ভারত-বাংলা সীমান্তবর্তী শ্রীভুমির সুতারকান্দিতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে স্বাধীনতা দিবস পালন করল সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী

3 - মিনিট |

পতাকা উত্তোলন করেন বিএসএফ ১৬ ব্যাটালিয়নের কমাণ্ডেন্ট অফিসার মোহিত কুমার সাক্সেনা

অজিত দাস

সুতারকান্দি : বরাক উপত্যকার ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সিমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি নাচ-গান সহ জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দেশের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করল সিমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)

রাষ্ট্র সেবায় নিয়োজিত সিমান্ত সুরক্ষা বাহিনী অর্থাৎ (বিএসএফ)জওয়ানরা বরাক উপত্যকার ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সিমান্ত লাগোয়া শ্রীভূমির সুতারকান্দি এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি নাচ-গান সহ শুক্রবার জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দেশের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছেন।

এদিন সুতারকান্দি বর্ডার আউট পোষ্টে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিএসএফ ১৬ ব্যাটালিয়নের কমাণ্ডেন্ট অফিসার মোহিত কুমার সাক্সেনা।পরে রাষ্ট্র সঙ্গীত পরিবেশন করার পাশাপাশি প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ করেন তিনি।এরপর স্থানীয় কচিকাঁচাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত হলো মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সবশেষে অস্ত্র প্রদর্শন ও করা হয়। প্রদর্শনী দেখতে এদিন বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রী সহ শিক্ষক শিক্ষিকারা ও উপস্থিত হয়েছেন।বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিও মোহিত দেশ ও জাতি সহ রাষ্ট্রের উন্নয়নে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার পাশাপাশি বরাকের একতা ও অখণ্ডতাকে বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

দেশের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে গোটা দেশ যখন উৎসব মুখর পরিবেশে মেতে উঠেছে,ঠিক তখন সিমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর জওয়ানরা আন্তর্জাতিক সিমান্তে মোতায়েন থেকে রাষ্ট্র সেবায় তাঁদের কর্তব্য ও দায়বদ্ধতাকে পালন করে উপত্যকার মানুষকে দিনরাত সুরক্ষা প্রদান করে যাচ্ছেন। বিএসএফ জওয়ানদের শৌর্য,সমর্পণ ও কর্তব্যনিষ্ঠা সর্বদা রাষ্ট্র সেবাকেই মান্যতা দিয়েছে।পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মহিলারাও সিমান্তে মোতায়েন থেকে অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ নজর রেখেছেন।

তাঁরা যে শুধু সিমান্তের রক্ষা করছেন তা নয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ অন্যান্য জরুরীকালীন পরিস্থিতিতেও তাঁরা উপত্যকার সাধারণ মানুষকে সহায়তা করে যাচ্ছেন। বিএসএফ বাহিনী দেশের সেবায় নিয়োজিত থেকে আন্তর্জাতিক সিমান্তে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ৭৯তম স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে বিএসএফের পুরুষ ও মহিলা প্রহরীরা সিমান্তের ভৌগলিক পরিস্থিতি সহ বিভিন্ন বাঁধা বিঘ্নকে পেছনে ফেলে বরাক উপত্যকার ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সিমান্তের রক্ষা করে আসছেন।

সিমান্তে মোতায়েন বিএসএফের জওয়ানরা নিত্য নতুন পরিকল্পনা ও বিভিন্ন সমস্যাকে চ্যালেঞ্জ করতে তৈরী রয়েছেন।আন্তর্জাতিক অপরাধ,যেমন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও বিভিন্ন সামগ্রীর অবৈধ চোরা চালান রোধ করার পাশাপাশি অন্যান্য অসামাজিক কার্যকলাপকে আটকাতে বিএসএফের জওয়ানরা সিমান্তে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে শ্রীভূমির সুতারকান্দি সিমান্তে বিএসএফ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে জওয়ানদের সংখ্যাও বাড়িয়েছে।সকাল থেকে সন্ধ্যা দফায় দফায় গোয়েন্দা কুকুর সঙ্গে নিয়ে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে টহল দিচ্ছেন তাঁরা।

এদিকে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মহিলা প্রহরীরাও সুতারকান্দি বোর্ডার আউট পোষ্টে “এক মিনিটের ড্রিল”প্রদর্শন করে অত্যাধুনিক অস্ত্র-শস্ত্রের সংরক্ষণ সহ নিমিষেই রাইফেলের ম্যাগাজিন খুলে মুহূর্তের মধ্যে তাতে তাজা কার্তুস লোড করে সিমান্তের চারিদিকে পায়ে হেঁটে পেট্রোলিং করছেন।সিমান্তের সুরক্ষা করার সময় যদি কেউ তাঁদের চোখে গ্যাস বম ছুড়ে মারে তাহলে না দেখে তাঁরা নিজেকে কিভাবে রক্ষা করবে এবং তাঁদের হাতে থাকা অস্ত্রগুলো তৎকালীন কিভাবে তৈরী করবে সেবিষয়ে ও তৈরী রয়েছেন প্রত্যেক মহিলা প্রহরীরা।

এদিকে আন্তর্জাতিক সিমান্তে মোতায়েন বিএসএফের পুরুষ জওয়ানরা কোন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আভাস পেলেই তৎকালীন সায়রন বাজিয়ে “কুইক রিয়েকশন দলের”সাথে সিমান্তের গন্তব্য স্থলে ছুটে যাচ্ছেন।শুধু তাই নয় গভীর রাতেও আন্তর্জাতিক সিমান্তের সুরক্ষা নিয়ে তৎপর রয়েছেন বিএসএফের পুরুষ ও মহিলা প্রহরীরা।পুরুষরা তাঁদের হেলমেটে অত্যাধুনিক সুবিধা সম্পন্ন নাইট ভিশন ক্যামেরা লাগিয়ে সিমান্তের দূর-দূরান্তে তীক্ষ্ণ নজর রেখেছেন।

অন্যদিকে সিমান্তের চারিদিকে থাকা বিভিন্ন বিওপি গুলোতে আধুনিক মানের থার্মাল ক্যামেরা বসিয়ে প্রতিবেশী রাজ্য বাংলাদেশের উপর বিশেষ নজরদারি রেখেছেন।ওপার থেকে আসা বিভিন্ন জীবজন্তু সহ মানুষের ইমেজকে দূর থেকে ক্যাপচার করতে এই থার্মাল ক্যামেরা যথেষ্ট সহায়ক হিসেবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন জওয়ানরা।

এদিকে অসামাজিক কার্যকলাপ রোধে বিএসএফ জল পথেও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।লাইফ বোট সহ নিরাপত্তা জনিত অন্যান্য উপকরণ সঙ্গে নিয়ে বিএসএফের পুরুষ ও মহিলা জওয়ানরা নদীতে পেট্রোলিং করছেন।সিমান্তের জল পথ ও সড়ক পথ থেকে ধরে গোটা এলাকায় বিএসএফের জওয়ানরা পরাক্রম ও সাহসিকতার সঙ্গে উপত্যকার সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন।

দেশের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবসকে সুন্দর ও সফল ভাবে সম্পন্ন করার পাশাপাশি জনগণের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সিমান্তে প্রস্তুত রয়েছে সিমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফের) জওয়ানরা।বরাকবাসী জনগণকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে জনসাধারণ ও সিমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক শক্তিশালী ও মজবুত করতে প্রত্যেকের প্রতি এদিন আহ্বান ও জানিয়েছেন তাঁরা।সবমিলিয়ে বিএসএফের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দেশের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উৎসব মুখর পরিবেশে উদযাপন করেছেন উপত্যকার প্রত্যেক জনগণ।

5E for Success | Apply for Internship
Know MoreApply Here

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *