উপর গণপিটুনি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

ভারতে বড়দিন উদযাপনের বিভিন্ন আয়োজনে উগ্রপন্থি হিন্দুদের সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গত সপ্তাহে খ্রিষ্ট্রানদের বড়দিন উদযাপন উপলক্ষে ভারতজুড়ে তাদের প্রতি সংঘটিত গণসহিংসতার বিষয়েও বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

এসব ঘটনাকে আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করি, এবং আমরা ঘৃণাজনিত অপরাধ এবং লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা হিসেবে দেখি। আমরা প্রত্যাশা করি, ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করবে এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনবে।

আমরা আশা করি যে, প্রত্যেক দেশেরই দায়িত্ব তার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সুরক্ষা ও মর্যাদা দেয়া এবং প্রত্যেক দেশেরই তা পালন করা উচিত। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘গভীর উদ্বেগ’ জানানোর দুদিন পর এ বক্তব্য এল বাংলাদেশেরর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news